আল্লাহর অস্তিত্বের ৬ দলিল ও হজের ঘোষণা

আজ খতমে তারাবিতে পবিত্র কোরআনের ১৭তম পারা তেলাওয়াত করা হবে। সুরা আম্বিয়া ও সুরা হজ পড়া হবে। আজকের তারাবিতে শিরক, মূর্তিপূজা, ইয়াজুজ-মাজুজের ফেতনা, জান্নাত-জাহান্নাম, মুমিনের বৈশিষ্ট্য, দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, মুশরিকদের আপত্তির জবাব, কিয়ামতের ভয়াবহতা, নবী-রাসুল পাঠানোর কারণ, হজ, পুনরুত্থান, কোরবানি, জিহাদ, মৃত্যু, আল্লাহ মুমিনের বন্ধু, আল্লাহর ক্ষমতা ও কুদরত, নামাজ, জাকাত, মানুষ সৃষ্টির উপকরণ ও সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে চিন্তা ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা হয়েছে।
নবীদের গল্প আছে সুরা আম্বিয়ায়
সুরা আম্বিয়া মক্কায় অবতীর্ণ। এর আয়াত সংখ্যা ১১২। কোরআনের ২১তম সুরা এটি। আম্বিয়া নবী শব্দের বহুবচন। এ সুরায় ১৮ জন নবীর বর্ণনা থাকায় এর নামকরণ করা হয় সুরা আম্বিয়া। নবীরা হলেন, মুসা (আ.), হারুন (আ.), ইবরাহিম (আ.), লুত (আ.), ইসহাক (আ.), ইয়াকুব (আ.), নুহ (আ.), দাউদ (আ.), সোলায়মান (আ.), আইয়ুব (আ.), ইসমাইল (আ.), ইদরিস (আ.), জুলকিফাল (আ.), ইউনুস (আ.), জাকারিয়া (আ.), ইয়াহইয়া (আ.), ইসা (আ.) ও মহানবী মুহাম্মদ (সা.)।
আল্লাহর অস্তিত্বের ৬ দলিল
সুরা আম্বিয়ার ৩০ থেকে ৩৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর অস্তিত্বের ছয়টি দলিল উল্লেখ করেছেন। এই সবগুলো মানুষ দেখতে পাচ্ছে। এর সুফলও ভোগ করছে। যথা—
- একসময় আসমান ও জমিন একত্রে মিলিত ছিল। আল্লাহ তা পৃথক করে দিয়েছেন। ফেরেশতাদের জন্য আসমান এবং মানুষের জন্য জমিনকে বাসস্থানের জন্য নির্ধারণ করেছেন।
- প্রত্যেক প্রাণীকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন।
- ভূপৃষ্ঠে পাহাড় তৈরি করেছেন, যেন মানুষের ভারের কারণে জমিন নড়াচড়া না করে।
- মানুষের চলাচলের জন্য জমিনে প্রশস্ত রাস্তা বানিয়েছেন।
- আসমানকে নিরাপদ ছাদ বানিয়েছেন। এখানে সূর্য, চাঁদ ও লাখো তারা তাদের কক্ষপথে খুব দ্রুততার সঙ্গে ঘুর্ণন করে।
- আল্লাহ রাত, দিন, সূর্য ও চাঁদ বানিয়েছেন।
রহমতের নবী মুহাম্মদ (সা.)
মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে বিপুল রহমত নিয়ে এসেছেন। তিনি জগতের সব কিছুর জন্য রহমত। তিনি শান্তি-সম্প্রীতি ও সুখের বাতাস বইয়ে দিয়েছেন পৃথিবীর ঘরে ঘরে। তাঁর আগে কেউ এমন রহমত নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করেননি। আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী, আমি তোমাকে সারা বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছি।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭)
হজের বিধান নিয়ে সুরা হজ
সুরা হজ মদিনায় অবতীর্ণ। এর আয়াত সংখ্যা ৭৮। কোরআনের ২২তম সুরা এটি। এ সুরায় হজ সম্পর্কিত বিধানের আলোচনা থাকায়, এর নাম হজ রাখা হয়েছে।
কিয়ামতের ভয়াবহতা
সুরা হজের ১ ও ২ নম্বর আয়াতে আল্লাহকে ভয় করার আদেশ দিয়েছেন তিনি। এরপর কিয়ামতের ভয়াবহতা বর্ণনা করেছেন। কিয়ামতের দিন কোনো স্তন্যপায়ীই তার দুধের শিশুকে চিনতে পারবে না। গর্ভবতী গর্ভপাত করবে। মানুষকে মাতাল দেখাবে, মূলত তারা মাতাল নয়।
হজে নিষ্পাপ হয় মানুষ
ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ হজ। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান পুরুষ ও নারীর ওপর হজ ফরজ। হজের নির্দিষ্ট সময় হলো পবিত্র মাসসমূহ বা শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ; বিশেষত ৮ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত পাঁচ দিন। এই পাঁচ দিনই মূলত হজ পালন করা হয়। হজের নির্ধারিত স্থান হলো মক্কায় অবস্থিত কাবা, সাফা-মারওয়া, মিনা, আরাফা, মুজদালিফা ইত্যাদি। আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের কাছে হজের ঘোষণা দাও, তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং দুর্বল উটে চড়ে দূর পথ পাড়ি দিয়ে।’ (সুরা হজ, আয়াত: ২৭)
হজ মানুষকে গুনাহমুক্ত জীবন দান করে। নিষ্পাপ জীবন উপহার দেয়। উভয় জীবনে দান করে সফলতা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে হজ করল এবং হজ অবস্থায় কথা ও কাজে পাপ থেকে বিরত থাকল, সে হজ শেষে সেই দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে ঘরে ফিরবে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিলেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৫২১)
কোরবানিতে মেলে আল্লাহর নৈকট্য
সুরা হজের ৩৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বিশ্বাসী মানুষের ওপর কোরবানি ফরজের ঘোষণা দিয়েছেন। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সকাল থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের আগে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট পশু জবাই করাকে কোরবানি বলে। ইসলামে কোরবানি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সামর্থ্যবান নারী-পুরুষের ওপর ওয়াজিব। প্রথম নবীর যুগ থেকে শুরু করে সব নবীর শরিয়তে কোরবানি ছিল। তবে প্রত্যেক নবীর কোরবানির পদ্ধতি ছিল ভিন্ন রকম।
মহানবী (সা.) মদিনায় ১০ বছর বেঁচে ছিলেন, প্রতিবছরই তিনি কোরবানি করেছেন। কোরবানি করতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। এখানে গোশত খাওয়া কিংবা লোক দেখানোর নিয়ত থাকলে কোরবানি হবে না। আল্লাহ বলেন, ‘কোরবানির গোশত বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, আল্লাহর কাছে পৌঁছায় শুধু তোমাদের নিষ্ঠাপূর্ণ আল্লাহ সচেতনতা।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭)