বিধবা অন্যত্র বিয়ে করলে কি মৃত স্বামীর সম্পদ পাবে

আমাদের সমাজের অনেকেই মনে করেন, ‘স্ত্রী তখনই স্বামীর মিরাস বা সম্পত্তি পাবে, যখন সে অন্য কাউকে বিয়ে করবে না। অন্য কারও সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হলে স্ত্রী মিরাস পাবে না।’ এটি সম্পূর্ণ কুসংস্কার। জাহেলি (অন্ধকার) যুগের ধারণা। ইসলামি বিধান হলো, স্বামীর মৃত্যুর সময় স্ত্রী জীবিত ও তার বিয়েবন্ধনে থাকলেই মিরাসের হকদার হয়ে যায়। পরবর্তীতে কারও সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হলেও সে স্বামীর সম্পদ পাবে। কোনো অবস্থাতেই তাকে বঞ্চিত করা যাবে না।
স্বামীর সন্তান থাকলে তার রেখে যাওয়া সম্পদে স্ত্রী আট ভাগের এক ভাগের মালিক হয়। স্বামীর সন্তান না থাকলে স্ত্রী পাবে চার ভাগের এক ভাগ।
কোরআনে আছে, ‘তোমাদের স্ত্রীদের রেখে যাওয়া সম্পদের অর্ধেক তোমাদের জন্য, যদি তাদের সন্তান না থাকে। যদি সন্তান থাকে, তবে তোমাদের জন্য তাদের রেখে যাওয়া সম্পদের এক-চতুর্থাংশ, তাদের করা অসিয়ত কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের রেখে যাওয়া সম্পদের চার ভাগের এক ভাগ পাবে, যদি তোমাদের কোনো সন্তান না থাকে। তোমাদের সন্তান থাকলে তাদের জন্য তোমাদের সম্পদের আট ভাগের একভাগ। তোমাদের করা অসিয়ত কিংবা ঋণ পরিশোধের পর।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১২)
উত্তরাধিকার পাওয়া না-পাওয়া নির্ভর করবে মৃত্যুকালে কার সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক ছিল তার ওপর। স্বামীর মৃত্যুর সময় স্ত্রী বিয়েবন্ধনে থাকলে অবশ্যই সে সম্পদ পাবে। পরে অন্য কারও সঙ্গে বিয়ে হোক বা না হোক। স্ত্রীকে বঞ্চিত করা বা তার হক না দেওয়া শরিয়তসম্মত নয়। এটা হারাম।
মনে রাখতে হবে, স্বামীর সম্পদে স্ত্রীর অধিকার আছে। অভিভাবকদের উচিত, তাকে অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া। তাকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা মারাত্মক গুনাহ। আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদাররা, তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ২৯)
স্ত্রীর সম্পদ আমানতও। কোনোভাবেই তার আমানতের খেয়ানত করা যাবে না। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও রাসুলের সঙ্গে খেয়ানত করো না এবং জেনেশুনে পরস্পরের আমানতগুলো খেয়ানত করো না।’ (সুরা আনফাল, আয়াত: ২৭)