Advertisement

জিনরা কি মানুষের সঙ্গে জান্নাত ও জাহান্নামে যাবে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
জিনরা কি মানুষের সঙ্গে জান্নাত ও জাহান্নামে যাবে
আরবিতে লেখা ‘সুরাতুল জিন’। ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আমি জিন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার ইবাদত করার জন্য।’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত: ৫৬)

হাশরের ময়দানে মানুষের মতো জিনদেরও হিসাবনিকাশ হবে, প্রতিদান স্বরূপ দেওয়া হবে জান্নাত ও জাহান্নাম। আল্লাহ উভয় জাতিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘হে জিন ও মানব সম্প্রদায়, তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে রাসুলরা আগমন করেননি? যারা তোমাদের কাছে আমার বিধানাবলি শোনাতেন এবং তোমাদের আজকের এই দিনের সাক্ষাতের ব্যাপারে সতর্ক করতেন।’ তারা বলবে, ‘নিজেদের বিরুদ্ধে আমরা সাক্ষ্য দিলাম (হ্যাঁ এসেছিল)। পার্থিব জীবন তাদেরকে প্রতারিত করেছে। আর তারা যে কাফের ছিল, সে ব্যাপারেও তারা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।’ (সুরা আনআম, আয়াত: ১৩০)

এই জাতির হেদায়াতের উদ্দেশ্যে আল্লাহ পাঠিয়েছেন বহু নবী-রাসুল। এদের মধ্যে যারা আল্লাহর নিদর্শন ও তাঁর রাসুলদের অস্বীকার করেছে, তাদের দিয়ে আল্লাহ জাহান্নাম পূর্ণ করবেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমি জাহান্নামকে (পাপী) মানুষ ও জিন দিয়ে ভরে ফেলব।’ (সুরা সেজদা, আয়াত: ১৩)

জিন জাতির জন্য ইমান আনা ও শরিয়ত মান্য করা ফরজ। এমনভাবে জিনদের মধ্যে যারা ইমান আনবে না এবং যারা আল্লাহর নাফরমানি করবে তারা জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে এ বিষয়েও কোনো মতভেদ নেই। কোরআনের সুস্পষ্ট আয়াত ও সহিহ হাদিস দিয়ে এসব কথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত এবং এ বিষয়ে উম্মতের ইজমা (সর্বসম্মত মত) রয়েছে।

ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, ইমানদার জিনরা মানুষের মতোই জান্নাত লাভ করবে। তবে কোনো কোনো আহলে ইলম থেকে এ কথাও বর্ণিত হয়েছে, মুমিন ও নেককার জিনদের প্রতিদান হলো আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভ এবং আখেরাতে জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি লাভ।

ইসলামে মানুষ ও জিনদের ইবাদতের পদ্ধতি একই। শুধু তাই নয় জিনদের মধ্যেও রয়েছে মানুষের মতো ধর্ম বিভাজন। এ সম্পর্কে জিনদের উক্তি আল্লাহ সুরা জিনে উল্লেখ করেছেন, ‘আর নিশ্চয় আমাদের (জিনদের) কতক সৎকর্মশীল এবং কতক এর ব্যতিক্রম। মূলত আমরা ছিলাম (মুসলিম ও কাফের) বিভিন্ন দলে বিভক্ত।’ (সুরা জিন, আয়াত: ১১)

জিনরা অদৃশ্য হওয়ায় তাদের আমল মানুষের দৃষ্টিগোচর হয় না। হাদিস, সাহাবি ও তারিয়িদের থেকে এমন কিছু ঘটনার বর্ণনা উঠে এসেছে, যার মাধ্যমে জিনদের ইবাদত করার কথা আনা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করো, তেলাওয়াত উচ্চস্বরে করবে। কারণ এদিক-সেদিক ঘোরাফেরা করে বা সেই ঘরে বসবাস করে এমন জিন তার সঙ্গে নামাজ আদায় করে ও মনোযোগসহকারে কোরআনের তেলাওয়াত শুনে।’ (মুসনাদুল বাজজার, হাদিস: ২৬৫৫)

হজ ও উমরার মতো শারীরিক ইবাদতেও জিনদের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়েছে। আবু নুআইম স্বীয় গ্রন্থ দালাইলুন নুবুওয়াহতে বর্ণনা করেছেন, আতা ইবনে রাবা বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনে আমর একদা মসজিদুল হারামে ছিলেন। হঠাৎ একটি সাপ এসে বাইতুল্লায় সাতটি তাওয়াফ করল এবং মাকামে ইবরাহিমে গিয়ে নামাজ আদায় করল। তখন আবদুল্লাহ ইবনে আমর দাঁড়িয়ে বললেন, ‘হে জিন, তোমার ইবাদত তো শেষ হয়েছে। মূর্খ লোকদের ভয়ে এখানে তোমার অবস্থান আমি নিরাপদ মনে করি না। এটা শুনে সাপটি কুণ্ডলি পাকিয়ে বসল, তারপর আকাশে উড়ে গেল।’ (দালাইলুন নুবুওয়াহ, আবু নুআইম: ৫১৫)