logo

স্বামী কি স্ত্রীকে জাকাত দিতে পারবে

স্বামী কি স্ত্রীকে জাকাত দিতে পারবে

ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত জাকাত। স্বাভাবিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপা বা সমমানের নগদ অর্থ-সম্পদের মালিক হলে ব্যক্তির ওপর জাকাত ফরজ হয়। এ অবস্থায় সম্পদ বর্ধনশীল হতে হবে। সম্পদের ওপর অতিক্রান্ত হতে হবে এক বছর। জাকাত ফরজ হলে সম্পদের ২.৫ শতাংশ অংশ বছর শেষে বিতরণ করতে হয়।

আল্লাহ তাআলা সুরা তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে যাদের জাকাত দেওয়া যাবে, তাদের নাম উল্লেখ করেছেন। যেমন: এক. গরিব—যার নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই। দুই. মিসকিন—যার মালিকানায় কোনো সম্পদ নেই। তিন. ইসলামি সরকারের পক্ষ থেকে জাকাত সংগ্রহে নিয়োজিত ব্যক্তি। চার. ইসলামের দিকে চিত্ত আকর্ষণের জন্য জাকাত দেওয়া। পাঁচ. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি। ছয়. নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের বিনিময়ে স্বাধীন হওয়ার চুক্তিতে আবদ্ধ দাস-দাসী। সাত. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী। আট. মুসাফির—সফর অবস্থায় অভাবগ্রস্ত মানুষ।

ইসলামি বিধান মতে, যেসব আত্মীয়দের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব দেওয়া ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব, তাদের জাকাত দেওয়া যায় না। যেমন—বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, ছেলেমেয়ে, পৌত্র, প্রোপৌত্র। স্বামী তার স্ত্রীকে জাকাত দিতে পারবে না। কারণ, স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর ওপর ওয়াজিব।

আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আলকাউসারের ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি সংখ্যার এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘স্বামী-স্ত্রীর জন্য একে অপরকে জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়।’ (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৮৯; রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৫৮)

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ এক প্রশ্নের জবাবে তার ইউটিউব চ্যানেলে বলেন, ‘স্বামী তার স্ত্রীকে জাকাতের টাকা-পয়সা দিতে পারবে না। কারণ, স্ত্রীর ভরণ-পোষণ দেওয়া স্বামীর কর্তব্যে রয়েছে। তাই তাকে জাকাত দেওয়া যাবে না।’ 

ঢাকার জামিয়া ইসলামিয়া ইবরাহিমিয়া দারুল উলুমের শিক্ষক মুফতি সাইদুজ্জামান কাসেমি বলেন, ‘শরিয়তে স্ত্রীকে ভরণ-পোষণ দেওয়া স্বামীর ওপর ওয়াজিব। স্বামী তার স্ত্রীকে জাকাত দিতে পারবে না। স্ত্রীকে জাকাত দিলে জাকাত আদায় হবে না।’