জমি বিক্রি করতে চাইলে আগে কাকে জানাতে বলেছেন মহানবী (সা.)

প্রাচীন কাল থেকে সমাজে জমি নিয়ে নানা বিরোধ চলে আসছে। বিরোধ গড়াচ্ছে ঝগড়া পর্যন্ত। কোথাও কোথাও হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। এরপরও বাড়ি বা জমি বেচাকেনা, জমির আইল নির্ধারণ এবং বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা নিয়ে প্রায়ই সমাজে বাক-বিতণ্ডা বা ঝগড়া হতে দেখা যায়।
এদিকে আবার জমি বিক্রির পর বিক্রেতা বা জমির বিরুদ্ধে মামলাও করতে দেখা যায় নিকটাত্মীয় বা প্রতিবেশীকে। এ ঝামেলা মেটাতে আইন-আদালত, পুলিশ-প্রসাশন বা সামাজিক বিচার-আচারের দ্বারস্থ হতে হয়। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় হলো ইসলামের বিধান মেনে চলা। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শের অনুসরণ করা।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) জমি বিক্রি করার সময় প্রথমে প্রতিবেশীকে অবগত করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিবেশী কিনতে চাইলে তার কাছেই বিক্রি করতে হবে। সে না চাইলে অন্য কোথাও বিক্রি করা যাবে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যদি কেউ তার জমি বিক্রি করতে চায়, তাহলে সে যেন তার প্রতিবেশীকে জানায়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৪৯৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিবেশী তার প্রতিবেশীর শুফআর (অগ্রক্রয়াধিকার) অধিক হকদার। তাদের উভয়ের যাতায়াতের একই পথ হলে তার অনুপস্থিতিতে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৩৬৯)
শুফআ হলো কোনো স্থাবর সম্পত্তি (যেমন জমি বা বাড়ি) বিক্রি করার সময় তার অংশীদার বা নিকটবর্তী প্রতিবেশীর সেটি সবার আগে কেনার আইনি অধিকার। জমির মালিক সম্পত্তি বিক্রির আগে প্রথমে প্রতিবেশীকে জানাবে। প্রতিবেশী কিনতে চাইলে আগে তাকেই জমি দিতে হবে।
জমি বিক্রির সময় প্রতিবেশী যদি কোনো কারণে এলাকায় না থাকেন, তাহলে তার ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে অথবা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে হবে, তিনি জমিটি কিনতে চান কি না। তার মতামতের ওপর ভিত্তি করে জমিটি বিক্রি করতে হবে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারের এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘নিজের জমি বা বাড়ি যদি কেউ বিক্রি করতে চায়, তাহলে সে বিষয়ে পাশের প্রতিবেশীর হক সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ তাকে আগে জানাতে হবে যে, আমি আমার বাড়ি বা জমি বিক্রি করতে চাই তুমি তা কিনবে কি না। যদি সে কিনতে না চায়, তাহলে অন্যের কাছে বিক্রি করা যাবে। তাকে না জানিয়ে কারও কাছে বিক্রি করা যাবে না। করলে সে দাবি করতে পারবে যে, আমি এই জমি কিনব। এটা তার হক। কারণ, হতে পারে এ জমিটি তার প্রয়োজন বা এমন ব্যক্তি তা কিনল, যার কারণে সে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে ইত্যাদি।’
হজরত হাসান (রহ.) বর্ণনায় আছে, প্রতিবেশী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছেন, নিজের ঘর থেকে সামনের ৪০টি, পেছনের ৪০টি, ডানপাশের ৪০টি এবং বাঁপাশের ৪০টি ঘরের অধিবাসীই প্রতিবেশী।
প্রতিবেশীর অধিকার ও মর্যাদার প্রতি ইসলামে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশীর বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিবরাইল (আ.) বারবার তাগিদ দিতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জিবরাইল (আ.) এসে আমাকে প্রতিবেশীর বিষয়ে অবিরত উপদেশ দিতে থাকেন। এমনকি মনে হতো যে সম্ভবত তিনি প্রতিবেশীকেই উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৬৯)
প্রতিবেশীর সঙ্গে অবশ্যই উত্তম ব্যবহার করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ইমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৮৯০)
প্রতিবেশীর প্রয়োজনে কিছু ছাড় দিতে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো প্রতিবেশী যেন অপর প্রতিবেশীকে তার দেয়ালে কাঠ স্থাপন করতে বাধা না দেয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪৬৩)

