রমজানে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে যা করতেন মহানবী (সা.)

হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও তার উম্মতের ওপর দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসে রমজানের রোজা ফরজ করা হয়। মুহাম্মদ (সা.) জীবদ্দশায় মোট নয়টি রমজান মাস পেয়েছেন। সবগুলো রমজানই ছিল গ্রীস্মকালে, শীতকালে কোনো রমজান পাননি। তবে তিনি শীতকালেও রোজা রেখেছেন।
রমজানে অসহনীয় তাপমাত্রা দেখা দিলে রাসুলুল্লাহ (সা.) মাথায় পানি ঢালতেন। আবু বকর ইবনে আব্দুর রহমান (রহ.) নবী (সা.)-এর কোনো এক সাহাবির সূত্রে বলেন, মক্কা বিজয়ের বছরে এক সফরে আমি নবী (সা.)-কে লোকদের প্রতি রোজা ভঙ্গের নির্দেশ দিতে দেখেছি। তিনি (সা.) বলেছেন, শত্রুর মোকাবিলায় তোমরা শক্তি সঞ্চয় করো। অবশ্য রাসুল (সা.) নিজে রোজা রেখেছেন। আবু বকর (রহ.) বলেন, হাদিস বর্ণনাকারী বলেছেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে ‘আল-আরজ’ নামক জায়গায় পিপাসার কারণে বা গরমের ফলে রোজা অবস্থায় তাঁর মাথায় পানি ঢালতে দেখেছি।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৩৬৫)
দৈহিক প্রশান্তি ও স্বস্তি লাভের জন্য রোজা অবস্থায় মাথায় পানি দেওয়া দোষণীয় নয়। এর ফলে রোজাদারের ইবাদতের স্পৃহা বাড়বে। রোজা রেখে একাধিকবার গোসল করা, ভেজা কাপড় শরীরে জড়ানো ও পানিতে ডুব দেওয়া যাবে।
ইবনে উমর (রা.) রোজা অবস্থায় একবার একটি কাপড় পানিতে ভিজিয়ে শরীরে জড়িয়ে নিয়েছেন।
আনাস (রা.) বলেন, ‘আমার একটি টব রয়েছে, রোজা রেখেই আমি তাতে প্রবেশ করি।’ (সহিহ বুখারি, খণ্ড : ৩, পৃষ্ঠা: ৩০)
রমজানে তাপমাত্রা বাড়লে এসি রুমে অবস্থান করা যাবে। এ ক্ষেত্রে মৌলিক ও সাধারণ নীতিমালা হলো, ইবাদত পালন যা সহজ করে দেয়, তা করা বৈধ।
এ প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘অযৌক্তিকভাবে আত্মাকে কষ্ট দেওয়া কিংবা নিজের ওপর বাড়াবাড়ি করা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা লাভের উপায় হতে পারে না। বান্দা যতটা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ করে নিজকে বিলিয়ে দিতে পারে, তার আমল সে অনুসারে গ্রহণযোগ্য হবে।’ (মাজমুউল ফাতাওয়া, খণ্ড : ২৫, পৃষ্ঠা : ২৮১-২৮২)