logo

কালো জাদুর ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকার ৭ আমল

কালো জাদুর ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকার ৭ আমল
জাদু শেখা, শেখানো এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রাখা হারাম। কোলাজ ছবি: এশিয়া পোস্ট

জাদুবিদ্যার মূল উৎস শয়তান ও জিন। তারাই মানুষের মধ্যে জাদুবিদ্যার প্রসার ঘটিয়েছিল। জাদুকরদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘আরও এই যে, কতিপয় মানুষ কতক জিনের শরণাপন্ন হতো, ফলে তারা জিনদের অহংকার বাড়িয়ে দিত।’ (সুরা জিন, আয়াত: ৬)

আয়েশা (রা.) বলেন, ‘লোকজন নবী (সা.)-কে জ্যোতিষদের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল (যারা তৎকালীন যুগে জাদুও চর্চা করত)। তিনি বললেন, তারা মূলত কিছুই নয়। তারা জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসুল, কখনো কখনো তারা তো এমন কিছু কথাও বলে ফেলে যা সত্য হয়। নবী (সা.) বললেন, এসব কথা সত্য। জিনরা এসব প্রথম শোনে, (মনে রেখে) পরে এদের দোসরদের কানে মুরগির মতো করকর ধ্বনিতে নিক্ষেপ করে দেয়। এরপর এসব জ্যোতিষী সামান্য সত্যের সঙ্গে শত মিথ্যার মিশ্রণ ঘটায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৫৬১)

ইসলামি শরিয়তে জাদু শেখা, শেখানো এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রাখা হারাম। আল্লামা ইবনে কুদামা (রহ.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই জাদু শেখা এবং তা শেখানো হারাম। এই বিষয়ে আলেমদের কোনো মতভিন্নতা নেই।’ (আল মুগনি, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ১০৬)

ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক ও ইমাম আহমদ (রহ.)-সহ বেশির ভাগ ইমামের মতে জাদুবিদ্যা চর্চা করা কুফরি।

কালো জাদু বলতে এমন কিছু কাজ বোঝায়, যেগুলোর মাধ্যমে নিজ স্বার্থ উদ্ধারে কিংবা অন্যের ক্ষতি সাধনা করে হয়ে থাকে। যেমন বশীকরণ, তাবিজ-কবজ করা, বান মারা, জাদু-টোনা ইত্যাদি।

জাদু করা স্পষ্টত কুফরি ও হারাম হওয়ার পরও কেউ কেউ এর সঙ্গে জড়িত আছেন। কেউ কেউ জাদু করে মানুষের ক্ষতি করেন। জাদুর প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার দিকনির্দেশনা দিয়েছে ইসলাম। কোরআনের নির্দিষ্ট আয়াত ও হাদিসে বর্ণিত দোয়া পাঠ করলে জাদুর ক্ষতি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও অসুস্থ সাহাবিদের ওপর ঝাড়ফুঁক করতেন, তাদের জন্য বিশেষ দোয়া করতেন।

জাদুটোনার শিকার হলে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। তাঁর কাছে দোয়া করতে হবে। একই সঙ্গে এসব ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে আমল করতে হবে। এখানে কালো জাদুর ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকার সাতটি আমল উল্লেখ করা হলো-

১. সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার করে সুরা ইখলাছ, ফালাক ও নাস পাঠ করা। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৮২)

২. সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার এই দোয়াটি পাঠ করা- উচ্চারণ: বিসমিল্লা হিল্লাজি লা ইয়াজুররু মাআস মিহি শাইয়ুন ফিল আরজি ওয়া লা ফিসসামায়ি ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম। (হাকেম, হাদিস: ১৯৩৮)

৩. ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করা। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩১১)

৪. ঘুমানোর আগে সুরা ইখলাছ, ফালাক ও নাস পড়ে হাতে ফুঁক দিয়ে সর্বাঙ্গে হাত বুলানো। এভাবে ৩ বার করা। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০১৭)

৫. সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার এ দোয়াটি পাঠ করা- উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আফিনি ফি সাময়ি, আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাসারি। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৯০)

৬. সকাল-সন্ধ্যায় এ দোয়াটি পাঠ করা- উচ্চারণ: আউজু বিকালি মাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭০৯)

৭. সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করা। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০০৮)