জাহান্নামি হিসেবে যাদের নাম কোরআন-হাদিসে এসেছে

আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য। মানুষের জীবন-মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন পরীক্ষার জন্য। যারা আল্লাহর আদেশ ও হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শমতো চলবে, তাদের ঠিকানা হবে জান্নাত। এর বিপরীত জীপন-যাপনকারীদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। যারা আল্লাহর ওপর ইমান এনেছে, তারা গোনাহ করলেও একসময় জান্নাতে প্রবেশ করবে। কিন্তু যারা আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করে না, তারা চিরস্থায়ী জাহান্নামে থাকবে। তারা কখনও জান্নাতে যেতে পারবে না।
যারা কাফের ও মুশরিক অবস্থায় মারা যাবে তারা সুনিশ্চিতভাবে জাহান্নামে যাবে। কোরআন ও হাদিসে সুনির্দিষ্টভাবে বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলো, ফেরাউন, নুহ (আ.)-এর স্ত্রী, লুত (আ.)-এর স্ত্রী, আবু আমর ইবনু আমির আল-খুজায়ি, আম্মার (রা.)-এর ঘাতক অর্থাৎ আবুল গাদিয়া আল জুহানি, আম্মার (রা.)-এর যুদ্ধাস্ত্র হরণকারী।
পবিত্র কোরআনে ফেরাউন সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সে কেয়ামতের দিন তার সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে থাকবে এবং তাদের নিয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সুরা হুদ, আয়াত: ৯৮)
নুহ ও লুত (আ.)-এর স্ত্রীর বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ কাফেরদের জন্য নুহের স্ত্রী ও লুতের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন। তারা ছিল আমার বান্দাদের মধ্যে দুজন ন্যায়পরায়ণ বান্দার অধীন। কিন্তু তারা তাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। ফলে নুহ ও লুত তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারেননি। উপরন্তু তাদের বলা হয়েছে, তোমরা উভয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করো অন্যান্য প্রবেশকারীর সঙ্গে।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত: ১০)
আবু লাহাব ও তার স্ত্রী সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দুই হাত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও। তার ধন-সম্পদ ও উপার্জন তার কোনো কাজে আসবে না। অচিরেই সে প্রবেশ করবে লেলিহান আগুনে এবং তার স্ত্রীও, যে ইন্ধন বহন করত; তার গলায় থাকবে পাকানো রশি।’ (সুরা লাহাব, আয়াত: ১-৫)
আমর ইবনে আমির আল-খুজায়ি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি আমর ইবনে আমির আল-খুজায়িকে জাহান্নামে তার নাড়িভুড়ি বয়ে বেড়াতে দেখেছি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৬২৩)
আম্মার (রা.)-এর ঘাতক সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আম্মারের হত্যাকারী এবং তার যুদ্ধাস্ত্র হরণকারী জাহান্নামি।’ (মুসতাদরাকুল হাকিম, হাদিস: ৫৬৬১)


