logo

স্বজনের কান্নাকাটির কারণে মৃত ব্যক্তির কবরে আজাব হবে?

স্বজনের কান্নাকাটির কারণে মৃত ব্যক্তির কবরে আজাব হবে?

প্রিয়জন বা নিটকাত্মীয় মারা গেলে মানুষ ব্যথিত হয়। কষ্ট অনুভব করে। কষ্টের তীব্রতা বেশি হলে অশ্রু ঝরে। কান্না করে। বিপদ বা কষ্ট পেলে ব্যথিত হওয়া বা কান্না করা মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। ইসলাম এগুলো নিষিদ্ধ করেনি। 

স্বজন হারানোর বেদনায় কাঁদা যাবে?
ইসলামে মৃতব্যক্তির জন্য কাঁদা জায়েজ। মহানবী (সা.) প্রিয়জনদের বিচ্ছেদে ব্যথিত হয়েছেন। কেঁদেছেন। চোখের পানি ফেলেছেন। আনাস (রা.) বলেন, ‘নবীজি (সা.)-এর ছেলে ইবরাহিম মারা গেলে তাঁর দুই চোখ থেকে অশ্রু ঝরছিল। আব্দুর রহমান ইবনে আউফ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আপনিও কান্না করছেন? তিনি বললেন, এটা রহমত ও দয়ার কারণে হয়। আমার অন্তর ব্যথিত হয়, চোখে অশ্রু আসে, তবে আমরা তাই বলব, যাতে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন। ইবরাহিম, তোমার বিচ্ছেদে আমরা সবাই ব্যথিত।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১২২৫)

উসামা (রা.) বলেন, ‘একবার আমরা নবী (সা.)-এর কাছে ছিলাম। এর মধ্যে তাঁর এক মেয়ের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে লোক আসল, তার ছেলে (জয়নব (রা.)-এর ছেলে) মারা যাচ্ছে। নবীজি (সা.) উঠে গেলেন। তাঁর সঙ্গে সাদ বিন উবাদা ও মুয়াজ বিন জাবালও উঠে গেলেন। শিশুটিকে তাঁর কাছে দেওয়া হলো। সে সময় শিশুটির প্রাণ ছটফট করছিল, যেন সেটি পানির মশকের ভেতর। তখন নবী (সা.)-এর দুচোখ অশ্রু সিক্ত হলো। তা দেখে সাদ বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, এটা কি? তিনি বললেন, এটি রহমত, যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মনে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে শুধু দয়াবানদের প্রতি দয়া করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১২৮৪) 

যেসব কাজ করা যাবে না
মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে কান্না করা, গালে চপেটাঘাত করা, জামাকাপড় ছেঁড়া নাজায়েজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে গালে চপেটাঘাত করে, জামাকাপড় ছিঁড়ে এবং জাহেলি (অন্ধ) যুগের আর্তনাদ করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১২৯৪) 

ইমাম নববি (রহ.) বলেন, ‘মর্সিয়া-ক্রন্দন, বিলাপ করা, গালে চড় মারা, জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলা, চেহারাতে খামচি মারা, চুল ছেড়া ও হায়হুতাশ করে আর্তনাদ করা—এই সবকিছু মাজহাবের আলেমদের সর্বসম্মতিক্রমে হারাম।’ (শারহুল মুহাজ্জাব, খণ্ড:৫, পৃষ্ঠা: ২৮১) 

স্বজনের কান্নাকাটির কারণে মৃত ব্যক্তির কবরে আজাব হয়?
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ার‌ম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘মৃত ব্যক্তির বেদনায় কান্নাকাটি করা, চোখের পানি ফেলা নিষিদ্ধ নয়। তবে শরিয়তের সীমানা লঙ্ঘন করা যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর ছেলের মৃত্যুর পর তিনি চোখের পানি ফেলে কেঁদেছিলেন। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিকট শব্দে বা বিলাপ করে কান্না করতে নিষেধ করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘জীবদ্দশায় ব্যক্তি যদি জানতেন, মৃত্যুর পর তার স্বজনরা তার জন্য বিলাপ করে কান্না করবে। এটা জানার পরও যদি তিনি তাদের নিষেধ না করেন, তাহলে তার কবরে আজাব হবে। এ রকম না হলে তার কবরে আজাব হবে না। যারা বিলাপ করছেন, তাদের গোনাহ হবে।’

যেভাবে শোক পালন করবেন
শায়খ বিন বাজ (রহ.) বলেন, ‘প্রিয়জন মারা গেলে জীবিতদের ওপর আবশ্যকীয় হলো, ধৈর্যধারণ করা। আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করা। বিলাপ করে কান্না, জামাকাপড় ছেঁড়া ও গালে চপেটাঘাত করা যাবে না।’ মৃত ব্যক্তির নাজাতের জন্য দোয়া করতে হবে। তাঁর জন্য জান্নাতের প্রত্যাশায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে। 

মৃতের স্বজনদের জন্য তিন দিন শোক পালন করার অনুমতি আছে। স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রী চার মাস দশ দিন শোক পালন করবেন।