logo

স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরলে ও চুমু দিলে কি রোজা ভাঙবে

স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরলে ও চুমু দিলে কি রোজা ভাঙবে

তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জনের মাধ্যম রোজা। তাকওয়ার পথে বাধা তৈরি করে; রোজা রেখে এ ধরনের কাজ করা যাবে না। রোজা অবস্থায় সব ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেশার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। রোজা রেখে স্ত্রীকে চুমু খাওয়া বা জড়িয়ে ধরতে অসুবিধা নেই, এতে রোজা ভাঙবে না। তবে গোসল ফরজ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে রোজা ভেঙে যাবে। 

রাসুলুল্লাহ (সা.) রোজা রেখে তাঁর স্ত্রীদের চুমু খেয়েছেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রোজা রেখে স্ত্রীকে চুমু খেতেন। স্ত্রীর সঙ্গে আলিঙ্গন করতেন। তিনি ছিলেন যৌনাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে সক্ষম ব্যক্তি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯২৭) 

ইমাম নববি (রহ.) বলেন, ‘এখানে গা লাগানো বলতে উদ্দেশ্য হলো হাত দিয়ে ছোঁয়া। শব্দটা এসেছে চামড়ার সঙ্গে চামড়ার স্পর্শকরণ থেকে।’

আরেক হাদিসে আছে, আয়েশা (রা.) বলেন, ‘মহানবী (সা.) চুম্বুনের জন্য আমার কাছে ঝুঁকে এলে বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমি তো রোজাদার।’ তিনি বললেন, ‘আমিও রোজাদার।’ আয়েশা (রা.) বলেন, ‘এরপর তিনি ঝুঁকে এসে আমাকে চুম্বন করলেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১০৭)

স্ত্রীকে চুমু খেলে কারও যদি গোসল ফরজ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরির শঙ্কা হয়, তাহলে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরা বা চুমু খাওয়া মাকরুহ। বিশেষ করে যুবকদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) বলেন, ‘আমরা নবী (সা.)-এর কাছে বসা ছিলাম। তখন এক যুবক এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমি কি রোজা রেখে চুমু খেতে পারি?’ তিনি বললেন, ‘না।’ এরপর এক বৃদ্ধ এসে একই প্রশ্ন করলেন। তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ আমরা তখন অবাক হয়ে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিলাম। নবী (সা.) বললেন, ‘আমি জানি, তোমরা কেন একে অপরের দিকে তাকাচ্ছ। শোনো, বৃদ্ধ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।’ (মুসনাদে আহমদ, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৮০ ও ২৫০)

শায়খ আব্দুল আজিজ ইবনে বাজ (রহ.)-কে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘পুরুষ যদি রমজান মাসে দিনের বেলা স্ত্রীকে চুম্বন করে বা তাকে আদর-সোহাগ করে, তাহলে কি রোজা নষ্ট হবে?’ তিনি বললেন, ‘একজন পুরুষের জন্য রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করা, আদর-সোহাগ করা, সহবাস ছাড়া স্পর্শ করা—এ সবকিছুই বৈধ। এগুলোতে সমস্যা নেই।’

রোজা অবস্থায় স্ত্রী সঙ্গম নিষেধ। এতে রোজা ভেঙে যায়। কাফফারা আবশ্যক হয়। ইসলামি স্কলাররা বলেন, স্ত্রীকে চুমো খাওয়া বা জড়িয়ে ধরার কারণে যদি গোসল ফরজ হয়ে যায়, তবে দিনের বাকি অংশ কিছু না খেয়ে রোজাদারের মতোই কাটাতে হবে। পরে সেই রোজার কাজা করতে হবে। কাফফারা দিতে হবে না। (আল-মুগনি, খণ্ড : ৪, পৃষ্ঠা: ৩৬১)