logo

শবেবরাতের রোজা রাখা কি সুন্নত

শবেবরাতের রোজা রাখা কি সুন্নত

রমজানের প্রস্তুতি নেওয়ার মাস শাবান। এ মাসের অন্যতম ফজিলতপূর্ণ রাত শবেবরাত। শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে পালিত হয় পবিত্র শবেবরাত। মুসলিম জাতির কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় রাত। এ রাতের বিশেষ ফজিলতের কথা আছে হাদিসে। এ রাতে আল্লাহর অপার অনুগ্রহ নাজিল হয়। অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে (শবেবরাত) তাঁর সৃষ্টির প্রতি মনযোগী হন। মুশরিক (আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্তকারী) ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৫৬৬৫)

শবেবরাতে নির্দিষ্ট নামাজ ও রোজা নেই। যেহেতু এটি ফজিলতপূর্ণ রাত, তাই বেশি বেশি নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া, দান-সদকা, কবর জিয়ারত ইত্যাদি করা যেতে পারে। তবে কোনো আমলকে আবশ্যকীয় মনে করে পালন করা যাবে না। 

অনেকে শবেবরাতের পর রোজা রাখা আবশ্যকীয় মনে করেন। কিন্তু শবেবরাতের পর রোজা রাখার আবশ্যকীয় বিধান নেই। রোজা রাখার বিষয়ে কোরআন-হাদিসে কোনো নির্দেশনা নেই। তবে দুর্বল বর্ণনায় পনেরো তারিখে রোজা রাখার নির্দেশনা পাওয়া যায়। হাদিসে আছে, ‘পনেরো শাবানের রাত (চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত) যখন আসে, তখন তোমরা তা ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাও এবং পরদিন রোজা রাখ।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৩৮৪)। এ হাদিসটিকে ইসলামি স্কলাররা দুর্বল বলেছেন।  

শবেবরাতের তারিখ আইয়ামে বিজের (প্রতি চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) অন্তর্ভুক্ত। সে হিসেবে ১৫ শাবান (শবেবরাতের দিন) রোজা রাখা সুন্নত। তবে ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ তিনটি রোজা রাখাই সর্বোত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতি মাসে তিনটি করে রোজা রাখা সারাবছর রোজা রাখার সমান।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৫৯)। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘আমার বন্ধু রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে তিনটি অসিয়ত করেছেন—এক. প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা, দুই, দুই রাকাত চাশতের নামাজ পড়া ও তিন. ঘুমের আগে বিতর নামাজ পড়া।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৭৮)

মুহাম্মদ (সা.) শাবান মাসে সবচেয়ে বেশি রোজা রাখতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘নবী (সা.) শাবান মাসের চেয়ে বেশি (নফল) রোজা কোনো মাসে রাখতেন না। তিনি (প্রায়) পুরা শাবান মাসই রোজা রাখতেন। তিনি বলতেন, তোমাদের মধ্যে যতটুকু সামর্থ্য আছে ততটুকু (নফল) আমল করো, কারণ তোমরা (আমল করতে করতে) পরিশ্রান্ত হয়ে না পড়া পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা (সওয়াব দান) বন্ধ করেন না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯৭০)

আলেমরা বলেন, শাবান মাসে বেশি নফল রোজা রাখা উত্তম। তবে পুরো মাস টানা রোজা রাখা শরিয়তসম্মত নয়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘শাবান মাসের অর্ধেক অতিবাহিত হলে তোমরা রোজা রাখবে না।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৩৭)। আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের এক দিন অথবা দুদিন আগে রোজা রাখবে না। অবশ্য কেউ প্রতি মাসে ওই তারিখে রোজা পালনে অভ্যস্ত হলে রাখতে পারবে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৩৩৫)