পাকা চুল বা দাড়ি তুলে ফেললে কি গুনাহ হবে

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের মাথার চুল ও দাড়ি পাকতে শুরু করে। কারও আবার বয়স হওয়ার আগেই চুল পাকা শুরু হয়ে যায়। পাকা চুল বা দাড়ি নিয়ে অনেকে বিব্রত বোধ করেন। বয়স লুকানোর জন্য সাদা চুল বা দাড়ি তুলে ফেলেন কেউ কেউ। প্রশ্ন হলো, সাদা চুল বা দাড়ি তুলে ফেলা জায়েজ কি না?
হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাদা চুল বা দাড়ি তুলে ফেলতে নিষেধ করেছেন। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকা চুল মানুষের জন্য রহমত। মানুষের চুল পাকায় রয়েছে অনেক ফজিলত ও মর্যাদা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাদা চুল উঠাবে না। কারণ, এগুলো কেয়ামতের দিন আলো হবে। আর যে (মুসলিম) ব্যক্তির চুল বার্ধক্যের কারণে সাদা হয়, তার প্রতিটি সাদা চুলের বিপরীতে একটি করে সওয়াব লেখা হয়, একটি করে গুনাহ মাফ করা হয় এবং একটি করে মর্যাদা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ৪৪৫৮)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পাকা চুল-দাড়ি উঠাবে না। কেননা কোনো মুসলিম ইসলামের মধ্যে থেকে চুল পাকালে, এটা তার জন্য কেয়ামতের দিন উজ্জ্বল আলো হবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৬৩৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) পাকা চুল উপড়ে ফেলতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা সাদা পাকা চুল উপড়ে ফেলো না। কেননা, কেয়ামতের দিন তা মুসলিমের জন্য জ্যোতি হবে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪২০৪)
বার্ধক্যের কারণে চুল-দাড়ি পেকে গেলে তাতে কালো খেজাব বা কলপ ব্যবহার করা নাজায়েজ। একাধিক হাদিসে এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে। হাদিসে এসেছে, ‘মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর পিতা আবু কুহাফা (রা.)-এর চুল এবং দাড়ি পাকা দেখে বললেন, এটাকে কোনো কিছু দ্বারা পরিবর্তন কর। তবে কালো থেকে বিরত থাক।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৪৬৬)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘শেষ জমানায় কিছু লোক কবুতরের ঝুঁটির মতো কালো খেজাব ব্যবহার করবে, তারা কেয়ামতের দিন জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪২০৯)
অবশ্য কোনো যুবকের অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে যদি চুল-দাড়ি পাকার বয়সের আগেই সাদা হয়ে যায়, তবে সে কালো খেজাব ব্যবহার করতে পারবে। আহমাদ আলি সাহারানপুরী (রহ.) বলেন, হাদিসে কালো খেজাব ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। এর মূল কারণ অন্যদের সামনে বয়স গোপন করা এবং অন্যকে ধোঁকা দেওয়া। (হাশিয়া সহিহ বুখারি, ১/৫৩০)
যুবকের ক্ষেত্রে ধোঁকার এই দিকটি অনুপস্থিত। তাই কোনো কোনো ফকিহ যুবকদের জন্য কালো খেজাব জায়েজ হওয়ার মত দিয়েছেন। (ফায়যুল কাদির, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৩৬)
অবশ্য হাদিসে যেহেতু কালো খেজাবকে বিশেষভাবে নিষেধ করা হয়েছে, তাই যুবকদের জন্যও একেবারে কালো খেজাব ব্যবহার না করে লাল-কালো মিশ্রিত খেজাব ব্যবহার করাই উচিত হবে। (ফায়যুল কাদির, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৩৬)
বার্ধক্যের কারণে চুল পেকে গেলে কালো খেজাব ছাড়া অন্য খেজাব ব্যবহার করা মুস্তাহাব। যেমন রাসুল (সা.) আবু কুহাফা (রা.)-কে কালো খেজাব ছাড়া অন্য খেজাব ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। (আলকাউসার, প্রশ্ন: ৩৪৭৬)


