শবেবরাতে যেসব কাজ করবেন না

শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত শবেবরাত। সে হিসেবে আজ শবেবরাত। শবেবরাত মানে মুক্তির রাত। জাহান্নাম থেকে মুক্তির রাত। এ রাতে বান্দার গুনাহ মাফ করা হয়। অভাবীকে রিজিক দেওয়া হয়। বিপন্মুক্ত করা হয় বিপদগ্রস্তকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন মধ্য শাবানের রাত আসে তখন তোমরা এ রাতে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো এবং এর দিনে রোজা রাখো। কেননা এ দিন সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর আল্লাহ পৃথিবীর নিকটতম আকাশে নেমে এসে বলেন, কে আছ আমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তাকে ক্ষমা করব। কে আছ রিজিকপ্রার্থী, আমি তাকে রিজিক দেব। কে আছ রোগমুক্তি প্রার্থনাকারী, আমি তাকে নিরাময় দান করব। কে আছ এই প্রার্থনাকারী। ফজরের সময় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত (তিনি এভাবে আহ্বান করেন)।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৩৮৮)
শবেবরাতে যেসব কাজ করবেন না
- আতশবাজি, পটকা ইত্যাদি ফোটানো
- হালুয়া-রুটির আয়োজন বা খাবার বিলানো
- মসজিদ, মাদ্রাসা, ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে আলোকসজ্জা করা
- অপচয় করা
- বিধর্মীদের সঙ্গে মিলে যায়, এমন কাজ না করা
- ইবাদত বাদ দিয়ে ঘোরাফেরা করা
- অন্য কারও ইবাদতে বা ঘুমে বিঘ্ন ঘটানো
- গর্হিত ও অশ্লীল কাজ করা
- কোনো ইবাদতকে নির্দিষ্ট মনে করা
- ইবাদত মনে করে খাসি জবাই করা
- দলবেঁধে কবরস্থানে যাওয়া
- আল্লাহর নাফরমানিমূলক কাজ করা যাবে না
শবেবরাতের ফজিলত
আল্লাহ তাআলা এ রাতে তাঁর বান্দাদের ক্ষমা করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে (শবেবরাত) তাঁর সৃষ্টির প্রতি মনযোগী হন। মুশরিক (আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্তকারী) ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান হাদিস, হাদিস : ৫৬৬৫)
আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণকারী কোনো মুসলমান এ রাতে আমল থেকে বিরত থাকতে পারে না। এ রাতে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি মনযোগী হন এবং কাফের-মুশরিক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘এক রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজে দাঁড়ালেন। দীর্ঘ কেরাত আর এত দীর্ঘ সিজদায় ছিলেন যে, তাঁর জীবনের ওপর আমার শঙ্কা হলো! তখন আমি উঠে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়ালাম, তাঁর আঙ্গুলগুলোও নড়ল। আমি নিশ্চিত হলাম। যখন রাসুল নামাজ শেষ করে বললেন, হে আয়েশা, তোমার কি এই আশঙ্কা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসুল তোমার হক (অধিকার) নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না। হে রাসুল, আপনার দীর্ঘ সিজদা থেকে আমার আশঙ্কা হয়েছিল আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কিনা। নবীজি (সা.) বলবেন, তুমি কি জান এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তিনি তখন বললেন, এটা হলো অর্ধ শাবানের রাত। (শাবানের ১৪ তারিখের দিবাগত রাত)। আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে তার বান্দাদের প্রতি মনযোগ দেন, ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহপ্রার্থীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।’ (শুয়াবুল ইমান, ৩/৩৮২-৩৮৩)