যে পাপে জনপদকে উল্টিয়ে পরিণত করা হয় মৃত সাগরে

লুত (আ.) ইবরাহিম (আ.)-এর ভাতিজা। তাঁর বাবার নাম হারান। তিনি বাবা-দাদার ধর্ম ছেড়ে ইবরাহিম (আ.)-এর ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। ইবরাহিম (আ.)-এর সঙ্গেই মাতৃভূমি ব্যাবিলন ছেড়ে কানআন চলে আসেন, যাকে ফিলিস্তিন বলা হতো। কানআন শাম পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার কারণে শামও বলা হয়। (আল কোরআনের ভৌগলিক ইতিহাস, সাইয়েদ সুলাইমান নদভি, অনুবাদ: আবদুস সাত্তার আইনী, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৭২)
পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘লুত তাঁর (ইবরাহিমের আ. ধর্মের) প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করল। ইবরাহিম বলল, আমি আমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে হিজরত (দেশ ত্যাগ) করছি। তিনি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ২৬)
একসময় ইবরাহিম ও লুত (আ.) মিসরে থাকতেন। সেখানে তাদের যথেষ্ট পরিমাণ ধন-সম্পদ, আসবাবপত্র ও পশুর বড় বড় পাল ছিল। একই মাঠে পশু চরানো হতো। রাখালরা নিজ মালিকের পশুকে চারণভূমিতে আগে চরাতে চাইতেন। এ নিয়ে রাখালদের মধ্যে বিবাদ লেগে যেত। চাচা-ভাতিজা পরামর্শ করলেন। সিদ্ধান্ত নিলেন, লুত (আ.) সাদুম ও আমুরায় চলে যাবেন। সেখানে হানাফি ধর্ম বা একাত্ববাদ প্রচার করবেন। এদিকে ইবরাহিম (আ.) চলে যান ফিলিস্তিনে। (কাসাসুল কোরআন, মাওলানা হিফজুর রহমান, অনুবাদ: আবদুস সাত্তার আইনী, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৬৭)
ইতিহাস গ্রন্থে পাওয়া যায়, আল্লাহ লুত (আ.)-কে পাঁচটি জনপদের লোকদের কাছে পাঠিয়ে ছিলেন। সেগুলো হলো সাদুম, আমুরা, আদমাহ, সাবআহ ও সারা। সাদুম ও আমুরা বা এ নগরীগুলো জর্ডানের পূর্ব দিকে অবস্থিত। বর্তমান মৃত সাগরের আশপাশেই এরা বসবাস করত। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় গোত্র ছিল সাদুম। চার লাখের কাছাকাছি তাদের জনসংখ্যা ছিল। (আল মুফাসসাল ফি তারিখিল আরব কবলাল ইসলাম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৩৩; তাফসিরে মাআরিফুল কোরআন, মাওলানা মুহাম্মাদ ইদরিস কান্ধলভি, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ আল ফারুক, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৩৫৭)
সাদুম ও এর আশপাশের লোকজন ছিল মূর্তিপূজক। এক আল্লাহ মানত না। আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার ঠিক করত। তারা ছিল প্রথম শ্রেণির বদমাইশ। দুর্বল ও অসহায় মানুষদের ওপর নির্যাতন করত তারা। কবুতর বাজি ধরত। ব্যবসায়ীদের ধন-সম্পদ লুট করত। রাহাজানি করত। বালকদের সঙ্গে অশ্লীল কাজ করত। এই হতভাগা জাতি পৃথিবীতে প্রথম সমকামিতা উদ্ভাবন করেছিল। তাদের আগে পৃথিবীতে এই নিকৃষ্ট কাজ কেউ করেনি। তারা এতটাই নির্লজ্জ ছিল যে, প্রকাশ্যে এসব করে বেড়াত। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ করো লুতের কথা, যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, অবশ্যই তোমরা এমন এক অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের আগে বিশ্বজগতে কেউ করেনি। তোমরা (কামতাড়িত হয়ে) পুরুষদের কাছে যাও, রাহাজানি কর এবং নিজেদের মজলিসে ঘৃণ্য কাজ কর।’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ২৮-২৯)
আরেক আয়াতে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা তো কামতৃপ্তির জন্য (কামরিপু চরিতার্থ করার জন্য) নারী ছেড়ে পুরুষের কাছে গমন করো, (সুনিশ্চিত কথা যে,) তোমরা তো সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ৮০-৮১)
এখানে লুত (আ.) তাঁর সম্প্রদায়ের তিনটি গুরুতর পাপের কথা উল্লেখ করেছেন। এক. পুংমৈথন বা সমকামিতা, দুই. রাহাজানি ও তিন. মজলিসে সবার সামনে অপকর্ম করা। কোরআন তৃতীয় পাপকাজের কথা নির্দিষ্ট করেনি। এতে বুঝা যায়, গুনাহ প্রকাশ্যে করাও স্বতন্ত্র গুনাহ। কেউ কেউ বলেছেন, সবার সামনে তারা পথিকদের গায়ে পাথর ছুড়ে মারত, তাদের প্রতি বিদ্রুপাত্মক ধ্বনি দিত, গালমন্দ করত, মদপান ইত্যাদি করত। (তাফসিরে মাআরেফুল কোরআন, মুফতি মুহাম্মাদ শফি, অনুবাদ: মাওলানা মুহিউদ্দিন খান, পৃষ্ঠা: ১০২৮)
লুত (আ.) তাদের অনেক বুঝালেন। মূর্তিপূজা ছেড়ে আল্লাহকে মানার কথা বললেন। মন্দ ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত হওয়ার আহ্বান জানালেন। তাদের নিকৃষ্ট কাজগুলোর কুফল তুলে ধরলেন। সৎ পথে ফিরে এসে নতুন জীবন শুরুর বিনিময়ে জান্নাতের সুসংবাদ দিলেন। পৃথিবীতে তাদের আরও সমৃদ্ধিশীল জীবন হবে তাও বললেন। নবীর উপদেশ শুনে সম্প্রদায়ের লোকেরা ক্ষোভে ও ক্রোধে ফেটে পড়ল। নবীকে তারা উপদেশ বাণী শোনাতে নিষেধ করল। বলল, ‘আমাদের কাজ আজাবের কারণ হয়ে থাকলে আজাব দেখান।’ লুত (আ.) বুঝলেন, তাদের ধৃষ্টতা চরমে পৌঁছে গেছে। তারা ইমান আনবে না। সৎ পথে ফিরে আসবে না। অবশ্য এর মধ্যে গুটি কয়েকজন ইমান এনেছিল। আল্লাহ বলেন, ‘জবাবে তার (লুত আ.-এর) সম্প্রদায় শুধু এই বলল, আমাদের ওপর আল্লাহর শাস্তি আনয়ন করো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা, এই দুষ্কৃতকারী লোকদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করুন।’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ২৯)
আল্লাহ তাআলা লুত (আ.)-এর দোয়া কবুল করলেন। আজাবের জন্য ফেরেশতাদের পাঠালেন। ফেরেশতারা প্রথমে ইবরাহিম (আ.)-এর কাছে গেলেন। তাঁকে জানালেন, আপনার জন্য দুটি খবর নিয়ে এসেছি। এক. আপনার সন্তান জন্ম নেবে। দুই. লুতের সম্প্রদায়ের প্রতি আজাব নিয়ে যাচ্ছি। প্রথম খবরে তিনি যারপরনাই খুশি হলেন। দ্বিতীয় খবরে তিনি ভড়কে গেলেন। বললেন, সেখানে তো লুতও আছে। তারা বললেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। লুত ও তাঁর অনুসারীদের কিছু হবে না। শুধু অবিশ্বাসী পাপীরা ধ্বংস হবে।’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ৩১-৩২; তাফসিরে মাআরিফুল কোরআন, মাওলানা মুহাম্মাদ ইদরিস কান্ধলভি, অনুবাদ: মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুল হালীম, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ২৭৭)
ফেরেশতারা ইবরাহিম (আ.)-এর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সাদুমে এলেন। এখানে লুত (আ.)-এর মেহমান হলেন তারা। তিনি তাঁদের দেখে আশঙ্কা করলেন, জাতির লোকেরা এদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে পারে। কারণ তাঁরা আকারে এবং গঠনে সুশ্রী ও সুন্দর ছিলেন। বয়সে ছিলেন তরুণ-যুবাদের আকৃতিতে। লুত নবীর ঘরে কয়েকজন সুশ্রী বালক অতিথি হয়েছে শুনে দুরাচারী লম্পটরা বাড়ির সামনে ভিড় করল। কোনো কোনো ব্যাখ্যাবিদ বলেন, লুত (আ.)-এর পরিবারের লোক ছাড়া কেউ বালকদের কথা জানত না। কিন্তু তাঁর স্ত্রী গ্রামের লোকদের জানিয়ে দিলো। সে নবীর সঙ্গে খেয়ানত করল। তবে সে কদর্য কিংবা অশ্লীল কাজে জড়িত ছিল না। (তাফসিরে ইবনে কাসির, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ২৭২; তাফসিরে মাআরিফুল কোরআন, মাওলানা মুহাম্মাদ ইদরিস কান্ধলভি, অনুবাদ: মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুল হালীম, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ২৭৭)
সমকামী লোকদের ভয়ে লুত (আ.) ঘরের খিল লাগিয়ে দিলেন। ভেতর থেকে তিনি বাইরের লোকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তাদের নানাভাবে বুঝাতে লাগলেন। মেহমানের দোহাই দিলেন। মেয়েদের বিয়ে করতে বললেন। তারা জানিয়ে দিল, মেয়েদের ব্যাপারে তাদের কোনো গরজ নেই। তারা দরজা ভাঙতে উদ্যত হলো। আল্লাহ বলেন, ‘তাঁর জাতির লোকেরা হুড়মুড় করে তার কাছে ছুটে এলো, আগে থেকেই তারা এ রকম অসৎ কাজে অভ্যস্ত ছিল। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়, এই আমার (নিজের বা জাতির) মেয়েরা আছে, তারা তোমাদের জন্য অধিক পবিত্র (যদি তোমরা বিয়ে কর), কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আমার মেহমানদের ব্যাপারে আমাকে লজ্জিত করো না, তোমাদের মধ্যে কি ভালো মানুষ একটিও নেই? তারা বলল, তোমার তো জানাই আছে যে, তোমার (নিজের বা জাতির) মেয়েদের আমাদের কোনো দরকার নেই, আমরা কী চাই তাতো তুমি অবশ্যই জান।’ (সুরা হুদ, আয়াত: ৭৮-৭৯)
এদিকে লম্পটরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে তোড়জোড় শুরু করে দিলো। এ অবস্থা দেখে লুত (আ.) প্রচণ্ড অস্থির হয়ে পড়লেন। যুবকরা তাঁকে ডেকে বললেন, আপনি ভয় পাবেন না। আমরা ফেরেশতা। তারা আমাদের কিছুই করতে পারবে না। আমরা তাদের আজাব দিতে এসেছি।
জিবরাইল (আ.) বললেন, আপনি দরজা খুলে দিন। তিন দরজা খুলে দিলেন। জিবরাইল বাইরে বেরিয়ে এসে তাদের মুখের ওপর এত প্রবল জোড়ে নিজের ডানা ঝাপটে মারলেন যে, তাদের চোখগুলো ফেটে গেল। সবাই অন্ধ হয়ে গেল। নিজেদের প্রমাদ গুনে পালাতে পালাতে বলল, লুতের মেহমানরা জাদুকর। (তাফসিরে কুরতুবি, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৮৮)
জিবরাইল লুত (আ.)-কে জানালেন, কিছুটা রাত থাকতে বিশ্বাসীদের নিয়ে নগরী ছাড়তে হবে। যাওয়ার সময় পেছনে তাকাতে না করলেন। নবীর স্ত্রীর বিষয়ে বললেন, সে কাফের। সে কাফেরদের সঙ্গে ধ্বংস হবে। তাদের পরিচয় পেয়ে লুত (আ.)-এর অস্থিরতা দূর হলো। স্বস্তি ফিরে পেলেন। লুত (আ.) জিবরাইলকে জিজ্ঞেস করলেন, কখন আজাব নেমে আসবে। জানালেন, ভোরবেলা। ভোরবেলা আজাব দেওয়ার কারণ হলো, এর মধ্যে লুত (আ.) পূর্ণ প্রশান্তির সঙ্গে জনপদ ছেড়ে বের হয়ে যাবেন। লোকেরা সবাই বাসা-বাড়িতে থাকবে। এ সময় কেউ তো আর বাইরে থাকে না। (তাফসিরে মাআরিফুল কোরআন, মাওলানা মুহাম্মাদ ইদরিস কান্ধলভি, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ আল ফারুক, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৩৫৮)
লুত (আ.) বিশ্বাসীদের নিয়ে প্রশান্তির সঙ্গে জনপদ ছেড়ে বের হয়ে গেলেন। পথে আজাবের আওয়াজ শুনে তাঁর স্ত্রী থেমে গেল। সে ধ্বংস হলো। জিবরাইল (আ.) জনপদটিকে মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন করে কাঠের টুকরার মতো নিজের বাহুর ওপর তুলে নিলেন। অনেক উুঁচতে নিয়ে জনপদকে উল্টে ফেললেন। ওপরকে নিচ ও নিচকে ওপর করে দিলেন। তাদের ওপর ক্রমাগত কাঁকর-পাথর বর্ষণ হলো। প্রতিটি পাথরের ওপর সিলমোহর বা নিশানা ছিল যে, এই পাথরের আঘাতে অমুক কাফের ধ্বংস হবে। কেউ কেউ বলেছেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিটি পাথরের ওপর সেই কাফেরের নাম লেখা ছিল, যার ওপর পাথরটি পড়বে। সেই পাথরগুলো পৃথিবীর পাথরের থেকে পুরোপুরি আলাদা ছিল। (তাফসিরে ইবনে কাসির, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪৫৫; তাফসিরু জাদিল মুয়াসসির, পৃষ্ঠা: ১৪৬)
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারপর আমার নির্দেশ যখন এসে গেল, তখন আমি সেই জনপদকে ওপর নিচ করে উল্টে দিলাম, আর তাদের ওপর স্তরে স্তরে পাকানো মাটির প্রস্তর বর্ষণ করলাম। যে প্রস্তর খণ্ডের প্রতিটিই তোমার প্রতিপালকের কাছে চিহ্নিত ছিল। জালিমদের জন্য এ শাস্তি বেশি দূরের ব্যাপার নয়।’ (সুরা হুদ, আয়াত: ৮২-৮৩)
লুত (আ.)-এর জাতির ওপর আল্লাহর এই গজবের ফলে এখানে সমুদ্রের সূচনা হয়। কারণ, জনপদগুলো উল্টে দেওয়া হয়েছিল। তখন থেকেই এখানে পানি বেরিয়ে আসে। এর আগে এখানে কোনো সমুদ্রের অস্তিত্ব ছিল না। এই সাগরকে মৃত সাগর বা ডেড সি বলা হয়। (কাসাসুল আম্বিয়া, আবদুল ওয়াহহাব নাজ্জার, পৃষ্ঠা: ১১৩)
ডেড সি জর্ডানে অবস্থিত। সমুদ্রটি সর্বসাকুল্যে ৫০ মাইল দীর্ঘ ও ১১ মাইল প্রস্থ। তার পৃষ্ঠের মূল আয়তন ৩৫০ বর্গমাইল। সবচেয়ে বেশি গভীরতা হলো ১৩০০ ফুট। বড় কোনো সমুদ্রের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। এতে মাছ বা অন্য কোনো প্রাণী জীবিত থাকে না। এর পানি দিয়ে কোনো উদ্ভিদ গজায় না। জর্ডান বা অন্য কোনো নদীর পানি এ সমুদ্রে এসে পড়লেও কখনো মাছও এসে পড়ে। কিন্তু মাছগুলো সমুদ্রের পানিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মারা যায়। (ব্রিটানিকা, মাইক্রোপিডিয়া (প্রকাশিত ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দ), খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৫২৫, কলাম: ২)
মৃত সাগরের এই এলাকাটি পৃথিবীর সবচেয়ে নিচু এলাকা। মৃত সাগরের পৃষ্ঠ সাধারণ সাগরগুলোর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৩০০ ফুট নিচে। গোটা পৃথিবীতে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এত নিচু কোনো এলাকা নেই। (দেশ-দেশান্তর, মুফতি মুহাম্মাদ তকি উসামনি, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ আল ফারুক, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৫৮)


