logo

জুমার দিনের যে আমলে মাফ হয় ৮০ বছরের গুনাহ

জুমার দিনের যে আমলে মাফ হয় ৮০ বছরের গুনাহ
রাঙ্গামাটির পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত সুসজ্জিত ও দৃষ্টিনন্দন দারুস সালাম জামে মসজিদ। ছবি: বাসস

জুমা শব্দের অর্থ এক জায়গায় জড়ো হওয়া বা কাতারবদ্ধ হওয়া। শুক্রবার মসজিদে জোহরের চার রাকাতের পরিবর্তে কাতারবদ্ধ হয়ে দুই রাকাতের যে ফরজ নামাজ আদায় করা হয়, ইসলামের পরিভাষায় সেটিই সালাতুল জুমা বা জুমার নামাজ।

জুমার দিন যেসব ইবাদত ও আমল করা হয়, সপ্তাহের অন্যান্য দিনে সাধারণত তা করা হয় না। এই ব্যতিক্রম মুসলিমকে আনন্দ দেয়। ইবাদতে প্রাণ সঞ্চার করে। জুমার দিন পেয়ে আনন্দিত হওয়া সওয়াব। এটি সুন্নতও। কারণ এ দিনের গুরুত্ব অনেক। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ দিনে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। বিশেষ আমল করতেন।

মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন জুমার দিন। এটি আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে এ দিনে। এ দিনই কেয়ামত সংঘটিত হবে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪)

এ দিনের সবচেয়ে বড় আমল জোহর নামাজের পরিবর্তে জুমার নামাজ আদায় করা। জুমার নামাজের গুরুত্ব বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। কেনাবেচা ছেড়ে দাও, এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে!’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)

এ ছাড়াও জুমার দিনের অনেক ফজিলতপূর্ণ আমল আছে। মহানবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়া জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল। দরুদ পাঠকারীর ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে দশটি রহমত নাজিল হয়। ব্যক্তির দশটি গুনাহ মাফ হয়। দরুদ পাঠকারী ও তার বাবার নাম মহানবীর কাছে পৌঁছানো হয়।

এমন একটি দরুদ আছে, যা জুমার দিন পড়লে পাঠকারীর ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হয়। ৮০ বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে জুমার দিন আসর নামাজের পর ওই জায়গায় বসা অবস্থায় ৮০ বার একটি দরুদ পাঠ করবে, তার ৮০ বছরের গোনাহ ক্ষমা হয়, ৮০ বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হয়।’ (আফদালুস সালাওয়াত: ২৬)

দরুদটি হলো-

اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِهِ وَسَلِّم تَسْلِيْمَا

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিইয়িল উম্মিইয়ি, ওয়া আলা আলিহি, ওয়া সাল্লিম তাসলিমা।

অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি উম্মি নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর বংশধরদের ওপর দরুদ ও পরিপূর্ণ সালাম প্রেরণ করুন।