logo
Advertisement

বিপদ থেকে মুক্তির দোয়া

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
বিপদ থেকে মুক্তির দোয়া
দোয়া করছেন এক নারী। ছবি: গণমাধ্যম থেকে নেওয়া

পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জীবনে অল্প-বেশি কষ্ট আছে। জীবনে বিপদ আসে। বিপদ এলে ধৈর্য ধরতে হবে। আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। কখনো ভেঙে পড়া যাবে না। কঠিন বিপদের সময় আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়াই মুমিনের নৈতিক দায়িত্ব। তাই বিপদ এলে দোয়া করতে হবে।

Advertisement

রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই কোনো কঠিন সমস্যায় পড়তেন, তখনই আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন। বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পবিত্র কোরআন ও হাদিসে অনেক দোয়া বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকেই স্মরণ করো। আমিও তোমাদের স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হোয়ো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫২)

বিপদ থেকে মুক্তির জন্য নানাবিধ দোয়া পড়া যায়। ছোট-বড় অনেক দোয়া আছে। এখানে কয়েকটি দোয়া উল্লেখ করা হলো—

ইসতেগফার পড়া: কোনো বিপদ এলে বা কোথাও ফেঁসে গেলে বেশি বেশি ইসতেগফার পড়তে হবে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, ‘যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব। যে আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাকে তা দেব।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ইসতেগফার পড়তেই থাকবে, আল্লাহ তার জন্য সব দুশ্চিন্তা থেকে বের হওয়ার পথ অলৌকিকভাবে আবিষ্কার করে দেবেন।’

ইসতেগফার হিসেবে এগুলো পড়া যেতে পারে। যেমন—ক. আসতাগ ফিরুল্লাহ (আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি)। খ. আসতাগ ফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাহি (আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে ফিরে আসছি)। গ. রাব্বিগ ফিরলি ওয়া তুব আলাইয়া, ইন্নাকা আংতাত তাউয়াবুর রাহিম। (হে আমার প্রভু, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তওবা কবুলকারী করুণাময়।’ এছাড়া অন্যান্য ইসতেগফার পড়া যেতে পারে।

দোয়া ইউনুস পাঠ করা: যে কোনো সংকট ও অস্থিতিশীল সময়ে দোয়া ইউনুস পড়া সুন্নত। এতে দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ দূর হয়। বিপদ-আপদ দূর হয়। হজরত ইউনুস (আ.) বিপদে পড়ে বারবার এ দোয়া পড়েছিলেন। তখন আল্লাহ তার দোয়া কবুল করে তাকে সংকট থেকে মুক্তি দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে এই দোয়া পড়ে, আল্লাহ তার দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৫)

দোয়া ইউনুস হলো—লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জালিমিন।

‘ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম’ পড়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম’ দোয়াটি তোমরা আঁকড়ে ধরবে।’ এই দোয়া পড়ার মাধ্যমে নিজেকে আল্লাহর কাছে নিবেদন করা হয়। নিজেকে আল্লাহর কাছে সমার্পণ করা হয়। এছাড়াও তাহাজ্জুদ ও বিভিন্ন নফল নামাজ পড়া যেতে পারে।

ক্ষতি থেকে বাঁচার দোয়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক দিন সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার করে এই দোয়াটি পাঠ করলে কোনো কিছুই কারও ক্ষতি করতে পারবে না। দোয়াটি হলো—

উচ্চারণ: বিসমিল্লা হিল্লাজি লা ইয়াদুররু মায়াসমিহি শাইয়ুন ফিল আরজি, ওয়া লা ফিস সামায়ি ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম।

অর্থ: আল্লাহর নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না। তিন সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। (সুনানে তিরমিজি)