বিমানে নামাজ আদায় করবেন যেভাবে

ইমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নামাজ। প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ। কোরআনের অনেক জায়গায় আল্লাহ নামাজের নির্দেশ দিয়েছেন। কোরআনে আছে, ‘সব নামাজের প্রতি যত্নবান হও।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৩৮)। আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদাররা, তোমরা সাহায্য চাও ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩)
কেয়ামতের দিন প্রথমে নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন প্রথম বান্দার কাজগুলোর মধ্যে নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। যদি সঠিকভাবে নামাজ আদায় করা হয়ে থাকে, তবে সে মুক্তি পাবে এবং সফলকাম হবে। যদি নামাজ নষ্ট হয়ে থাকে, তবে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ (সুনানে নাসায়ি)
নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করে নেওয়া আবশ্যক। আকাশ পথে সফরের সময় বা বিমানে চলা অবস্থায় নামাজের সময় হলে নামাজ আদায় করে নিতে হবে। সম্ভব হলে কিবলামুখী হয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় নামাজের মতো দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ুন। রুকু-সিজদা করুন। দাঁড়ানো সম্ভব না হলে কিবলামুখী হয়ে বসে রুকু-সিজদাসহ নামাজ আদায় করতে হবে। এভাবে নামাজ পড়তে পারলে পরবর্তী সময়ে তা পুনরায় আদায় করতে হবে না।
আমের ইবনে রাবিয়া (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহকে (সা.) তাঁর বাহনের ওপর যেদিকেই বাহন ফিরছে সেদিকেই নামাজ আদায় করতে দেখেছি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৯৩)
যদি কিবলার দিকে মুখ করে রুকু-সিজদাসহ নামাজ আদায় করা সম্ভব না হয়, তবে যেভাবে সম্ভব বসে বা ইশারায় নামাজ আদায় করতে হবে। তবে সতর্কতামূলক এ নামাজ কিবলামুখী পরে আদায় করে নিতে হবে। চলন্ত ট্রেন, বাস ও লঞ্চে নামাজের ক্ষেত্রে একই বিধান। (আদ-দুররুল মুখতার, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১০১; ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড: ১, হাদিস: ৪০৮)