logo
Advertisement

সাইয়েদুল ইসতেগফার কী, অর্থসহ উচ্চারণ ও ফজিলত

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
সাইয়েদুল ইসতেগফার কী, অর্থসহ উচ্চারণ ও ফজিলত
তাসবিহ হাতে দোয়া করছেন এক ব্যক্তি। ছবি: পিন্টারেস্ট

মানুষ হিসেবে আমরা ভুল করি। গোনাহে জড়িয়ে পড়ি। ভুল এবং গোনাহ থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে ফিরে আসতে হবে। তওবা করতে হবে। তওবা করলে আল্লাহ মাফ করে দেন। কারণ, আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর কাছে তুমি ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৬)

আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘যে তওবা করে, ইমান আনে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহগুলো নেকি দিয়ে পরিবর্তন করেন দেবেন।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত: ৭০)

আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য ইসতেগফার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও বলেন, ‘আল্লাহর কসম, আমি দিনের মধ্যে ৭০ বারেরও অধিক ইসতেগফার এবং তওবা করে থাকি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩০৭)

আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার যতগুলো পদ্ধতি মহানবী (সা.) বর্ণনা করেছেন, এর একটি হলো সাইয়েদুল ইসতেগফার। সাইয়েদুল ইসতেগফার তওবা করার এবং ক্ষমা লাভের শ্রেষ্ঠ দোয়া।

সাইয়েদুল ইসতেগফার

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي؛ فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

সাইয়েদুল ইসতেগফারের উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি, লা ইলাহা ইল্লা আংতা, খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওদিকা মাস তাতাতু। আউজু বিকা মিন শাররি মা সানাতু, আবুউয়ু লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবুউয়ু বিজানবি, ফাগফিরলি, ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।

সাইয়েদুল ইসতেগফারের অর্থ

হে আল্লাহ, তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোনো উপাসক নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই বান্দা। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারেই আবদ্ধ। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নেয়ামত দিয়েছ, তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গোনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। কারণ, তুমি ছাড়া কেউ গোনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।

সাইয়েদুল ইসতেগফারের ফজিলত

শাদ্দাদ বিন আওস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে দিনের বেলায় বিশ্বাসের সঙ্গে সাইয়েদুল ইসতেগফার বলবে এবং সেদিন সন্ধ্যার আগে যদি সে মারা যায়, তাহলে সে জান্নাতের অধিবাসী হবে। আর যে রাতের বেলায় এ বাক্যগুলো বলবে এবং সকার হওয়ার আগে মারা যাবে, সে জান্নাতের অধিবাসী হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩০৬)

ইসতেগফার পড়ার সময়

যেকোনো সময় সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়া যায়। তবে সকাল-সন্ধ্যা এবং ঘুমানোর আগে এ বাক্যগুলো পড়ার বিশেষ সওয়াব আছে।