logo

দেশের সীমান্ত পাহারায় যে সওয়াব পাওয়া যায়

ফয়জুল্লাহ রিয়াদ
দেশের সীমান্ত পাহারায় যে সওয়াব পাওয়া যায়
বাংলাদেশ সীমান্ত পাহারায় বিজিবি। ছবি: সংগৃহীত

দেশ, জাতি ও মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় সীমান্ত পাহারা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ইসলামে সীমান্ত রক্ষার কাজকে মর্যাদাপূর্ণ আমল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। যারা নিজেদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রেখে দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন, তারাই সমাজ ও দেশের প্রকৃত নায়ক। তাদের জন্য হজরত মুহাম্মদ (সা.) সুখবর দিয়েছেন। এর বিনিময়ে তারা পান অগণিত সওয়াব। মৃত্যুর পরও এ সওয়াব পেতে থাকেন। নিরাপদ থাকবেন কিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে। সীমান্ত পাহারা দেওয়া অবস্থায় মারা গেলে পাবেন শহীদের মর্যাদা।

শ্রেষ্ঠ আমল

একজন সীমান্তরক্ষী সমগ্র জাতির নিরাপত্তার জন্য দায়িত্ব পালন করেন। তার সতর্কতা ও ত্যাগের কারণে অসংখ্য মানুষ নিশ্চিন্তে জীবনযাপন করতে পারে। এজন্য সীমান্ত পাহারা দেওয়া সাধারণ নফল ইবাদতের চেয়ে মর্যাদাপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর পথে এক দিন সীমান্ত পাহারা দেওয়া দুনিয়া ও দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে উত্তম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৮৯২)

মৃত্যুর পরও আমল বন্ধ হয় না

মৃত্যুর পর সাধারণত মানুষের আমলের ধারাবাহিকতা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কিছু আমল এমন রয়েছে, যেগুলোর সওয়াব মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে। এর মধ্যে সীমান্ত পাহারা অন্যতম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির আমলের ধারা বন্ধ হয়ে যায়, তবে আল্লাহর পথে সীমান্ত পাহারাদারের আমল অব্যাহত থাকে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫০০)

কিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে নিরাপত্তা

কিয়ামতের দিনটি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ ও কঠিন। সেই দিনের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পাওয়া প্রত্যেক মুমিনের কাম্য। সীমান্ত পাহারাদারদের জন্য এ বিষয়ে বিশেষ সুসংবাদ রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সীমান্ত পাহারা দিতে দিতে মারা যান, সে (কিয়ামতের) মহাভীতি থেকে নিরাপদ থাকবে।’ (সহিহুত তারগিব, হাদিস: ১২১৯)

আল্লাহর আদেশ পালন

সীমান্ত নিরাপদ না হলে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও উন্নয়ন হুমকির মুখে পড়ে। সীমান্তরক্ষীরা দেশের সার্বভৌমত্ব, জনগণের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা সবসময় বহিরাগত শত্রুর মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকেন। শত্রুর মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে আল্লাহ তাআলা আদেশ করেছেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা শত্রুদের মোকাবিলার জন্য যথাসাধ্য শক্তি প্রস্তুত রাখো।’ (সুরা আনফাল, আয়াত: ৬০)

শহীদের মর্যাদা লাভ

সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ প্রাণ উৎসর্গ করলে সে বড় মর্যাদার অধিকারী হয়। শহীদের মর্যাদা পায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে করতে মারা যান, সে শহীদের মর্যাদা লাভ করে।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৯২৪৪)