যেভাবে বুঝবেন আপনার ওপর জাকাত ফরজ

জাকাত ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। স্বাভাবিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে ৭ তোলা সোনা বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপা বা সমমানের নগদ অর্থ-সম্পদের মালিক হলে ব্যক্তির ওপর জাকাত ফরজ। এ অবস্থায় সম্পদ বর্ধনশীল হতে হবে। সম্পদের ওপর অতিক্রান্ত হতে হবে এক বছর। সম্পদের ২.৫ শতাংশ অংশ বছর শেষে বিতরণ করতে হয়।
জাকাত কোনো দান নয়, জাকাত গরিবের হক বা অধিকার। জাকাতের বিধান প্রথম মক্কাতে ফরজ হয়। কিন্তু তখন কোনো সম্পদের কী পরিমাণ জাকাত দিতে হবে, তার বিস্তারিত বিবরণ নাজিল হয়নি। এরপর দ্বিতীয় হিজরিতে মদিনায় এর বিস্তারিত বিধান নাজিল হয়।
কোন জিনিসের ওপর জাকাত ফরজ
মূলত পাঁচ প্রকার সম্পদের জাকাত দেওয়া ফরজ।
১. বিচরণশীল উট, গরু, ছাগল ইত্যাদি গৃহপালিত পশু।
২. সোনা-রুপা।
৩. নগদ টাকা।
৪. ব্যবসা বা বিক্রির জন্য রাখা দ্রব্য।
৫. কৃষিপণ্য বা ফল ও ফসল।
জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত
স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক মুসলমান নারী-পুরুষের কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে কিছু শর্তসাপেক্ষে তার ওপর জাকাত ফরজ। যেমন—
সম্পদের ওপর পূর্ণ মালিকানা : জাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য সম্পদের মালিকানা সুনির্দিষ্ট হওয়া আবশ্যক। অর্থাৎ মালিকের অধিকারে সম্পদ থাকা, সম্পদের ওপর অন্যের অধিকার বা মালিকানা না থাকা এবং নিজের ইচ্ছামতো সম্পদ ভোগ ও ব্যবহার করার পূর্ণ অধিকার থাকা। যেসব সম্পদের মালিকানা সুসস্পষ্ট নয়, সেসব সম্পদের কোনো জাকাত নেই। যেমন, সরকারি মালিকানাধীন সম্পদ। জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য ওয়াকফকৃত সম্পদের ওপরেও জাকাত ধার্য হয় না ।
সম্পদ উৎপাদনক্ষম হওয়া : জাকাতের জন্য সম্পদকে অবশ্যই উৎপাদনক্ষম, প্রবৃদ্ধিশীল হতে হবে। যেমন, গরু, মহিষ, ব্যবসায়ী পণ্য, নগদ অর্থ, ব্যবসার উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত যন্ত্রপাতি ইত্যাদি মালামাল বর্ধনশীল।
নেসাব পরিমাণ সম্পদ : শরিয়ত নির্ধারিত সীমাতিরিক্ত সম্পদ থাকতে হবে।
মৌলিক প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদ থাকা : সারা বছরের মৌলিক প্রয়োজন মিটিয়ে যে সম্পদ উদ্ধৃত থাকবে, শুধুমাত্র তার ওপরই জাকাত ফরজ হবে। আল্লাহ বলেন, ‘লোকজন আপনার কাছে জানতে চায়, তারা আল্লাহর পথে কী ব্যয় করবে? বলুন, যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত। আল্লাহ এভাবেই তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট বিধান বলে দেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২১৯)
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘অতিরিক্ত বলতে পরিবারের ব্যয় বহনের পর যা অতিরিক্ত বা অবশিষ্ট থাকে।’
ঋণমুক্ত হওয়া : নেসাব পরিমাণ সম্পদ হলেও ব্যক্তিকে ঋণমুক্ত হতে হবে। যদি সম্পদের মালিক এত পরিমাণ ঋণগ্রস্ত হন, যা নেসাব পরিমাণ সম্পদও মিটাতে অক্ষম বা নেসাব পরিমাণ সম্পদ তার চেয়ে কম হয়, তার ওপর জাকাত ফরজ হবে না। ঋণ পরিশোধের পর নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেই শুধু জাকাত ওয়াজিব হয়।
সম্পদ এক বছর আয়ত্বাধীন থাকা : নেসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর নিজ আয়ত্বাধীন থাকতে হবে। তবে কৃষিজাত ফসল, খনিজ সম্পদ ইত্যাদির জাকাত (উশর) প্রতিবার ফসল তোলার সময়ই দিতে হবে।