রাস্তায় জমে থাকা বৃষ্টির পানি কাপড়ে লাগলে নামাজ হবে?

বৃষ্টি হলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় পানি জমে যায়। কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে মানুষের চলাফেরায় ব্যাঘাত ঘটে। হাঁটতে গিয়ে বৃষ্টির জমে থাকা পানি জামা-কাপড়ে লেগে যায়। ময়লা পানিতে অপবিত্র হওয়ার শঙ্কা থাকে। কাপড়ে বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি লাগলে কাপড় নাপাক হবে কি না, এ কাপড়ে নামাজ পড়া যাবে কি না, এ বিষয়ে কারও কারও মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়।
বৃষ্টি আল্লাহর রহমত। আল্লাহ বলেন, ‘আমি আকাশ থেকে বর্ষণ করি বরকতপূর্ণ পানি, এরপর তার মাধ্যমে উগদত করি উদ্যানরাজি ও এমন শস্য, যা কাটা হয়ে থাকে। এবং সৃষ্টি করি এমন উঁচু উঁচু খেজুর গাছ, যাতে আছে গুচ্ছ গুচ্ছ দানা। (এসব) বান্দাদের জীবিকাস্বরূপ এবং (এমনিভাবে) আমি সেই পানি দিয়ে এক মৃত নগরকে সঞ্জীবিত করেছি।’ (সুরা কাফ, আয়াত: ৪৫)
আল্লাহ আরও বলেন, ‘তিনিই সে সত্তা, যিনি তারা নিরাশ হয়ে যাওয়ার পর বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং স্বীয় রহমতকে ছড়িয়ে দেন। তিনিই অভিভাবক, প্রশংসিত।’ (সুরা শুরা, আয়াত: ২৮)
বৃষ্টির কারণে রাস্তায় জমে থাকা পানি নাপাক বা অপবিত্র নয়। তবে পানিতে স্পষ্ট কোনো অপবিত্র বস্তু দেখা গেলে পানি নাপাক হবে। তা কারও কাপড়ে লাগলে কাপড় নাপাক হবে।
বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে অপবিত্র কিছু দেখা না গেলে তা কাপড়ে লাগলে কাপড় নাপাক হবে না। এই কাপড়ে নামাজ পড়লে নামাজ হবে।
বৃষ্টির পানি রাস্তা থেকে ছিটকে এসে গায়ে বা কাপড়ে লাগলে তা ধোয়া জরুরি নয়। তবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নামাজ পড়া উত্তম। কারণ, সড়কের পানি সাধারণত নাপাক নয়। তবে পানিতে নাপাক স্পষ্ট দেখা গেলে পানি নাপাক বলে ধর্তব্য হবে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারের এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘সাধারণ অবস্থায় রাস্তার কাদা বা বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি নাপাক নয়। কাদায় নাপাকি দেখা না গেলে তা পবিত্র। তাই তা কাপড়ে লাগলে কাপড় অপবিত্র হবে না। এ অবস্থায় নামাজ পড়লে নামাজ বিশুদ্ধ হবে। তবে ধোয়ার সুযোগ থাকলে এমন ময়লা কাপড়ে নামাজ না পড়াই ভালো।’
