রোজা রেখে চুল, নখ বা শরীরের অবাঞ্ছিত লোম কাটা যাবে?

পবিত্রতা ও রুচিবোধের অংশ হিসেবে প্রায় সবাই চুল, নখ বা শরীরের অবাঞ্ছিত লোম কাটেন। কেউ কেউ এক সপ্তাহ পর পর কাটেন। কেউ হয়তো আরেকটু বেশি সময় পর কাটেন। রমজানে রোজা রেখেও চুল, নখ বা শরীরের অবাঞ্ছিত লোম কাটতে হয়। এসব কাটতে গিয়ে কেউ দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন, এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে কি না। সঠিক মাসয়ালাটি জেনে নেওয়া যাক :
রোজা রেখে চুল, হাত-পায়ের নখ বা শরীরের অবাঞ্ছিত লোম কাটা যাবে। এতে রোজা ভাঙবে না। রোজা ভঙ্গের সঙ্গে চুল, নখ ও অবাঞ্ছিত লোম কাটার কোনো সম্পর্ক নেই। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস: ৭৪৬৮)
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘রোজা রেখে চুল, হাত-পায়ের নখ বা শরীরের অবাঞ্ছিত লোম কাটা যাবে। এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।’
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি সর্বাধিক জোর দিয়েছে ইসলাম। ইসলামে দৈহিক পরিচ্ছন্নতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৈহিক পরিচ্ছন্নতার যে শিষ্টাচারগুলো রয়েছে, হাদিসে সেগুলোকে ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত এবং মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘স্বভাবজাত কাজ দশটি। গোঁফ খাটো করা, দাড়ি লম্বা করা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দেওয়া, নখ কাটা, হাত ও পায়ের আঙুলের গিরা ধোয়া, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নাভির নিচের লোম মুণ্ডানো, প্রস্রাব করা এবং কুলি করা।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ, পৃষ্ঠা: ৪৪)
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, শরীরের কিছু নির্দিষ্ট অংশের লোম পরিষ্কার করা সুন্নত। মহানবী (সা.) আমাদের শরীর পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নখ কাটা, বগলের লোম পরিষ্কার করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা ও গোফ ছোট করার জন্য চল্লিশ দিনের বেশি সময় নেওয়া মাকরুহ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮)
যেসব কারণে রোজা ভাঙে না, এখানে সেগুলো উল্লেখ করা হলো—
- অনিচ্ছাকৃত গলার ভেতর ধুলাবালি, ধোঁয়া অথবা মশা-মাছি প্রবেশ করা।
- অনিচ্ছাকৃত কানে পানি প্রবেশ করা।
- অনিচ্ছাকৃত বমি আসা অথবা ইচ্ছাকৃত অল্প পরিমাণ বমি করা (মুখ ভরে নয়)।
- বমি আসার পর নিজে নিজেই ফিরে যাওয়া।
- চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করা।
- ইনজেকশন নেওয়া।
- ভুলক্রমে পানাহার করা।
- সুগন্ধি ব্যবহার করা বা অন্য কিছুর ঘ্রাণ নেওয়া।
- নিজ মুখের থুতু, কফ ইত্যাদি গলাধঃকরণ করা।
- শরীর ও মাথায় তেল ব্যবহার করা।
- ঠান্ডার জন্য গোসল করা।
- দিনের বেলায় ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হওয়া।
- মিসওয়াক করা।
- স্ত্রীলোকের দিকে তাকানোর কারণে বীর্যপাত হলে।
- দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা গোশত বা যে কোনো খাবার খেয়ে ফেললে রোজা ভাঙবে না, যদি তা ছোলার দানার চেয়ে কম পরিমাণ হয়। যদি কম হওয়ার পরও মুখ থেকে বের করে পুনরায় গিলে ফেলে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। পরিমাণ বেশি হলে রোজা ভেঙে যাবে।