হজের স্থানগুলোতে যেসব দোয়া পড়বেন

দোয়া হলো হজের প্রাণ। মিনা, আরাফা, কাবা, জামারাতের মতো প্রতিটি স্থানে দোয়া করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরাফার দিনকে দোয়ার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ বলেছেন। হজের বিভিন্ন জায়গায় পড়া যায়, এমন কয়েকটি দোয়া এখানে উল্লেখ করা হলো—
হজের তালবিয়া
لَبَّيْكَ اَللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيْكَ لَكَ
উচ্চারণ: লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা, ওয়ান নিমাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।
অর্থ: আমি হাজির, ওগো আল্লাহ আমি হাজির। আমি হাজির। তোমার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির! সমুদয় প্রশংসা তোমার, সমস্ত নেয়ামত তোমার এবং রাজত্বও তোমার। তোমার কোনো শরিক নেই।
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় পড়ুন—
بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ وَ لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللَّهِ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
অর্থ: আল্লাহর নামে, আল্লাহতায়ালার ওপরই নির্ভর করলাম, আল্লাহতায়ালার সাহায্য ছাড়া বিরত থাকা ও মঙ্গল লাভ করার শক্তি কারও নেই।
গাড়িতে আরোহণের সময় পড়ে নিন—
اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ، وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْتَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى، وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى اللَّهُمَّ هَوْنَ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا، واطو عَنَّا بُعْدَهُ، اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ، وَالْخَلِيفَة فِي الْأَهْلَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ وَعْنَاءِ السَّفَرِ، وَكَابَةِ الْمَنْظَرِ، وَسُوْءٍ الْمُنقَلَب فِي الْمَالِ وَالْأَهْل
উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, সুবহানাল্লাজি সাখখারা লানা হাজা ওয়ামা কুন্না লাহু মুকরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রব্বিনা লামুনকলিবুন। আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফি সাফরিনা হাজাল বিররা ওয়াত তাকওয়া, ওয়া মিনাল আমালি মা তারদা, আল্লাহুম্মা হাউয়িন আলাইনা সাফারনা হাজা, ওয়াতওই আন্না বুদাহু, আল্লাহুম্মা আনতাস্-সাহিবু ফিস্-সাফার, ওয়াল খালিফাতু ফিল আহলি ওয়াল মাল। আল্লাহুম্মা ইন্না নাউজুবিকা মিন ওয়া-সা-ইস সাফারি ওয়া-কাআবাতিল মানজারি, ওয়া সুইল মুনকালাবি ফিল আহলি ওয়াল মাল।’
অর্থ: আল্লাহ সবেচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, মহান আল্লাহর পবিত্রতা যিনি একে (বাহন) আমাদের অধীন করে দিয়েছেন, অথচ আমরা একে অধীন করতে সক্ষম ছিলাম না। আমরা আমাদের প্রতিপালকের কাছে প্রত্যাবর্তনকারী। হে আল্লাহ, আমাদের জন্য আমাদের এ সফর সহজ করে দাও। রাস্তার দূরত্ব কমিয়ে দাও। হে আল্লাহ, তুমি আমাদের সফরের সঙ্গী এবং আমাদের পরিবারের কাছে তুমি আমাদের স্থলাভিষিক্ত। হে আল্লাহ, তোমার কাছে সফরের কষ্ট-ক্লান্তি ও ভয়ানক দৃশ্য দেখা থেকে এবং পরিবার, সম্পদ-বিত্ত ও অধীনস্তদের কাছে খারাপ অবস্থায় ফেরত আসা থেকে তোমার কাছে রক্ষা চাই।
মসজিদুল হারামে প্রবেশের সময় দোয়া—
بسم الله وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي وَافْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহি, আল্লাহুম্মাগ ফিরলি জুনুবি, ওয়াফ তাহলি আবওয়াবা রাহমাতিকা।
অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি। দরুদ ও সালাম রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের গোনাহ ক্ষমা করুন এবং আমাদের জন্য রহমতের দরজা খুলে দিন।
কাবা শরিফ দেখে এ দোয়া পড়ুন—
اللَّهُمَّ زِدْ بَيْنَكَ هَذَا تَشْرِيفًا وَتَعْظِيمًا وَتَكْرِيمًا، وَبِرًا وَمَهَابَةً. وَزِدْ مَنْ شرَّفَهُ وَعَظْمَهُ مِمَّنْ حَجَّهُ أَوْ إِعْتَمَرَهُ تَعْظِيمًا وَتَشْرِيقًا وَبِرًّا وَمَهَابَةً
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা জিদ বায়নাকা হাজা তাশরিফান ওয়া তাজিমান ওয়া তাকরিমান। ওয়া বিররান ওয়া মাহাবাতান, ওয়া জিদ মিন শারফাতু ওয়া আজমাতু মিম্মান হাজ্জাহু আও ইতামারাহু তাজিমান ওয়া তাশরিফান ওয়া বিররান ওয়া মাহাবাতান।
হাজরে আসওয়াদে চুমু বা স্পর্শ করার সময় পড়ুন—
بسم الله الله أكبر، لا إله إلا الله، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلامُ عَلَى رَسُولِ اللهِ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহি।
হাজরে আসওয়াদকে চুমু বা স্পর্শ করার পর সম্ভব হলে নিচের দোয়াটি পড়ুন—
اللَّهُمَّ إِيْمَانَا بِكَ وَتَصْدِيقًا بِكِتَابِكَ وَالْبَامًا لِسُلَةِ نَبِيِّكَ مُحْمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمْ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইমানান বিকা ওয়া তাসদিকান বিকিতাবিকা ওয়াত তাবায়ান লিসুন্নাতি নাবিইয়িকা মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে এই দোয়া পাঠ করা উত্তম—
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارُ
উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদদুনয়া হাসানাতান ওয়া ফিল আখিরতি হাসানা। ওয়াকিনা আজাবান নার।
জমজমের পানি পান করার আগে বা পরে এই দোয়া পড়া উত্তম—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا وَاسِعًا وَشِفَاءٌ مِنْ كُلِّ دَاء
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিয়া ওয়া রিজকান ওয়াসিয়া ওয়া শিফায়ুম মিন কুল্লি দায়িন।
সাঈ করার সময় সাফা পাহাড়ের নিকটবর্তী হলে এই আয়াত পড়ুন—
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ
উচ্চারণ: ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শায়াইরিল্লাহি।
তারপর বলুন—
أَبْدَأَ بِمَا بَدَأَ اللَّهُ بِهِ
উচ্চারণ: আবদায়ু বিমা বাদায়াল্লাহু বিহি।
সাঈর সময় সাফা পাহাড়ে ওঠার পর সেখান থেকে কাবার দিকে ঘুরে দাঁড়ান। সম্ভব হলে কাবা দেখুন। তিনবার আল্লাহু আকবার বলুন। এরপর তিনবার এই দোয়া পড়ুন—
لا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لا شَريكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ أَنْجَزَ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু আনজাযা ওয়াদাহু ওয়া নাসারা আবদাহু ওয়া হাজামাল আহজাবা ওয়াহদাহু।
সাঈর সময় বিশেষ করে সবুজ বাতির মধ্যবর্তী স্থানে সম্ভব হলে নিম্নোক্ত দোয়াটি পড়ুন—
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعَزُّ الْأَكْرَمُ
উচ্চারণ: রাব্বিগফিরলি ওয়ারহাম ইন্নাকা আনতাল আয়াজ্জুল আকরাম।
মদিনা মুনাওয়ারায় প্রবেশের সময় এই দোয়া পড়ুন—
رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَلْ لِي مِن لدُنْكَ سُلْطَانًا نَصِيرًا
উচ্চারণ: রাব্বি আদখিলনি মুদখালা সিদকিন ওয়া আখরিজনি মুখরাজা সিদকিন ওয়াজয়াললি মিললাদুনকা সুলতানান নাসিরা।
মসজিদে নববিতে প্রবেশের সময় ডান পা দিয়ে প্রবেশ করুন এবং এ দোয়া পড়ে নিন—
بِسْمِ اللهِ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللهِ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي وَافْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহি, আল্লাহুম্মাগফিরলি জুনুবি, ওয়াফতাহলি আবওয়াবা রাহমাতিকা।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা শরিফে সালাত-সালাম পেশ করার জন্য এভাবে বলতে পারেন—
الصَّلاةُ وَالسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ
উচ্চারণ: আসসালাতু ওয়াস সালামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ।
হজরত আবু বকর (রা.)-কে এভাবে সালাম পেশ করুন—
السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا خَلِيفَةً رَسُوْلِ اللَّهِ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، جَزَاكَ اللَّهُ عَنَّا خَيْرَ الْجَزَاءِ
উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকা ইয়া খালিফাতা রাসুলিল্লাহি ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। জাজাকাল্লাহু আন্না খায়রাল জাজায়ি।
উমর (রা.)-কে এভাবে সালাম পেশ করুন—
السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ ، جَزَاكَ اللَّهُ عَنَّا خَيْرَ الْجَزَاءِ
উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকা ইয়া আমিরাল মুমিনিনা ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। জাজাকাল্লাহু আন্না খায়রাল জাজায়ি।
একটি সংক্ষিপ্ত ও সহজ দরুদ শরিফ—
اللَّهُمَّ صَلَّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَسَلَّمْ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লা আলা মুহাম্মাদিন ওয়া সাল্লাম।
