Advertisement

অন্তঃসত্ত্বার ওপর কি সূর্যগ্রহণের প্রভাব পড়ে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
অন্তঃসত্ত্বার ওপর কি সূর্যগ্রহণের প্রভাব পড়ে
ছবি: প্রতীকী

অনেকে মনে করেন, চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সময় অন্তঃসত্ত্বা মা যদি কিছু কাটাকাটি করেন, তাহলে গর্ভস্থ সন্তান কান কাটা বা ঠোঁট কাটা অবস্থায় জন্ম নেয়। কোনো কোনো অঞ্চলে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ঘুম বা পানাহার থেকে বারণ করা হয়। তাদেরকে হাঁটাচলা করার কথা বলা হয়। কেউ কেউ বলেন, অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা যা-ই করেন, এর প্রভাব সন্তানের ওপর পড়ে। প্রশ্ন হলো, কোরআন ও হাদিসে এ ধরনের বিশ্বাসের অস্তিত্ব কতটুকু?

Advertisement

চাঁদ ও সূর্য আল্লাহর বিস্ময়কর সৃষ্টি। আল্লাহর বড় নেয়ামত। আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত একটি প্রক্রিয়া চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ। চাঁদ যখন পরিভ্রমণ অবস্থায় কিছুক্ষণের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর কোনো দর্শকের কাছে কিছু সময়ের সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায়। এটাই সূর্যগ্রহণ। আরবিতে বলে কুসুফ। পৃথিবী যখন তার পরিভ্রমণ অবস্থায় চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখনই পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে চাঁদ কিছুক্ষণের জন্য অদৃশ্য হয়ে যায়। এটা চন্দ্রগ্রহণ। আরবিতে একে বলে খুসুফ।

পবিত্র কোরআনে গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে সূর্য ও চাঁদের কথা। আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই সত্তা, যিনি সূর্যকে কিরণোজ্জ্বল ও চাঁদকে স্নিগ্ধ আলোয় আলোকিত করেছেন।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত: ৫)

সূর্যের আলোচনায় কোরআনুল কারিমে সব জায়গায়ই ‘প্রজ্বলিত বাতি’, ‘তেজোদীপ্ত’, ‘উজ্জ্বল জ্যোতি’, ‘চমক/ঝলক’, ‘শিখা’ বলা হয়েছে। যার অর্থ সূর্য নিজে দহনক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচণ্ড তাপ ও আলো উৎপন্ন করে।

সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে আমাদের সমাজে অনেক কুসংস্কার আছে। ওই সময় খেতে নেই, তৈরি করা খাবার ফেলে দিতে হবে, অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা এ সময় যা করেন, তার প্রভাব সন্তানের ওপর পড়ে, চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সময় অন্তঃসত্ত্বা নারী কিছু কাটাকাটি করলে গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি হয়—এগুলো ভুল বিশ্বাস। এ সময় কোনো নারীকে ঘুম বা পানহার থেকে বারণ করাও অন্যায়। ইসলামি শরিয়া বা বাস্তবতার সঙ্গে এগুলোর কোনো মিল নেই।

জাহেলি যুগেও এ ধরনের কিছু ধারণা ছিল। সেকালে মানুষ ধারণা করত যে চন্দ্রগ্রহণ কিংবা সূর্যগ্রহণ হলে অচিরেই দুর্যোগ বা দুর্ভিক্ষ হবে। চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ পৃথিবীতে কোনো মহাপুরুষের জন্ম বা মৃত্যুর বার্তাও বহন করে বলে তারা মনে করত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) সেগুলোকে ভ্রান্ত ধারণা হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মুগিরা ইবনে শুবা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সময় যে দিন (তাঁর ছেলে) ইবরাহিম (রা.) মারা গেলেন, সেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। লোকেরা তখন বলতে লাগল, ইবরাহিম (রা.)-এর মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। তখন মহানবী (সা.) বললেন, কারও মৃত্যু অথবা জন্মের কারণে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন তা দেখবে, তখন নামাজ আদায় করবে এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৪৩)

চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণকে আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করেছেন মহানবী (সা.)। তিনি সাহাবিদের এ সময় নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কোনো লোকের মৃত্যুর কারণে কখনও সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তবে তা আল্লাহর নিদর্শনগুলোর দুটি। তোমরা সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হতে দেখলে নামাজে দাঁড়িয়ে যাবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৮৪)

মহানবী (সা.)-এর হাদিসগুলো থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের কোনো প্রভাব সৃষ্টির ওপর পড়ে না। সমাজে প্রচলিত বিশ্বাসগুলো শুধুই কুসংস্কার। মহানবী (সা.) তাঁর উম্মতকে চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণে আতঙ্কিত হয়ে তা থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য নামাজের নির্দেশ দিয়েছেন। আধুনিক বিজ্ঞানও বলছে, সত্যি চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ পৃথিবীর জন্য আতঙ্কের বিষয়।