জুমাবারে যে আমল করলে ১০ দিনের গুনাহ ক্ষমা হয়

জুমার দিন যেসব ইবাদত ও আমল করা হয়, সপ্তাহের অন্যান্য দিনে সাধারণত তা করা হয় না। এই ব্যতিক্রম মুসলমানদের আনন্দ দেয়। ইবাদতে প্রাণ সঞ্চার করে। জুমার দিন পেয়ে আনন্দিত হওয়া সওয়াব। এটি সুন্নতও। কারণ, এ দিনের গুরুত্ব অনেক। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ দিনকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। বিশেষ আমল করতেন।
জুমার দিন সপ্তাহের সেরা দিন। এ দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিনও বলা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন দিবস সমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০৮৪)
এ দিনের অন্যতম আমল জুমার নামাজ পড়া। জুমার নামাজের গুরুত্ব বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ, জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। কেনাবেচা ছেড়ে দাও, এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে!’ (সুরা জুমা, আয়াত : ৯)
জুমার দিনের বেশ কিছু আমল আছে। এ আমলগুলো হজরত মুহাম্মদ (সা.) করেছেন। তিনি সাহাবিদের করার জন্য আদেশ দিয়েছেন। এ আমলগুলোর করার দ্বারা ব্যক্তির আমলনামা সওয়াবে ভরপুর হয়। ব্যক্তি জান্নাতে যাওয়ার সুযোগ লাভে ধন্য হয়। তার কথা জানতে পারে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। আমলকারী বাঁচতে পারে দাজ্জালের ফেতনা থেকে।
জুমার দিনের খুব সহজ একটা আমল আছে, যা করলে ব্যক্তির দশ দিনের গুনাহ মাফ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে জুমার দিন গোসল করে আতর ব্যবহারের পর ভালো পোশাক পরে নামাজের উদ্দেশে বের হয়, (মসজিদে গিয়ে একসঙ্গে থাকা) দুজনের মাঝে গিয়ে না বসে মনোযোগের সঙ্গে ইমামের খুতবা শোনে, ওই ব্যক্তির এক জুমা থেকে আরেক জুমা এবং অতিরিক্ত আরও তিন দিনের (দশ দিন) গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৮৫৭)
এ ছাড়া জুমার দিনের আরও কিছু আমল আছে। যথা—নখ কাটা, গায়ের অবাঞ্চিত লোম পরিষ্কার করা। ভালোভাবে গোসল করা। উত্তম পোশাক পরা। সম্ভব হলে সুগন্ধি ব্যবহার করা। সবার আগে মসজিদে যাওয়া। জুমার নামাজ আদায় করা। দোয়া করা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়া। সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা।


