জুমার খুতবার সময় মোবাইল ব্যবহার করা যাবে কি

মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন শুক্রবার। এটি আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে এ দিনে। এ দিনই কেয়ামত সংঘটিত হবে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন দিবসগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪)
জুমার নামাজের গুরুত্ব বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। কেনাবেচা ছেড়ে দাও, এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে!’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)
জুমার দিনের অন্যতম আমল খুতবা শোনা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে উত্তমভাবে অজু করে জুমায় এসে চুপ করে মনোযোগসহকারে (খুতবা) শুনল, তার পরবর্তী জুমা পর্যন্ত এবং আরও অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৭)
উপস্থিত মুসল্লিদের জন্য খুতবা শোনা ওয়াজিব। তাই খুতবা চলাকালে নিরর্থক কাজে ব্যস্ত থাকা শরিয়তের দৃষ্টিতে অবৈধ। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন খুতবার সময় যদি তুমি তোমার সঙ্গীকে ‘চুপ করো’ বলো, সেটাও অনর্থক।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৯২)
এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, খুতবার সময় নিশ্চুপ হয়ে খুতবা শোনা ওয়াজিব ও কথাবার্তা বলা নিষেধ। তেমনিভাবে খুতবার সময় সুন্নত-নফল নামাজ পড়াও বৈধ নয়। হাদিসে আছে, ‘যখন ইমাম খুতবার জন্য বের হবেন, তখন নামাজ পড়বে না, কথাও বলবে না।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৪৩২)
হজরত সাইদ ইবনে মুসাইয়িব ও জুহরি (রহ.) বলেন, ‘ইমাম খুতবার জন্য বের হলে কোনো নামাজ পড়া যাবে না। আর খুতবা শুরু করলে কোনো কথা বলা যাবে না।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ১০৩-১০৪)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একাধিক হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে খুতবা চলাকালে নিশ্চুপ থাকা কতটা জরুরি। এমনকি অন্য কাউকে কথা বলতে নিষেধ করাও ইসলামে অনুচিত। খুতবার সময় শুধু কথা বলাই নয়, বরং আরও কিছু কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফিকহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য বই ফতোয়া শামিতে আছে, ‘যেসব কাজ নামাজের মধ্যে হারাম, তা খুতবা চলাকালেও হরাম। যেমন কথা বলা, পানাহার করা ইত্যাদি।’ (ফতোয়া শামি, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৩৫)
এই মূলনীতি অনুযায়ী, খুতবার সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা, মেসেজ চেক করা, গেমস খেলা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত থাকার মতো কাজ করা যাবে না। এগুলো করা শরিয়ত পরিপন্থি।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারের এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘জুমা ও ঈদের খুতবা মনোযোগের সঙ্গে শোনা ওয়াজিব। খুতবা চলাকালে কোনো ধরনের কথা বলা, কাজ করা নিষিদ্ধ। এমনকি তাসবিহ-তাহলিল পড়াও নিষিদ্ধ। অনেক হাদিস ও আসারের আলোকে ফকিহরা খুতবা চলাকালে কারও জন্য কথা বলা এবং কোনো তাসবিহ পড়াকে নিষিদ্ধ বলেছেন। খুতবা চলাকালে কারও জন্য দরুদ শরিফ বা তাকবিরে তাশরিক বলা থেকেও বিরত থাকা আবশ্যক।’ (আলবাহরুর রায়েক, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৫৫; আলমুহিতুল বুরহানি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪৬০)
