logo
Advertisement

নামাজে চোখ খোলা নাকি বন্ধ রাখা উত্তম

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
নামাজে চোখ খোলা নাকি বন্ধ রাখা উত্তম
জামাতে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। ছবি: ইসলামিক রিলিফ অস্ট্রেলিয়া

নামাজে খুশু-খুজুর গুরুত্ব অনেক। খুশু-খুজু নামাজের প্রাণ। খুশু-খুজু হলো নামাজে পূর্ণ একাগ্রতা ও মনোযোগ। এর সঙ্গে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রাখা। পবিত্র কোরআনে অনেক আয়াতে ‘ইকামাতে সালাত’ বা নামাজ কায়েমের নির্দেশ রয়েছে। যার অর্থ হচ্ছে নামাজকে তার যাবতীয় হকসহ আদায় করা। রুকু-সেজদা পূর্ণরূপে আদায় করা, কোরআন তেলাওয়াত সুন্দরভাবে করা এবং খুশু-খুজুর সঙ্গে নামাজ পড়া। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যখন উত্তমরূপে অজু করে এরপর দুই রাকাত নামাজ এমনভাবে আদায় করে যে, তার চেহারা ও অন্তর বা দেহ-মন পূর্ণ আল্লাহ-অভিমুখী থাকে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩৪)

নামাজে আল্লাহর সামনে বিনম্রভাবে দাঁড়ানো এবং সর্বোচ্চ একাগ্রতার সঙ্গে ইবাদত করা জরুরি। এর জন্য অনেক মুসল্লি বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকেন। কেউ কেউ চোখ বন্ধ রেখে মনোযোগ আনতে চান। নামাজে চোখ খোলা রাখা হবে নাকি বন্ধ করা হবে, এ বিষয়টি জানা অত্যন্ত জরুরি।

ফিকাহশাস্ত্রের মূলনীতি অনুসারে, নামাজে চোখ খোলা রাখাই উত্তম। নামাজে চোখ খোলা রাখা হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নতও। কারণ, তিনি নামাজের সময় সেজদার স্থানের দিকে দৃষ্টি রাখতেন। (সুনানে বায়হাকি, হাদিস: ৩০৮০)

যদি মুসল্লি চোখ খোলা রেখেও তার একাগ্রতা ও মনোযোগ পুরোপুরি ধরে রাখতে পারেন, তাহলে এই অবস্থায় সবচেয়ে উত্তম।

অধিকাংশ আলেম চোখ খোলা রাখাকে পছন্দনীয় আমল বলেছেন। কারণ এটি নবীজির আমল। ইবরাহিম নাখয়ি (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি দৃষ্টি সেজদার স্থান অতিক্রম করে না যাওয়া পছন্দ করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা: ৬৫৬৩)

মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি নামাজে চোখ বন্ধ করে রাখা অপছন্দ করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা: ৬৫৬৫)

মুসল্লির পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে চোখ বন্ধ করা শুধু জায়েজ নয়, বরং উত্তম হওয়ার কাছাকাছি চলে আসে।

নামাজে চোখ বন্ধ করে রাখলে যদি মুসল্লির মন বিক্ষিপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা পায়, তার দুশ্চিন্তা দূর হয় এবং নামাজে তাড়াতাড়ি আল্লাহর প্রতি মনোনিবেশ করতে সহায়ক হয়, তবে তিনি চোখ বন্ধ করে রাখতে পারেন। এই অবস্থায় তার জন্য চোখ বন্ধ করা অধিক উপযোগী।

নামাজ আদায়ের স্থানে যদি এমন কোনো জিনিস, নকশা, ছবি কারুকার্য থাকে, যা মুসল্লি মনোযোগে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি করে, তাহলে চোখ বন্ধ করে নামাজ আদায় করা মাকরুহ নয়, বরং এটি পছন্দনীয় হতে পারে। কিন্তু নিয়মিত চোখ বন্ধ রেখে নামাজ পড়া মাকরুহ। (আলবাহরুর রায়েক, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৫; আদ্দুররুল মুখতার, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৬৪৫)

ইমাম ইবনুল কাইয়ুম জাওজি (রহ.) বলেন, যদি চোখ খোলা রাখলে খুশুতে ব্যাঘাত ঘটে, তবে এমন অবস্থায় চোখ বন্ধ করা অপছন্দনীয় বলার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। (আল-হাদি আল-নাবাওয়ি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩০৫)

মূলকথা, নামাজে চোখ খোলা রাখা এবং সেজদার স্থানের দিকে তাকানো সুন্নাহ ও উত্তম। তবে যদি চোখ খোলা রাখার কারণে খুশু বা মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে, চোখ বন্ধ রাখলে খুশু-খুজু পাওয়া যায়, তাহলে বন্ধ রাখাই উত্তম।