রাগ নিয়ন্ত্রণে থাকে না? এই তিনটি আমল করুন

আপনি কি প্রায়শই রেগে যান? আপনি কীভাবে নিজের রাগ প্রকাশ করেন? পরিবারের অন্য সদস্যদের রাগ প্রকাশের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে কি আপনার কোনো মিল রয়েছে, নাকি আপনি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে তা ব্যক্ত করেন? সম্প্রতি কাউকে কি প্রচণ্ড রাগতে দেখেছেন, হতে পারে তা আপনার নিজ পরিবারেই? তাদের সেই প্রতিক্রিয়া আপনাকে কেমন অনুভূতি দিয়েছিল?
মনে রাখুন, রাগ শুধু রাগান্বিত ব্যক্তিকেই কষ্ট দেয় না, তার আশপাশের প্রিয় মানুষদেরও আঘাত করে। ঘন ঘন রাগের প্রকাশ মানুষের শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
মহানবীর (সা.) রাগ হলে কী করতেন
অতিমাত্রায় রাগের বহিঃপ্রকাশ ইসলাম সমর্থন করে না। রাগ সংবরণ করতে না পেরে হজরত মুহাম্মদ (সা.) কখনো মেজাজ হারিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, এমন উদাহরণ নেই। তবে তিনি অসন্তুষ্ট হলে তার মুখমণ্ডল লাল হয়ে যেত এবং তার চেহারা মোবারকে কষ্টের ছাপ ফুটে উঠত। কিন্তু রাগান্বিত হয়ে তিনি কাউকে কষ্ট দিয়েছেন, এমন দৃষ্টান্ত নেই।
রাগ হলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে বলেছেন মহানবী (সা.)। রাগান্বিত হলে চুপ থাকতে আদেশ করেছেন তিনি। এ ছাড়া তিনি শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন ও অজু করার কথা বলেছেন।
রাগ নিয়ন্ত্রণে যা করবেন
আমরা রেগে গেলে নিজেদের ওপর সামান্যতম নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারি না। জিনিসপত্র ছুড়ে মারি। মাঝেমধ্যে আঘাতও পর্যন্ত করি। রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এখানে রাগ নিয়ন্ত্রণের তিনটি উপায় তুলে ধরা হলো-
আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি করা
রাগ সংবরণের প্রথম পদক্ষেপটিই হলো নিজের আত্মসচেতনতা বাড়ানো। ঠিক কোন কোন বিষয়গুলো আমাদের মেজাজ বিগড়ে দেয়, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। ভেবে দেখা প্রয়োজন, কোন জিনিসটি আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি উত্যক্ত করে। কোন বিষয়গুলো সামান্য বিরক্ত করে আর কোনগুলো অনেক বেশি ক্ষিপ্ত করে।
আত্মসচেতনতা বাড়ানো বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। তাই নিজের ভাবনাগুলো ডায়রিতে লিখে রাখুন, যাতে মানসিক পরিবর্তনগুলো ট্র্যাক করতে পারেন।
আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ধৈর্য ধারণ করতে হবে
ইসলামে রাগ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো আত্মসংযম বা আত্মনিয়ন্ত্রণ। আল্লাহ বলেন, ‘যারা সুসময়ে ও দুঃসময়ে (অকাতরে) দান করে, যারা রাগ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে; নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৪)
রাগ সংবরণের পাশাপাশি যাদের কথা বা কাজে কষ্ট পেয়েছি, তাদের ক্ষমা করার মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে মহানবী (সা.) তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন।
১. আল্লাহ সৃষ্টিজগৎ সৃষ্টি সম্পন্ন করে তাঁর আরশে অবস্থিত কিতাবে লিখে রাখলেন, ‘নিশ্চয়ই আমার দয়া আমার ক্রোধের ওপর প্রাধান্য পাবে।’ (সহিহ বুখারি)
২. পালোয়ান বা শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে আছাড় দিয়ে হারিয়ে দেয়; বরং প্রকৃত শক্তিশালী সে-ই, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। (সহিহ বুখারি)
৩. এক ব্যক্তি মহানবী (সা.)-এর কাছে এসে বলল, ‘আমাকে কিছু উপদেশ দিন। নবীজি বললেন, রাগ করো না। লোকটি বারবার একই আরজি জানাতে লাগল, আর নবীজি প্রতিবারই তাকে বললেন, রাগ করো না। (সহিহ বুখারি)
তাৎক্ষণিক কৌশল ও আমল
রাগ উঠলেই প্রথম করণীয় হলো শয়তানের প্ররোচনা থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া। আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম (আমি আল্লাহর কাছে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি) পড়া।
আল্লাহর জিকির মানুষের কথা ও কাজকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। কারণ রেগে গেলে মানুষের প্রথম প্রবৃত্তিই থাকে গালাগাল করা, অভিশাপ দেওয়া বা হাত তোলা। রাগের মুহূর্তে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার এই স্মরণ মূলত শয়তানের ধোঁকা ও উসকানির বিপরীতে বান্দাকে পুনরায় আল্লাহর সাথে যুক্ত করে দেয়।
রাগ অনুভব করলে আউজুবিল্লাহ পড়ার পাশাপাশি নিজের দৈহিক অবস্থান পরিবর্তন করা উচিত, যাতে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক ভারসাম্য ফিরে পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন দণ্ডায়মান অবস্থায় রেগে যায়, সে যেন বসে পড়ে (যাতে তার রাগ দূর হয়ে যায়)। আর যদি বসে থাকার পরও রাগ দূর না হয়, তবে সে যেন শুয়ে পড়ে।’ (সুনানে আবু দাউদ)



