যে দোয়া পড়লে দুনিয়া-আখিরাতে সফলতা পাওয়া যায়

মানুষ মাত্রই সফল হতে চায়। সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দ্য জীবনযাপন করতে চায়। মানসিক শান্তি পেতে চায়। সুখী পরিবার কামনা করে। একজন মুমিন-মুসলমানের জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য জান্নাত পাওয়া। এগুলোর জন্য আমরা প্রতিনিয়ত জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করছি। কেউ সফল হতে পারছে, কেউ ব্যর্থতার বোঝা নিয়ে পথ চলছে। সফলতা পাওয়া না-পাওয়ার বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তবে মুসলিম হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে, সফলতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা।
পবিত্র কোরআনে এমন একটি দোয়া আছে, যেটি পড়লে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করা যায়। দোয়াটি সংক্ষিপ্ত, মুখস্থ করাও সহজ। এই দোয়ায় মানুষের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণকর সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত আছে। দোয়াটি হলো—
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ দুনয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানা। ওয়া কিনা আজাবান নার।
অর্থ: হে আমাদের প্রভু, আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন। পরকালেও কল্যাণ দান করুন। আমাদেরকে (জাহান্নামের) আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২০১)
এ দোয়ার মধ্যে একটি শব্দ আছে ‘হাসানাহ’। হাসানাহ শব্দের অর্থ কল্যাণ। এটি সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই পৃথিবীতে হাসানাহর মধ্যে স্বাস্থ্য, সম্পদ, জ্ঞান, একজন প্রেমময় স্ত্রী, ধার্মিক সন্তান এবং মনের শান্তি অন্তর্ভুক্ত। এই দোয়া মানুষের অর্থ, দেহ এবং সম্পর্কের জন্য কল্যাণ প্রার্থনা করে। এই দোয়ায় পরকালেরও কল্যাণ প্রার্থনা করা হয়। পরকালে আছে জান্নাত, বিচারের দিনে সহজ হিসাব ও পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা।
দোয়াটি কতবার পাঠ করা উচিত?
দোয়াটি দিনে কতবার পড়া উচিত, এরকম কোনো দিকনির্দেশনা কোরআন-হাদিসে নেই। দিনে যতবার সম্ভব পড়া যেতে পারে। মহানবী (সা.) দোয়াটি বেশি বেশি পড়তেন। নামাজেও মাঝেমধ্যে পড়তেন তিনি।