logo
Advertisement

সন্তানের পাপের কারণে কি মা-বাবার কবরে শাস্তি হবে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
সন্তানের পাপের কারণে কি মা-বাবার কবরে শাস্তি হবে
সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় আমানত। । ছবি: পিন্টারেস্ট

মা-বাবা সন্তানের নির্ভরতা ও নির্ভয়ের আশ্রয়স্থল। সন্তানের জন্য মা-বাবার চেয়ে আপন পৃথিবীতে আর কেউ নেই। মায়ের হৃদয়জুড়ে থাকে সন্তানের জন্য নির্ভেজাল ভালোবাসা। বাবার মনে থাকে সন্তানের জন্য শুভকামনা।

সন্তান মা-বাবার কাছেই ভালো-মন্দের শিক্ষা পায়। আশপাশের সবকিছু বুঝতে শেখে। তার মন-মনন তৈরিতে মা-বাবার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক সন্তানই ইসলামের ফিতরাতের (স্বভাব) ওপর জন্মগ্রহণ করে। এরপর তার মা-বাবা তাকে ইহুদি, খ্রিষ্টান অথবা অগ্নিপূজক বানায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩৫৮)

সন্তান গুরুত্বপূর্ণ আমানত

সন্তান আল্লাহর দান। আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় আমানত। আল্লাহ এর মাধ্যমে পরীক্ষা করেন, বান্দা এই আমানতের যথাযথ হেফাজত করে কি না। আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রেখ, তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের সন্তান-সন্ততি তোমাদের জন্য এক পরীক্ষা। আর মহা পুরস্কার রয়েছে আল্লাহরই কাছে।’ (সুরা আনফাল, আয়াত: ২৮)

সন্তানের ইমান, আকিদা, বোধ-বিশ্বাস, চিন্তা-চেতনা, আমল-আখলাক, জীবন যাপন প্রভৃতির বিষয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া মা-বাবার কর্তব্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা যদি বান্দাকে কারও দায়িত্বশীল বানান আর সে নিজ অধীনস্তদের কল্যাণের ব্যাপারে যত্নশীল না হয়, তাহলে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭১৫০)

মা-বাবার দায়িত্ব

সন্তানকে আল্লাহর অনুগত বান্দা হিসেবে গড়ে তোলা এবং শয়তানের সবধরনের গোলামি থেকে দূরে রাখা মা-বাবার দায়িত্ব। তাই সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়, এতে কোনো সন্দেহ নেই। মা-বাবার দোয়া, মুসাফিরের দোয়া ও মজলুমের দোয়া।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৩৬)

সন্তান মানুষের হওয়ার ক্ষেত্রে মা-বাবার বড় ভূমিকা আছে। এজন্য নবীরা তাদের সন্তানের জন্য দোয়া করতেন।

সন্তানের জন্য দোয়ার পাশাপাশি তাকে ইসলামি শিক্ষা দিতে হবে, তাকে ভালো ও সুন্দর উপদেশ দিতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদাররা, তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে (স্ত্রী-সন্তান) জাহান্নামে আগুন থেকে বাঁচাও।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত: ৬)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, মা-বাবা সন্তানকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য পদক্ষেপ না নিলে সন্তানের পাপাচারের দায়ভার তাদেরও বহন করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের দিকে মানুষকে আহ্বান করে (পথ দেখায়), সে যেন নিজে সেই কাজটি করেছে, এমন সওয়াব পাবে। তবে আমলকারীর সওয়াব এতটুকুও কমবে না। আবার কেউ মন্দ কাজের প্রচলন করলে এবং তার অনুসরণ করা হলে তার ওপর নিজের গুনাহ বর্তাবে উপরন্তু তার অনুসারীদের সম-পরিমাণ গুনাহের অংশীদারও হবে। কিন্তু তাতে অনুসরণকারীদের গুনাহের পরিমাণ একটুও কমানো হবে না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২০৩)

তবে মা-বাবা সন্তানকে পাপাচার ও গুনাহ থেকে বিরত রাখা, তাদের সঠিক ইসলামি শিক্ষা দেওয়া এবং তাদেরকে পাপাচারের প্রতি উৎসাহ না দেওয়ার পরও যদি সন্তান পাপাচারে লিপ্ত হয়, তাহলে সন্তানের পাপের জন্য মা-বাবাকে কবরে শাস্তি ভোগ করতে হবে না। এদিকে সন্তান মা-বাবার দেখানো পথ অনুযায়ী নেক আমল করলে মা-বাবা কবরে এর সওয়াব পাবেন।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘মা-বাবা মারা যাওয়ার পর সন্তান খারাপ কাজ করলে এর দায়ভার সন্তানের ওপর বর্তাবে, মা-বাবার ওপর নয়। সন্তানের খারাপ কাজের কারণে মা-বাবাকে দোষারোপ বা গালমন্দ করা উচিত নয়। তবে কোনো সন্তানের খারাপ হওয়ার বিষয়ে মা-বাবা জানতে পারলে তাদের কর্তব্য হলো, সন্তানকে ভুল পথে না যেতে অসিয়ত করা।’

অসিয়ত করার পরও যদি সন্তান পাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে এর দায়ভার মা-বাবার ওপর বর্তাবে না বলে জানান শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘তবে মা-বাবা জেনেও যদি সন্তানকে ভুল পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা না করেন, অসিয়ত না করেন, তাহলে এর দায়ভার মা-বাবার ওপর কিছু না কিছু বর্তাতে পারে।’