তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত, নিয়ম ও ফজিলত

আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম নফল ইবাদত তাহাজ্জুদ নামাজ। তাহাজ্জুদ অর্থ রাত জাগা। রাতের দ্বিপ্রহরের পর ঘুম থেকে জেগে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে নামাজ আদায় করা হয়, তাই তাহাজ্জুদ নামাজ। মর্যাদা ও ফজিলতের দিক থেকে ফরজ নামাজের পরই এর অবস্থান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের পর সর্বশ্রেষ্ঠ রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। ফরজ নামাজের পর সর্বশ্রেষ্ঠ নামাজ হলো রাতের (তাহাজ্জুদ) নামাজ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬৩)
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তেন নবীজি (সা.)। তিনি জীবনে কখনো তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া থেকে বিরত হননি। আল্লাহ তাআলা নবীজি (সা.)-কে তাহাজ্জুদ পড়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘হে চাদরে আবৃত (ব্যক্তি), রাতে নামাজে দাঁড়াও, তবে (রাতের) কিছু অংশ ছাড়া, রাতের অর্ধেক (সময় দাঁড়াও) কিংবা তার থেকে কিছুটা কম করো, অথবা তার চেয়ে বাড়াও, আর ধীরে ধীরে সুস্পষ্টভাবে কোরআন পাঠ করো।’ (সুরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত : ১-৪)
তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য বিশেষ কোনো নিয়ত নেই। আরবিতে নিয়ত করার বাধ্যবাধকতাও নেই। মনের ইচ্ছায় নিয়ত। কেউ যখন তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার জন্য দাঁড়াবে, তার স্মরণে থাকবে সে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ছে, এটাই তার নিয়ত।
তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম তাহাজ্জুদ নামাজ নফল ইবাদত। এটি আদায় করা আবশ্যকীয় নয়। এ নামাজ পড়া নেককার ও উত্তম বান্দাদের বৈশিষ্ট্য। এতে আছে অগণিত সওয়াব। এ নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া যায়।
সাধারণত সাহরির সময়ই হলো তাহাজ্জুদের সময়। সাহরির সময় শেষ হওয়ার আগেই তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে হয়। এ নামাজ পড়া হয় দুই রাকাত করে। নামাজের জন্য আলাদা নিয়ম নেই। অন্যান্য নামাজের মতোই এ নামাজ পড়তে হয়। এর জন্য আলাদা কোনো সুরা নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) লম্বা কিরাত দিয়ে তাহাজ্জুদ পড়তেন। সে হিসেবে লম্বা কিরাত পড়া উত্তম। দুই রাকাত করে যত ইচ্ছা নামাজ পড়া যাবে। শুধু দুই রাকাতও পড়া যাবে। নির্দিষ্ট কোনো রাকাতসংখ্যা নেই।
তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়কারীর প্রতি আল্লাহর রহমত নাজিল হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ ওই ব্যক্তির ওপর রহমত নাজিল করেন, যে রাতে নিদ্রা থেকে জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে এবং তার স্ত্রীকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে দেয়। এরপর সে (তার স্ত্রী) তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন। এমনকি যদি সে (স্ত্রী) ঘুম থেকে জেগে উঠতে না চায়, তাহলে তার মুখে পানির ছিটা দাও।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৩০৮)
তাহাজ্জুদ নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। এতে মানুষের গোনাহ মাফ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কিয়ামুল লাইলের (তাহাজ্জুদ নামাজ) প্রতি যত্নবান হও। কেননা তা তোমাদের আগের নেককারদের অভ্যাস এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ মাধ্যম। আর তা পাপরাশী মোচনকারী এবং গোনাহ থেকে বাধা দানকারী।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৫৪৯)