logo
Advertisement

অসুস্থ ব্যক্তির জন্য যে দোয়া পড়তে বলেছেন মহানবী (সা.)

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
অসুস্থ ব্যক্তির জন্য যে দোয়া পড়তে বলেছেন মহানবী (সা.)
অসুস্থ ব্যক্তির জন্য দোয়া করার বিষয়ে মহানবী (সা.) কয়েকটি দোয়া শিখিয়েছেন। ছবি: গণমাধ্যম থেকে নেওয়া

অসুস্থতা আল্লাহর নেয়ামত। বিভিন্ন হাদিসে রোগ-শোক ও বিপদ-আপদেরও তাৎপর্য ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। অসুস্থতা দেহের জাকাতস্বরূপ। এর দ্বারা শরীর গুনাহমুক্ত হয়, পবিত্র হয়। আল্লাহর কাছে বান্দার মর্যাদা উঁচু হয়। ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য উপদেশ গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়।

Advertisement

মুমিনজীবনের প্রতিটি অবস্থাই ভালো। আনন্দ বা খুশির সময় শুকরিয়া আদায় করলে আল্লাহ পুরস্কৃত করেন। সওয়াব দেন। অসুস্থতায় ধৈর্য ধরলে সওয়াব পান ব্যক্তি। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনের বিষয় আশ্চর্যজনক। অবশ্যই তার সব বিষয় তার জন্য কল্যাণময়। আর এটি মুমিন ছাড়া অন্য কারও জন্য হতে পারে না। যদি তার কোনো আনন্দ আসে, তবে সে শুকরিয়া আদায় করে, যা তার জন্য কল্যাণময়। আর যদি তার ওপরে কোনো দুঃখজনক কিছু আপতিত হয়, তাহলে সে ধৈর্য ধরে, সেটাও তার জন্য কল্যাণকর হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৯৯)

আত্মীয়স্বজন বা পরিচিত কেউ অসুস্থ হলে আমরা দেখতে যাই। তার বেদনায় মন খারাপ হয় আমাদের। আমরা শোকার্ত হই। হজরত মুহাম্মদ (সা.)ও অসুস্থ আত্মীয়, সাহাবিদের দেখতে যেতেন। স্ত্রীরা অসুস্থ হলে তাদের শিয়রে বসে থাকতেন। তিনি সবার সুস্থতার জন্য দোয়া করতেন। আমাদেরও উচিত, অসুস্থ ব্যক্তির জন্য দোয়া করা।

অসুস্থকে দেখতে যেতে বলেছেন নবী (সা.)

অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার জন্য মহানবী (সা.) সাহাবিদের আদেশ দিয়েছেন। বারা ইবনে আজিব (রা.) বলেন, ‘নবী (সা.) আমাদেরকে সাতটি বিষয় করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যথা—১. রোগীর শুশ্রষা করা, ২. জানাজার সঙ্গে চলা, ৩. হাঁচির উত্তর দেওয়া, ৪. সালামের জবাব দেওয়া, ৫. অত্যাচারিতের সাহায্য করা, ৬. দাওয়াতে সাড়া দেওয়া এবং ৭. কসমকারীর কসম পূরণ করা অর্থাৎ আল্লাহর কসম বা দোহাই দিয়ে কেউ কিছু বললে বা দাবি করলে তা পূরণে সহায়তা করা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪৪৫)

অসুস্থকে দেখতে গেলে মেলে সওয়াব

অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলে আল্লাহ খুশি হন। তার প্রতি রহমত নাজিল করেন। ফেরেশতারা তার জন্য প্রার্থনা করেন। হাদিসে আছে, হজরত আলী (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে সকালবেলা কোনো অসুস্থ মুসলমানকে দেখতে যায়, ৭০ হাজার ফেরেশতা বিকেল পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকে। আর বিকেলে রোগী দেখতে গেলে পর দিন সকাল পর্যন্ত ৭০ হাজার ফেরেশতা দোয়া করেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৯৬৭)

অসুস্থ ব্যক্তির জন্য দোয়া

অসুস্থ ব্যক্তির জন্য দোয়া করার বিষয়ে মহানবী (সা.) কয়েকটি দোয়া শিখিয়েছেন। এখানে কয়েকটি দোয়া উল্লেখ করা হলো—

لَا بَأْسَ طَهُوْ رٌ إِنْ شَاءَ اللّٰهُ

উচ্চারণ: লা বাসা তাহুরুন ইনশাআল্লাহ।

অর্থ: বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। (আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন) ইনশাআল্লাহ এই রোগ (বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অপবিত্রতা থেকে) পবিত্রতা সাধনকারী।

أَسْأَلُ اللّٰهَ الْعَظِيْمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ أَنْ يَشْفِيَكَ

উচ্চারণ: আস আলুল্লাহাল আজিম, রব্বাল আরশিল আজিম আই ইয়াশ ফিয়াক।

অর্থ: আমি আরশে আজিমের মালিক, মহান আল্লাহর কাছে আপনার সুস্থতার জন্য দোয়া করছি।

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমাদের কারও অসুখ হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তার ডান হাত রোগীর গায়ে বুলিয়ে দিয়ে বলতেন—

أذهِبِ الباسَ رَبَّ النَّاسِ، اشفِ وأنتَ الشَّافي، لا شِفاءَ إلَّا شِفاؤُكَ، شِفاءً لا يُغادِرُ سَقَمًا

উচ্চারণ: আজহিবিল বাসা, রাব্বান্নাস নাস, আশফি ওয়া আংতা শাফি, লা শিফাআ ইল্লা শিফায়ুকা, শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামাং।

অর্থ: হে মানুষের রব, এ ব্যক্তির রোগ দূর করে দিন। তাকে নিরাময় করে দিন। নিরাময় করার মালিক আপনিই। আপনার নিরাময় ছাড়া আর কোনো নিরাময় নেই। এমন নিরাময় যা কোনো রোগকে বাকি রাখে না।

আয়াতে শেফা বা রোগমুক্তির ছয় আয়াত

পবিত্র কোরআনের ছয়টি আয়াত আয়াতে শেফা বা রোগমুক্তির আয়াত নামে পরিচিত। এগুলো পড়ার আগে সুরা ফাতিহা পড়ে নেয়া উত্তম।

  • وَيَشْفِ صُدُوْرَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِيْنَ

  • وَشِفَآءٌ لِّمَا فِی الصُّدُوۡرِ وَهُدًى وَّرَحۡمَۃٌ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ

  • یَخۡرُجُ مِنۡۢ بُطُوۡنِہَا شَرَابٌ مُّخۡتَلِفٌ اَلۡوَانُہٗ فِیۡہِ شِفَآءٌ لِّلنَّاسِ

  • وَنُنَزِّلُ مِنَ الۡقُرۡاٰنِ مَا هُوَ شِفَآءٌ وَّرَحۡمَۃٌ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ

  • وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِيْنِ

  • قُلْ هُوَ لِلَّذِيْنَ آمَنُوْا هُدًى وَّشِفَاءٌ

উচ্চারণ

  • ওয়া ইয়াশফি সুদুরা কাওমিম মুমিনিন।
  • ওয়া শিফাউল লিমা ফিস সুদুরি ওয়া হুদাও ওয়া রাহমাতুল লিল মুমিনিন।
  • ইয়াখরুজু মিমবুতু নিহা শারাবুম মুখতালিফুন, আলওয়া নুহু ফি হি শিফাউ লিন্নাসি।
  • ওয়া নুনাজ্জিলু মিনাল কোরআনি মা হুয়া শিফাউও ওয়া রাহমাতুল লিল মুমিনিন।
  • ওয়া ইজা মারিজতু ফা হুয়া ইয়াশ ফিনি।
  • কুল হুওয়া লিল্লাজিনা আ মানু হুদাও ওয়া শিফাউন।