logo

অজুর সময় মারাত্মক এই ভুলগুলো হচ্ছে না তো?

অজুর সময় মারাত্মক এই ভুলগুলো হচ্ছে না তো?
ছবি : সংগৃহীত

অজু ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। এতে সওয়াব পাওয়া যায়। নামাজের আগে অজু করা বাধ্যতামূলক। নামাজ ছাড়াও অনেক ইবাদতের জন্য অজু করতে হয়। যেমন—হজ ও কোরআন স্পর্শ করতে অজুর প্রয়োজন হয়।

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, যখন তোমরা নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে তখন তোমাদের মুখ ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে এবং মাথা মাসেহ করবে আর পা টাখনু (গ্রন্থি) পর্যন্ত ধৌত করবে।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৬)

অজুর চারটি ফরজ আছে। কোনো একটি আদায় না হলে অজু হবে না। অজু না হলে নামাজ আদায় বিশুদ্ধ হবে না। অজুর ফরজ ছাড়াও কিছু সুন্নত আছে। এগুলো সঠিকভাবে আদায় করলে অজুর পরিপূর্ণ সওয়াব পাওয়া যায়। অনেক মানুষ আছেন, যারা অজুতে প্রায়ই কিছু ভুল করেন।

এখানে ছয়টি ভুল তুলে ধরা হলো—

মেসওয়াক না করা

অজুতে মেসওয়াক করা সওয়াবের কাজ। হজরত মুহাম্মদ (সা.) অজুর সময় মেসওয়াক করতেন। তিনি সাহাবিদের মেসওয়াক করতে বলেছেন। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষই অজুর সময় মেসওয়াক করেন না। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের জন্য বা তিনি বলেছেন, লোকদের জন্য যদি কষ্টকর মনে না করতাম, তাহলে প্রত্যেক নামাজের সঙ্গে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৪৩)

বিসমিল্লাহ না বলা

অজুর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা হবে কি না—এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। কেউ আবশ্যক মনে করেছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতে, অজুর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা সুন্নত। তবে বিসমিল্লাহ বললে সওয়াব পাওয়া যায়, এ বিষয়ে কারও দ্বিমত নেই। অনেকেই অজুর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলেন না। হাদিসে আছে, ‘যে ব্যক্তি (অজুর শুরুতে) আল্লাহর নাম নেয়নি, তার অজু হয়নি।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০১)

ভালোভাবে নাক পরিষ্কার না করা

অজুর সময় নাক পরিষ্কার করা আবশ্যক। নিয়ম হলো নাকে পানি টেনে নিয়ে পরিষ্কার করা। অনেকে শুধু পানি ছিটিয়ে দেন, এটা যথেষ্ট নয়। এতে নাক ভালোভাবে পরিষ্কার হয় না। নাকে পানি নিয়ে হালকা টান দিয়ে নাক ঝাড়তে হবে। নাক ঝাড়তে ভুল করা যাবে না। বিশুদ্ধ অজুর জন্য নাক ঝাড়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ভুলভাবে কুলি করা

অজুতে কুলি করা সুন্নত। সঠিকভাবে কুলি করা জরুরি। অনেকেই মুখে পানি নিয়ে গড়গড় না করে ফেলে দেন—এটা অনুচিত। পানি মুখে নিয়ে কিছুক্ষণ নাড়িয়ে কুলকুচি করা সুন্নত।

আঙুল খিলাল না করা

অজুর সময় আমরা হাত ধৌত করি ঠিকই, কিন্তু অনেক অজুকারীই আঙুল খিলাল করেন না। এ জন্য হয়তো কারও কারও আঙুলের ফাঁকে পানি পৌঁছায় না। ইসলামি স্কলররা বলেন, স্বাভাবিকভাবেই আঙুলের ফাঁকে পানি পৌঁছে গেলে খিলাল করা সুন্নত। খিলাল ছাড়া পানি না পৌঁছলে খিলাল করা ফরজ।

অজুর কোনো অংশ শুকনো থাকা

অজুতে যেসব জায়গা ধোয়া ফরজ, এগুলোর কোনো একটি শুকনো থাকলে অজু হবে না। অনেক সময় কারও কারও কানের লতি, হাতের আংটি পরা অংশ বা কপালের কিছু অংশ শুকনো থেকে যায়। এতে অজু হবে না। এক ব্যক্তি অজু করে আসার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) দেখলেন, তার কোনো অংশ শুকনো রয়েছে, তখন তিনি তাকে বললেন, তোমার অজু হয়নি। তুমি আবার অজু করে আসো।