logo
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস

কন্যাসন্তানের মা-বাবাকে যে সুসংবাদ দিয়েছেন মহানবী (সা.)

কন্যাসন্তানের মা-বাবাকে যে সুসংবাদ দিয়েছেন মহানবী (সা.)
কন্যাশিশুকে কোলে নিয়ে কাবাঘর তাওয়াফ করছেন বাবা। ছবি: পিন্টারেস্ট

সন্তান আল্লাহর সেরা উপহার। কারও একসঙ্গে দুই সন্তান হচ্ছে। কারও হচ্ছে ছেলে বা কারও মেয়ে। কারও উভয়টিই ছেলে কিংবা বিপরীত। কেউ আবার নিঃসন্তান। মানুষের মধ্যে এই পার্থক্য আল্লাহর নিদর্শন। আল্লাহর নির্ধারিত এই বৈচিত্র্য পরিবর্তনের ক্ষমতা কারও নেই। আল্লাহ বলেন, ‘তিনি যাকে ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন। অথবা তাদের দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন।’ (সুরা শুরা, আয়াত: ৪৯-৫০)

কন্যাসন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত। ইসলাম কন্যা সন্তানকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। জাহেলি যুগে মেয়ে হলে বাবাদের মুখ কালো হয়ে যেত। মেয়েকে জীবিত পুঁতে ফেলত। ইসলাম এমন ঘৃণ্য কাজকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। নারীকে সম্মানের আসনে বসিয়েছে। মেয়েসন্তানের মা-বাবার জন্য অসংখ্য ফজিলতের ঘোষণা করেছে।

এখনও দেখা যায়, মেয়ে হলে অনেকেই মন খারাপ করে। ছেলে না হওয়ায় স্ত্রীকে নানা কথা শোনায়। বিপরীতে ছেলে হলে আনন্দের মিছিল পড়ে যায়। এই বৈষম্য স্পষ্ট গুনাহ। মনে রাখতে হবে, মেয়েসন্তান আল্লাহর অনন্য নেয়ামত। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের কাউকে যখন সংবাদ দেওয়া হয় সেই সন্তানের (মেয়ে), যা তারা দয়াময় আল্লাহর প্রতি আরোপ করে, তখন তার মুখমণ্ডলে কালিমা ছেয়ে যায়, আর মন দুঃখ-বেদনায় ভরে যায়।’ (সুরা জুখরুফ, আয়াত: ১৭)

হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছেলে বা মেয়েসন্তান সবাইকে ভালোবেসেছেন। আদর করেছেন, কোলে তুলে নিয়েছেন। তবে মেয়েশিশুদের লালন-পালন, তাদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ ইত্যাদি বিষয়ে তিনি যে ফজিলত বর্ণনা করেছেন, তা কিছুটা ভিন্ন। মেয়েদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ, লালন-পালন ও ভরণপোষণের জন্য তিনি কোথাও বেহেশতের ওয়াদা করেছেন, কোথাও জাহান্নাম থেকে মুক্তির কথা বলেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার তিনজন কন্যাসন্তান হবে আর সে তাদের আবাসের ব্যবস্থা করবে, মমতা প্রদর্শন করবে এবং তাদের ভার বহন করবে, তার জান্নাত নিশ্চিত। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, যদি দুজন হয়? বললেন, দুজন হলেও। বর্ণনাকারী বলেন, সাহাবিরা কারও কারও ধারণা হলো, যদি কেউ বলত একজন হলে? তাহলে নবীজি বলতেন, একজন হলেও।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ১৪২৪৭)

প্রতিটি মুমিন-মুসলমানের আজীবন লালিত স্বপ্ন হচ্ছে জান্নাতে যাওয়া। জান্নাতে যাওয়ার মধ্য দিয়ে একজন মুমিনের জীবন পূর্ণতা লাভ করে। আর কন্যাসন্তানের সঙ্গে সুন্দর আচরণ এবং লালন-পালনে যাওয়া যায় জান্নাতে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কারও যদি তিন মেয়ে কিংবা তিন বোন থাকে আর সে তাদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করে, তাহলে সে জান্নাতে যাবে।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৯১২)

কন্যাসন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত। ছবি: পিন্টারেস্ট
কন্যাসন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত। ছবি: পিন্টারেস্ট

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘যার তিনটি মেয়ে কিংবা তিনজন বোন অথবা দুটি মেয়ে বা দুজন বোন রয়েছে, আর তাদের সঙ্গে সে ভালো ব্যবহার করেছে এবং তাদের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করেছে তাহলে তার জন্য রয়েছে জান্নাত।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৯১৬)

কেয়ামতের দিন হবে এক ভয়াবহ ও বিভীষিকাময় দিন। এই ভয়াবহতা যে কত ব্যাপক হবে, তা কল্পনা করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আল্লাহ বলেন, ‘সেদিন মানুষ বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতো হবে।’ (সুরা কারিয়াহ, আয়াত: ৪)। পায়ের নিচে তখন কোনো মাটি থাকবে না, সবকিছু জ্বলন্ত ধূলিকণা হয়ে বাতাসে উড়তে থাকবে। সবার অবস্থা হয়ে উঠবে অত্যন্ত ভীতিকর ও যন্ত্রণাদায়ক। সেই বিভীষিকাময় অবস্থায় কন্যাশিশুর লালন-পালনকারী থাকবে মহানবী (সা.)-এর একবারেই কাছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে দুটি মেয়েকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করবে, কেয়ামতের দিন আমি এবং সে এ দুটি আঙুলের মতো পাশাপাশি আসব (এরপর তিনি তার আঙুলগুলো মিলিত করে দেখালেন)।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৩১)