logo

আজানের দোয়া 

আজানের দোয়া 

আজান অর্থ ডাকা, আহ্বান করা। আজান হলো, জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে মানুষকে মসজিদে একত্রিত করার জন্য আরবি নির্দিষ্ট বাক্যের মাধ্যমে ডাকা। মোটকথা, আজান হলো নামাজের জন্য আহ্বান। 

আজান শুনে মৌখিকভাবে এর উত্তর দেওয়া সুন্নত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা আজান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিনের মতো তোমরাও বলবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১১)

আজান শেষে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়া মুস্তাহাব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যখন আজান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে, তোমরা তাই বলে আজানের জবাব দেবে। এরপর আমার ওপর দরুদ পড়বে। কেননা যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পড়ে, আল্লাহ তার ওপর দশটি রহমত নাজিল করেন। এরপর তোমরা আমার জন্য উসিলার (মাধ্যম) দোয়া করবে। কেননা জান্নাতে এমন একটি জায়গা আছে, যা আল্লাহর এক বিশেষ বান্দা লাভ করবে। আমি আশাবাদী, আমি হব সেই বান্দা। অতএব, যে আমার জন্য উসিলার দোয়া করবে, তার জন্য আমার শাফায়াত (সুপারিশ) আবশ্যক হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৮৪)

আজানের জবাব শেষে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ শরিফ পড়ে আজানের দোয়া পড়তে হবে। দোয়াটি হলো—

اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ إنك لا تخلف الميعاد 

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বা হাজিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াস সালাতিল কয়িমাতি, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়া সিলাতা ওয়াল ফাজিলাতা, ওয়াবা আসহু মাকামাম মাহমুদা নিল্লাজি ওয়া আদতাহু। ইন্নাকা লা তুখলিফুল মিআদ।

অর্থ: হে আল্লাহ, এই পরিপূর্ণ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত নামাজের প্রতিপালক তুমিই। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে দান করো উসিলা (সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান) ও সুমহান মর্যাদা। তাঁকে সেই প্রশংসিত স্থানে পৌঁছে দাও, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাঁকে দিয়েছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করো না।

 

আজানের শব্দগুলো এখানে উল্লেখ করা হলো—
আল্লাহু আকবার ৪ বার। আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ২ বার। আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ ২ বার। হাইয়া আলাস সালাহ ২ বার। হাইয়া আলাল ফালাহ ২ বার। আল্লাহু আকবার ২ বার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ১ বার। 

ফজর নামাজের আজানে ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’ দুই বার বলার পর ‘আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম’ দুই বার বলতে হবে।