Advertisement

ঋণ থেকে মুক্তি পেতে যে দোয়া পড়তে বলেছেন মহানবী (সা.)

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ঋণ থেকে মুক্তি পেতে যে দোয়া পড়তে বলেছেন মহানবী (সা.)
ছবি: সংগৃহীত

অভাব-অনটন বা অর্থের সংকটে পড়লে মানুষ ঋণ করেন। ঋণ নিয়ে প্রয়োজন পূরণ করেন। ঋণ নেওয়া সুখের বিষয় নয়। ঋণ মানুষের মধ্যে দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করে। ব্যক্তিকে এক ধরনের চাপে রাখে। সব সময় ঋণ থেকে মুক্ত থাকা উচিত। তবে কখনো ঋণ নিলে তা দ্রুতই পরিশোধ করা নৈতিক দায়িত্ব। ঋণ পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে ভালোভাবে ঋণ পরিশোধ করে।’ (হাদিস)

ঋণ থেকে মুক্ত থাকতে হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। ঋণ থেকে মুক্তির দোয়া করতেন। দ্রুত ঋণ পরিশোধে সাহাবিদের দোয়া শিখিয়েছেন তিনি। দোয়াগুলো পড়লে ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এখানে কয়েকটি দোয়া উল্লেখ করা হলো—

১. ঋণ থেকে মুক্তির জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি দোয়া বেশি বেশি পড়তেন। দোয়াটি হলো—

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাজানি, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দালায়িদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।

অর্থ: হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের দমন-পীড়ন থেকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৮৯৩)

২. একবার এক লোক ঋণ পরিশোধের জন্য হজরত আলির (রা.) কাছে কিছু সাহায্য চাইলেন। আলি (রা.) তাকে বললেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে কয়েকটি শব্দ শিখিয়ে দিয়েছিলেন, আমি কি তোমাকে সেটা শিখিয়ে দেব? সেটা পড়লে আল্লাহ তোমার ঋণমুক্তির দায়িত্ব নেবেন। তোমার ঋণ যদি পাহাড়সমান হয়, তাহলেও।’ এরপর আলি (রা.) ওই ব্যক্তিকে দোয়া শিখিয়ে দিলেন। দোয়াটি হলো—

اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكِ عَمَّنْ سِوَاكَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাক ফিনি বি হালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাজলিকা আম্মান সিওয়াক।

অর্থ: হে আল্লাহ, হারামের পরিবর্তে তোমার হালাল রুজি আমার জন্য যথেষ্ট করো। তোমাকে ছাড়া আমাকে কারও মুখাপেক্ষী করো না এবং তোমার অনুগ্রহ দিয়ে আমাকে সচ্ছলতা দান করো।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৬৩)

৩. ঋণ থেকে রক্ষা পেতে হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন। হাদিসে আছে, একবার ঋণ থেকে রক্ষা পেতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করছিলেন। এ অবস্থায় এক ব্যক্তি তাকে দেখে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আপনি ঋণ থেকে খুব বেশি আশ্রয় প্রার্থনা করে থাকেন।’ তিনি বললেন, ‘মানুষ ঋণী হলে কথা বলতে গিয়ে মিথ্যা বলে এবং অঙ্গীকার করলে রক্ষা করে না।’ তিনি ঋণ থেকে রক্ষা পেতে এ দোয়াটি পড়তেন—

اللَّهُمَّ إنِّي أعُوذُ بكَ مِنَ الكَسَلِ والهَرَمِ، والمَأْثَمِ والمَغْرَمِ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনাল কাসালি ওয়াল হারামি, ওয়াল মাসামি, ওয়াল মাগরামি।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে অলসতা, অধিক বার্ধক্য, গুনাহ এবং ঋণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০০৭)