logo

অর্থ বুঝে কোরআন পড়া জরুরি কেন

অর্থ বুঝে কোরআন পড়া জরুরি কেন

কোরআন আল্লাহর কালাম বা কথা। বান্দাদের কাছে পাঠানো আল্লাহ তাআলার বিশেষবার্তা। মানুষের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। কোরআনের বিধান, আদেশ-নিষেধ জীবনে প্রয়োগের জন্য কোরআন ভালোভাবে উপলব্ধি করতে হবে। অর্থ ও বিধান বুঝে কোরআন পড়তে হবে। কোরআন নিয়ে গবেষণা করতে হবে। আল্লাহ কোরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা, গবেষণা ও চর্চা করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন, অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘এরা কি লক্ষ করে না কোরআনের প্রতি? পক্ষান্তরে এটা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে এতে অবশ্যই বহু বৈপরীত্য দেখতে পেত।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৮২)

কোরআনের কোনো আয়াত পাঠ করার সময় এর ভাব মনে লালন করা এবং এর আবেদন রক্ষা করা ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অন্যতম সুন্নত। হুজাইফা (রা.) বলেন, ‘এক রাতে আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে নামাজ আদায় করছিলাম। তিনি সুরা বাকারা শুরু করলেন, আমি মনে করলাম সম্ভবত ১০০ আয়াত পড়ে রুকু করবেন। কিন্তু তিনি তা শেষ করে আরও সামনে পড়তে লাগলেন। তখন আমি ভাবলাম, তিনি সুরা বাকারা দিয়ে নামাজ পূর্ণ করবেন। কিন্তু তিনি সুরা নিসা শুরু করলেন এবং তা পড়া শেষ করে আলে ইমরান শুরু করে তাও শেষ করলেন। তিনি ধীরস্থিরতার সঙ্গে পড়ে যাচ্ছিলেন। যখন তাসবিহযুক্ত কোনো আয়াতে উপনীত হতেন, তখন তাসবিহ (সুবহানআল্লাহ) পাঠ করতেন। যখন প্রার্থনার কোনো আয়াতে উপনীত হতেন, তখন প্রার্থনা করে নিতেন। আর যখন (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় গ্রহণের আয়াতে পৌঁছতেন, তখন (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় চাইতেন। তারপর রুকু করলেন...।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৭২) 

কোরআন বুঝে পড়া সওয়াবের কাজ। কোরআন বুঝে পড়লে অন্তরে আল্লাহর ভয়, ভালোবাসা ও আল্লাহকে পাওয়ার বাসনা তীব্রভাবে জাগ্রত হয়। আবু মুসা ইবনে আবু আয়েশা (রহ.) বলেন, ‘এক ব্যক্তি ঘরের ছাদে নামাজ পড়ছিলেন। কেরাতে যখন এ আয়াত পাঠ করছিল, (উচ্চারণ) ‘আ লাইসা জালিকা বিকাদিরিনা আলা আই ইউহ ই য়াল মাওতা’; (অর্থ) তবুও কি সেই আল্লাহ মৃতদের জীবিত করতে সক্ষম নন? (সুরা কিয়ামা, আয়াত: ৪০)। তখন সে বলল, হে আল্লাহ, আপনি পবিত্র। এরপর সে কাঁদল। লোকেরা এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলল, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে এমনটি শুনেছি।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৮৮৩)

জাবের (রা.) বলেন, ‘একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) বের হয়ে সাহাবিদের কাছে এলেন। তাদের কাছে তিনি সুরা রহমান শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তেলাওয়াত করলেন। তারা সবাই চুপ করে শুনলেন। তিনি শেষে বললেন, ‘জিন-রাতেও আমি এই সুরা জিনদের তেলাওয়াত করে শুনিয়ে ছিলাম। তোমাদের তুলনায় তারা বেশি জবাব দিয়েছিল। যখনই আমি (উচ্চারণ) ফাবি আইয়ি আলা ই রব্বিকুমা তুকাজ জিবান; (অর্থ) সুতরাং তোমরা উভয় সম্প্রদায় তোমাদের রবের কোন কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?) এ আয়াত তেলাওয়াত করতাম। তখনই তার বলত, (উচ্চারণ) লা বিশাইয়িম মিন নি আমিকা রাব্বানা নুকাজজিবু ফালাকাল হামদু; (অর্থ)  আপনার নেয়ামতের কোনো কিছুই আমরা অস্বীকার করি না হে আমাদের প্রভু, সব প্রশংসা তো আপনারই।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩২৯১)

প্রতিটি মুমিন-মুসলমানের উচিত, অর্থ বুঝে কোরআন তেলাওয়াত করা। কোন আয়াতে আল্লাহ কী বলেছেন, তা বোঝা ও অনুধাবন করা। সর্বোপরি কোরআনের বিধান জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। 

 

কোরআন তেলাওয়াত করা স্বতন্ত্র ইবাদত। অর্থ না বুঝে শুধু তেলাওয়াত করলেও সওয়াব পাওয়া যায়। উসমান (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে কোরআনের একটি অক্ষর পড়বে, সে একটি সওয়াব পাবে। প্রতিটি সওয়াব দশগুণ করে বৃদ্ধি করে দেওয়া হবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৯১০) 

কোরআনের অর্থ ও মর্ম বোঝার গুরুত্ব আলাদা। যারা কোরআন নিয়ে চিন্তা বা গবেষণা করে না এবং পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে দেয়, তাদের বিরুদ্ধে রাসুলুল্লাহ (সা.) কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে অভিযোগ দেবেন। কোরআনে আছে, ‘সেদিন রাসুল (সা.) বলবেন, হে আমার রব, আমার জাতি কোরআনকে পরিত্যক্ত করে রেখেছিল।’ (সুরা ফুরকার, আয়াত: ৩০)। তাই অর্থ বুঝে কোরআন পড়া জরুরি। এতে কোরআনকে ধারণ করা যাবে। আল্লাহর আদেশ ভালোভাবে পালন করা যাবে। জীবনকে ইসলামের আলোয় সাজানো যাবে।