রোজা রেখে তরকারির স্বাদ চেখে দেখা যাবে?

কখনো-সখনো রোজা রেখে তরকারির লবণ চেখে দেখার প্রয়োজন পড়ে। তবে রোজা ভেঙে যাওয়ার ভয়ে কেউ কেউ এটি করেন না। এতে কখনো ইফতারিতে বা রান্না করা খাবারে লবণ বেশি হলে অন্যদের কষ্ট পোহাতে হয়। প্রয়োজনের তাগিদে তরকারিতে লবণ চেখে দেখা যাবে কি না, বিষয়টি জেনে নেওয়া যাক।
রোজা অবস্থায় প্রয়োজন ছাড়া জিহ্বা দিয়ে স্বাদ পরখ করা বা চেখে দেখা উচিত নয়। তবে খাবারে লবণ বা অন্যান্য উপাদান কমবেশি হওয়ার শঙ্কা থাকলে জিহ্বা দিয়ে চেখে দেখা যেতে পারে। তবে স্বাদ অনুভব করে সঙ্গে সঙ্গে থুথু ফেলতে হবে। প্রয়োজনে কুলিও করে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, খাবারের অংশ যেন কোনোভাবেই গলার ভেতর চলে না যায়। গলার ভেতর চলে গেলে রোজা ভেঙে যাবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস: ৯৩৮৫; আলমুহিতুল বুরহানি, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৩৫৬)
শাইখ ইবনে উসাইমিন (রহ.) বলেন, খেজুর, রুটি, ঝোল ইত্যাদি কোনো খাবার প্রয়োজন ছাড়া চেখে দেখা মাকরুহ (অপছন্দনীয় কাজ)। কারণ, খাবারের কিছু অংশ পেটে চলে যেতে পারে। তবে বাবুর্চি—যাকে খাবারের লবণ বা স্বাদ যাচাই করতে হয়, তিনি প্রয়োজনে স্বাদ পরখ করতে পারবেন।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘তরকারির লবণ বা স্বাদ জিহ্বা দিয়ে চেক করা জায়েজ। চেক করে সঙ্গে সঙ্গে থুথুর মাধ্যমে সেটা ফেলে দিতে হবে। পরিপূর্ণভাবে কুলি করে মুখ পরিস্কার করতে হবে। কোনোভাবেই গলধকরণ করা যাবে না। তবে যথাসম্ভব রোজা রেখে তরকারির স্বাদ পরখ না করাই ভালো।’
যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায়
- রোজা রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাস করলে রোজা ভেঙে যায়। ওই রোজা ফরজ, ওয়াজিব বা নফল হোক না কেন। সহবাসের মাধ্যমে রোজা ভেঙে গেলে কাজা ও কাফফারা উভয় আদায় করতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ৯১৩১)
- ইচ্ছাকৃতভাবে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। এতে কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হবে। (সুনানে দারা কুতনি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৯১)
- বিভিন্ন যৌনঘটিত কারণে কিংবা হস্তমৈথুন ইত্যাদি কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত ঘটানো হলে রোজা ভেঙে যাবে। এতে কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হয়। (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২৬৪)
- যদি কেউ ইচ্ছা করে মুখ ভরে বা পরিমাণে অনেক বমি করে, তবে তার রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৭২০)
- যদি রোজা অবস্থায় কোনো নারীর হায়েজের (মাসিক) রক্ত দেখা দেয় অথবা নেফাসের অবস্থার শুরু হয়, তবে রোজা ভেঙে যাবে। (আল-মুহিতুল বুরহানি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪০১)