logo

নববর্ষে মুমিনের ভাবনা যেমন হওয়া উচিত

নববর্ষে মুমিনের ভাবনা যেমন হওয়া উচিত

পহেলা বৈশাখ বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম দিন। পুরোনো বছরের সব ক্লান্তি, ব্যর্থতা আর বেদনার পাতা উল্টে আমরা প্রবেশ করেছি একটি নতুন বছরে। একজন মুমিনের কাছে নতুন বছর হলো আত্মশুদ্ধি, আত্মসমালোচনা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ।

ইসলাম আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে অর্থবহ করে তুলতে শেখায়। নতুন বছরের শুরুতে একজন সচেতন মুমিনের উচিত এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় নির্ধারণ করা, যা তাকে আল্লাহ তাআলার দিকে আরও অগ্রসর হতে সাহায্য করবে। এখানে কয়েকটি করণীয় উল্লেখ করা হলো—

বিশুদ্ধ নিয়ত
জীবনের প্রতিটি কাজ ও নেক আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। হজরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিটি কাজের ফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে, যা সে নিয়ত করবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১)

নতুন বছরের শুরুতেই আমরা এই দৃঢ় সংকল্প করব—আমাদের প্রতিটি কাজ হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। দুনিয়ার চাকচিক্য নয়, আখেরাতের সফলতাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

তওবা ও আত্মসমালোচনা
নতুন বছর তওবা ও আত্মসমালোচনার উপযুক্ত সময়। বিগত বছরে আমরা কত ভুল করেছি, কত গুনাহে লিপ্ত হয়েছি, সেগুলো স্মরণ করে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনার এখনই সময়। আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন। কোরআনে আছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারীদের এবং যারা অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকে তাদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২২)। নতুন বছর শুরু হোক তওবার মাধ্যমে, যেন আমাদের অতীতের পাপ-কালিমা ধুয়ে-মুছে পরিস্কার হয়ে যায়।

গুনাহ বর্জন
নতুন বছরে গুনাহ থেকে বিরত থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার করা জরুরি। আমরা অনেক সময় অজান্তে কিংবা অভ্যাসবশত গুনাহ করে ফেলি। চোখ, জিহ্বা ও অন্তরের গুনাহসহ যাবতীয় পাপাচার থেকে যথাসাধ্য আমাদের দূরে থাকা অত্যাবশ্যক। 

সময়ের সঠিক ব্যবহার
সময় আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। সময়ের সমষ্টির নামই জীবন। অথচ আমরা অনেক ক্ষেত্রে সময়কে অপ্রয়োজনীয় কাজে নষ্ট করি। নতুন বছরে সময়কে পরিকল্পিতভাবে ইবাদত, জ্ঞান অর্জন ও কল্যাণকর কাজে ব্যয় করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া জরুরি। 

নামাজে মনোযোগ
মুমিন জীবনের সফলতার মূল ভিত্তি নামাজ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় সফলতা অর্জন করেছে মুমিনরা, যারা তাদের নামাজে আন্তরিকভাবে বিনীত।’ (সুরা মুমিনুন, আয়াত: ১-২)। নতুন বছরে আমাদের অঙ্গীকার হোক—পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে জামাতের সঙ্গে আদায় করার। নামাজ এমন ইবাদত, যা মানুষের চরিত্র গঠনে সহায়তা করে এবং তাকে অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। কোরআনে আছে, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ৪৫)

কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক
কোরআন-সুন্নাহ আমাদের জীবনের পথ-পথর্শক। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা অনেকেই কোরআন-সুন্নাহর জ্ঞান অর্জন ও এগুলোর অনুসরণে অবহেলা করি। নতুন বছরে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় কোরআন তেলাওয়াত এবং এর অর্থ বোঝার চেষ্টা করা জরুরি। কোরআনের আলোয় আলোকিত জীবনই প্রকৃত সফলতার ধারক। পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ আমাদের জন্য সর্বোত্তম অনুসরণীয় আদর্শ। তাঁর চলাফেরা, কথাবার্তা, আচার-আচরণ—সব কিছুতেই রয়েছে আমাদের জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা। তাই সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনায় আমাদের সচেষ্ট হওয়া উচিত।

 

কর্মপরিকল্পনা
নতুন বছরের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। সঠিক পরিকল্পনা সফলতার পথ দেখায়। সঠিক নিয়ত বাড়ায় কাজের গতি। মুমিনের প্রথম পরিকল্পনা হওয়া উচিত, আমল ও চরিত্র গঠন নিয়ে। বছরের প্রথম দিন থেকে নামাজ-রোজাসহ ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলো যথার্থভাবে আদায়ের পরিকল্পনা, কোরআন তেলাওয়াত ও ধর্মীয় জ্ঞানার্জনের পরিকল্পনা, পরোপকার, দান-সদকা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা উত্তম।  

কল্যাণ কামনা 
নতুন বছরের আগমনে মহান আল্লাহর কাছে ইহকালীন ও পরকালীণ সুখ-শান্তি, সফলতা এবং কল্যাণ কামনা করা প্রয়োজন। 

সবশেষে আল্লাহর কাছে দোয়া ও তাঁর ওপর ভরসা করা উচিত। মানুষের পরিকল্পনা যতই নিখুঁত হোক, আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোনোকিছুই সম্ভব নয়। তাই নতুন বছরকে কল্যাণময় করার জন্য বেশি বেশি দোয়া করা এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা অপরিহার্য। যে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে, সব কাজে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।