logo

কালো জাদু বোঝার লক্ষণগুলো কী, জানালেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

কালো জাদু বোঝার লক্ষণগুলো কী, জানালেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
কোলাজ ছবি: এশিয়া পোস্ট

একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ হুট করে অসুস্থ হয়ে পড়লে, চিকিৎসায় পরিত্রাণ না পেলে, চেকআপেও কোনো রোগের ধরা না পড়লে কিংবা একজন মানুষ যদি হঠাৎই অস্বাভাবিক বা ব্যতিক্রম আচরণ করতে শুরু করেন, তখন তাকে ঘিরে শঙ্কা দেখা দেয়। শঙ্কা দেখা দেয় ওই মানুষটাকে ঘিরেও যে শারীরিকভাবে এমন করে বদলে যান, তাকে আর চেনা যায় না। এমনভাবে শুকিয়ে যান বা দুর্বল হয়ে পড়েন, যেন মৃতমানুষ। একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের এমন আচরণ বা বদলে যাওয়া কালু জাদুরও লক্ষণ হতে পারে।

কালো জাদু কাফের-মুশরিকদের বৈশিষ্ট। জাদুবিদ্যা শিক্ষা করা, কাউকে শিক্ষা দেওয়া, জাদু বিশ্বাস করা কবিরা গুনাহ ও ইমান বিধ্বংসী কার্যকলাপের অন্তর্ভুক্ত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাতটি ধ্বংসকারী বস্তু থেকে বেঁচে থাকো। সাহাবিরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, সেগুলো কী? তিনি বলেন-

  • আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা।
  • জাদু করা।
  • হক পন্থা ছাড়া ব্যক্তিকে হত্যা করা।
  • সুদ খাওয়া।
  • এতিমের সম্পদ খাওয়া।
  • যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা।
  • সতী-সাধ্বী, সরলা মুমিন নারীর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৫৭৮)

জাদু করা কুফরি অর্থাৎ ইমান ভঙ্গের কারণ। যে জাদু করবে বা জাদুর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ইমানের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যায়। এক বর্ণনায় আছে, কালো জাদু মানুষকে কবর পর্যন্ত এবং উটকে পাতিল পর্যন্ত নিয়ে যায়। মানে একবারে শেষ করে দেয়। মানুষকে নানা ধরনের ক্ষতি করে।

কাকে কালো জাদু করা হয়েছে, তা চেনা বা বোঝার জন্য চারটি আলামত বা লক্ষণের কথা জানিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। যথা-

এক. কাউকে কালো জাদু আক্রান্ত করলে তার ওপর সাধারণত ট্রিটমেন্ট বা ওষুধ কোনো কাজ করে না। চেকআপে রোগ ধরা পড়ে না। দিন দিন আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যায়।

দুই. মাত্রাতিরিক্ত হাই আসা। হাই তোলার একটা স্বাভাবিক মাত্রা আছে। অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে গেলে সেটা কোনো কোনো ক্ষেত্রে কালো জাদু আক্রান্ত রোগী হওয়ার আলামত থাকে।

তিন. সুরা বাকারাসহ বিভিন্ন রুকইয়ার অ্যাপস বা ভিডিও চালু করে দেওয়ার পর কোরআন তেলাওয়াত শুনলে যদি অস্থির হয়, পেরেশান হয়, তাহলে তার মধ্যে কালো জাদুর শঙ্কা অনেক জোরালো।

চার. আজান শোনার পর কারও মধ্যে যদি অস্থিরতা কাজ করে, সে যদি আজান শুনতে অপছন্দ করে, তাহলে তার মধ্যে কালো জাদুর প্রভাব থাকতে পারে।

জাদু থেকে রক্ষা পাওয়ার আমল

১. সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার করে সুরা ইখলাছ, ফালাক ও নাস পাঠ করা। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৮২)

২. সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার এই দোয়াটি পাঠ করা- উচ্চারণ: বিসমিল্লা হিল্লাজি লা ইয়াজুররু মাআস মিহি শাইয়ুন ফিল আরজি ওয়া লা ফিসসামায়ি ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম। (হাকেম, হাদিস: ১৯৩৮)

৩. ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করা। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩১১)

৪. ঘুমানোর আগে সুরা ইখলাছ, ফালাক ও নাস পড়ে হাতে ফুঁক দিয়ে সর্বাঙ্গে হাত বুলানো। এভাবে ৩ বার করা। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০১৭)

৫. সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার এ দোয়াটি পাঠ করা- উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আফিনি ফি সাময়ি আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাসারি। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৯০)

৬. সকাল-সন্ধ্যায় এ দোয়াটি পাঠ করা- উচ্চারণ: আউজু বিকালি মাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭০৯)

৭. সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করা। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০০৮)