আগামী হজে বিমানভাড়া কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা কমবে: বিমান প্রতিমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, সরকার হজের খরচ কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। বিমানভাড়া সর্বনিম্ন যতটুকু না নিলেই নয়, শুধু সেটুকুই নেওয়া হবে। আগামী বছর বিমানভাড়া কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে হাজযাত্রীদের মধ্যে নুসুক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে লিড এজেন্সি আমিন ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের মাধ্যমে হজে যাওয়া ১৪টি এজেন্সির হাজযাত্রীদের মধ্যে নুসুক কার্ড বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দেশ থেকেই নুসুক কার্ড হাতে পেয়ে যাচ্ছেন হজযাত্রীরা। এর মাধ্যমে তাদের ভোগান্তি অনেক কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার ওবায়দুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন—প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন, হজ মনিটরিং কমিটির সদস্য শামীম কায়সার লিংকন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলাম ও যুগ্ম সচিব ড. মঞ্জুরুল হক, হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমদ মজুমদার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—রাওয়াফ মিনার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এহসান কাতেব ও হেড অব রাওয়াফ মিনা সার্ভিস সেন্টার লুয়াই ফয়সাল আবদুল্লাহ খান। এ সময় হাবের সহসভাপতি শামীম সাঈদীসহ অন্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, হজ ব্যবস্থাপনা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী রোববার হজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, হজ এজেন্সিগুলো যদি হাজযাত্রীদের সঠিকভাবে সেবা না দেয় তাহলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। একইভাবে বিমান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও ৩৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে হাজিদের সেবায়। তাদের কেউ যদি সঠিকভাবে সেবা না দেয় তাহলে তাদের চাকরিচ্যুত করা হবে।
তিনি বলেন, নতুন সরকারের সময়ে এই প্রথমবারের মতো দেশে বসেই হাজযাত্রীরা নসুক কার্ড হাতে পেয়ে যাচ্ছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। আগামীতে হজ ব্যবস্থাপনা যাতে আরও সুন্দর ও আধুনিকভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, দেশে এই প্রথমবারের মতো এ ধরনের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা হজ ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আগামীতে দেশের হজ ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও হাজিবান্ধব করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় বদ্ধ পরিকর। মূলত ইসলাম ধর্মের ফরজ এই ইবাদত যাতে সবাই সুন্দরভাবে পালন করতে পারেন সেজন্য কীভাবে হজের খরচ আরও কমানো যায় সে ব্যাপারে কাজ করবে সরকার। আগামীতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সরকার আরও আধুনিক ও আন্তর্জা তিক মানের হজ ব্যবস্থাপনা উপহার দিতে পারবে বলে প্রত্যাশা করছি।
সংসদ সদস্য শামীম কায়সার বলেন, বর্তমান সরকার হজের প্রস্তুতির জন্য খুবই কম সময় পেয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিময় নেতৃত্বে আমরা এবার একটি সুশৃঙ্খল হজ উপহার দিতে পারব বলে আশা করছি। সৌদিতে যেখানেই লাল-সবুজের হজ মিশনের অফিস থাকবে সেখান থেকে হাজিরা সেবা নিতে পারবেন। নুসুক কার্ড খুবই গুরুত্বপূণ একটি পরিচয়। যেটা হারিয়ে গেলে হাজিরা বিপদে পড়েন। এটি দেশ থেকে আগেই দিয়ে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।
হাব মহাসচিব ফরিদ আহমদ মজুমদার বলেন, নুসুক কার্ডের গুরুত্ব অত্যাধিক। নুসুক কার্ড না থাকলে হারাম শরিফে প্রবেশ করা যায় না। এমনকি শ্রমিকদের সঙ্গে যে আচারণ করা হয় সে আচারণের শিকার হন হাজিরা। তারা আটকও হয়ে যেতে পারেন। এজন্য এবারই প্রথম সরকার দেশ থেকেই নুসুক কার্ড বিতরণের যে উদ্যোগ নিয়েছে তা খুবই প্রশংসাযোগ্য। তবে এ কার্ড বিতরণে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কার্ড আগেই দিয়ে দিলে হজযাত্রীরা দেশে রেখে চলে যেতে পারে বা হারিয়ে ফেলতে পারে। তখন আর দ্বিতীয় কার্ড করা যাবে না। এজন্য যাওয়ার আগে বিমানে এ কার্ড বিতরণের পরামর্শ দেন তিনি।