logo

রোজা আল্লাহর জন্য, তিনি এর প্রতিদান দেবেন

রোজা আল্লাহর জন্য, তিনি এর প্রতিদান দেবেন

রোজা শুধু আল্লাহর জন্য। তিনিই এ রোজার প্রতিদান দেবেন। হাদিসে কুদসিতে আছে, আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা এর ব্যতিক্রম—তা শুধু আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৫১) 

যাবতীয় নেক আমলের মাঝে রোজা রাখার গুরুত্ব আল্লাহর কাছে এত বেশি, তিনি নিজেই রোজার প্রতিদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রা.) যখন বলেছিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে অতি উত্তম কোনো নেক আমলের নির্দেশ দিন। রাসুল (সা.) বলেছিলেন, ‘তুমি রোজা রাখো। কারণ, এর সমমর্যাদার আর কোনো আমল নেই।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২২২৩)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মানব সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, কিন্তু রোজার বিষয়টি ভিন্ন। কেননা, রোজা শুধু আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১০১৭৫)

রোজা জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢাল
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রোজা হলো ঢাল ও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার মজবুত দুর্গ।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৯২২৫)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে আল্লাহর জন্য এক দিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তার থেকে জাহান্নামকে এক খরিফ (৭০ বছরের) দূরত্বে সরিয়ে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৫৩ 

জান্নাত লাভের মাধ্যম রোজা
জান্নাতের একটি দরজার নাম রাইয়ান। এ দরজা দিয়ে শুধু রোজাদাররাই প্রবেশ করতে পারবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে। যার নাম রাইয়ান। কেয়ামতের দিন রোজাদারগণই শুধু সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবেন। তাদের ছাড়া অন্য কেউ সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। সেদিন ঘোষণা করা হবে, রোজাদাররা কোথায়? তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবে এবং সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। তাদের প্রবেশ শেষ হবে, তখন দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফলে তারা ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৯৬)

 

রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের চেয়েও উত্তম
নবী (সা.) বলেছেন, ‘যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন সেই সত্তার শপথ, রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহ তাআলার কাছে মেশকের ঘ্রাণ থেকেও প্রিয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৫১)

কেয়ামতের দিন রোজা সুপারিশ করবে
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, ‘রোজা ও কোরআন কেয়ামতের দিন মানুষের জন্য এভাবে সুপারিশ করবে যে রোজা বলবে, হে প্রতিপালক, আমি দিনের বেলা তাকে পানাহার ও সহবাস থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল করো। কোরআন বলবে, হে প্রতিপালক, আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি, তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল করো। তিনি বলেন, এরপর উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৬৬২৬)

রোজার মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়
মানুষ যখন পরিবার-পরিজন, প্রতিবেশী ও ধন-সম্পদের কারণে গুনাহ করে ফেলে, তখন নামাজ, রোজা, সদকা সে গুনাহগুলো মিটিয়ে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে রমজান মাসে ঈমান ও ইহতিসাবের সঙ্গে রোজা রাখবে, তার অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বল, পৃষ্ঠা : ৪০২)

রোজাদারের দোয়া কবুল হয়
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, ‘ইফতারের সময় রোজাদার যখন দোয়া করেন, তখন তার দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’ (জামিউল আহাদিস, হাদিস : ১৮৬৮৩)