logo

তারাবি নামাজ না পড়লে রোজা হবে কি?

তারাবি নামাজ না পড়লে রোজা হবে কি?

রোজা ইসলামের মূল পাঁচ ভিত্তির তৃতীয়। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আমল। ইসলামের বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক সুস্থ ও বিবেকসম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য রমজান মাসের প্রতিদিন রোজা রাখা ফরজ। আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা খোদাভীরু হতে পারো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩) 

রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমল তারাবির নামাজ। তারাবির নামাজ পড়তে হয় এশার নামাজের ফরজ ও সুন্নত পড়ার পর এবং বিতর নামাজের আগে। তারাবি নামাজের অনেক ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা রোজা তোমাদের ওপর ফরজ করেছেন এবং আমি তোমাদের জন্য তারাবি নামাজ সুন্নত করেছি। যে রমজানে ইমান এবং সওয়াবের আশায় রোজা রাখবে ও তারাবি নামাজ পড়বে, সে তার সব গুনাহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হবে, যেভাবে একটি শিশু নিষ্পাপ অবস্থায় জন্মায়।’ (সুনানে নাসায়ি, পৃষ্ঠা : ২৩৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে এবং সওয়াবের আশা নিয়ে রমজানে তারাবি নামাজ পড়বে, তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৬)

তারাবি নামাজ পড়া ফরজ বা ওয়াজিব নয়। এটি সুন্নত। কেউ যদি দিনের বেলা রোজা রাখে, রাতে তারাবি নামাজ না পড়ে, তাহলেও তার ফরজ রোজা আদায় হয়ে যাবে। তারাবির নামাজের সঙ্গে রোজার কোনো সম্পর্ক নেই। তারাবি নামাজ না পড়লেও রোজা হয়ে যাবে। কিন্তু সুন্নত ও তারাবির মাধ্যমে তার যে মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ ছিল, তা থেকে সে বঞ্চিত হলো। 

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, তারাবি নামাজ না পড়লেও রোজা আদায় হয়ে যাবে। রোজা ও তারাবি দুটি ভিন্ন ইবাদত। রোজা ফরজ ইবাদত, যা প্রত্যেক সক্ষম মুসলমানের ওপর বাধ্যতামূলক। তারাবি সুন্নতে মুয়াক্কাদা, যা পড়লে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়, কিন্তু না পড়লে রোজার ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না। তবে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে তারাবি ছেড়ে দেবে, তারা সুন্নত ছাড়ার কারণে সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে। তারাবি নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকা উচিত নয়।