logo

শবেকদরে নামাজ পড়ার নিয়ম, নিয়ত ও দোয়া

শবেকদরে নামাজ পড়ার নিয়ম, নিয়ত ও দোয়া
নামাজ পড়ছেন মুসল্লি। সংগৃহীত ছবি

মুমিন জীবনের সেরা রাত শবেকদর। এ রাত হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এ রাতের প্রতিটি সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান। আল্লাহ বলেন, ‘কদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।’ (সুরা কদর, আয়াত: ৩)

শব ফারসি শব্দ, অর্থ রাত। কদর আরবি শব্দ, অর্থ মর্যাদা বা ভাগ্য। আরবিতে এ রাতকে লাইলাতুল কদর বলা হয়। কোরআনে এ রাতকে লাইলাতুল কদর বলা হয়েছে। এ রাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছিল। এ রাতে আল্লাহ তাআলা মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করেন। ক্ষমাপ্রার্থীকে ক্ষমা করেন। তওবাকারীর তওবা করেন। প্রয়োজনপ্রত্যাশীর প্রয়োজন পূরণ করেন। মানুষের ডাকে সাড়া দেন। তাদের মনের আশা পূর্ণ করেন। এ রাতে আমল-ইবাদত করার বহু ফজিলত আছে। 

শবেকদরে নামাজের বিধান 
কদরের রাতে নির্দিষ্ট কোনো ওয়াজিব বা সুন্নত নামাজ নেই। ‘কদরের নামাজ’ বলেও কোনো নামাজের কথা কোরআন-হাদিসে নেই। ইচ্ছামতো নফল নামাজ পড়া যাবে। তবে নামাজ পড়াকে আবশ্যকীয় মনে করা যাবে না। অনেকে রাকাত সংখ্যা নির্দিষ্ট করে নফল পড়তে চান, এটা ঠিক নয়। 

শবেকদরে নামাজ পড়ার নিয়ত
বরকতময় ও ফজিলতপূর্ণ রাত হিসেবে বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া যেতে পারে। এ জন্য অন্যান্য নফল নামাজের মতো নিয়ত করবে। মানুষের মনের ইচ্ছায় নিয়ত। যখন নামাজের জন্য দাঁড়াবে, তখন মানুষের মাথায় থাকে কোন ওয়াক্তের নামাজ সে আদায় করছে। কদরের রাতে যখন কোনো নফল নামাজ পড়ার জন্য আমরা দাঁড়াই, তখন আমাদের স্মরণে থাকে, আমি নফল নামাজ আদায় করছি—এই স্মরণটাই মূলত নিয়ত। তবে স্মরণে বা নিয়তে কদরের নামাজ বলা যাবে না। কারণ, কদরের নামাজ বলতে কোনো নামাজ নেই। এভাবে নিয়ত করা যায়, ‘আমি কিবলামুখী হয়ে দুই রাকাত নফল নামাজের নিয়ত করছি।’ এরপর আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু করা। যারা বিশুদ্ধভাবে আরবি বলতে পারেন, তারা আরবিতেও নিয়ত করতে পারেন। আরবি নিয়ত করা আবশ্যকীয় নয়। আরবি নিয়তটি হলো— 

বাংলা উচ্চারণ: ‘নাওয়াইতু আন উসল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকআতাই সালাতি লাইলাতিল কদর-নাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা-জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।’

বাংলা অর্থ: আমি কাবামুখী বা কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) জন্য কদরের রাতে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম, আল্লাহু আকবার।

কদর নামাজের নিয়ম
শবেকদরের যেহেতু নির্দিষ্ট নামাজ নেই, তেমনি নামাজ আদায়ের বিশেষ পদ্ধতি নেই। কত রাকাত নামাজ আদায় করতে হবে, এরকমও কোনো বিষয় নেই। অন্যান্য নফল নামাজের মতো দুই রাকাত করে নফল নামাজ আদায় করা যেতে পারে। এটিই উত্তম। এ নামাজের নির্দিষ্ট সুরা নেই। নিজের পছন্দমতো সুরা পড়া যাবে। 

শবেকদরের দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) এ রাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া শিখিয়েছেন। আয়েশা (রা.) একবার মহানবী (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমি যদি জানতে পারি আজ কদরের রাত, তাহলে আমি কী দোয়া পড়ব। মহানবী (সা.) বললেন, তুমি বলো—

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউয়ুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফাফু আন্নি।

অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা পছন্দ করেন। তাই আমাকে ক্ষমা করুন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫১৩)