মক্কা ও মদিনার যেসব জায়গায় দোয়া কবুল হয়

সৌদি আরবের দুটি প্রসিদ্ধ শহর মক্কা ও মদিনা। এই দুই শহরের প্রধান আকর্ষণ কাবাঘর ও মসজিদে নববি। এই দুই শহর যেমন ইতিহাসের কেন্দ্র, তেমনি এখানে আছে দোয়া কবুলের বিশেষ জায়গা। এখানে এমন কিছু নির্দিষ্ট জায়গা আছে, যেখানে দোয়া করলে দোয়া কবুলের বেশি সম্ভাবনা রয়েছে।
মসজিদুল হারাম: মসজিদুল হারাম পৃথিবীর প্রথম ঘর। এ ঘরকে কেন্দ্র করে পৃথিবী নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে এক রাকাত নামাজ অন্য যে কোনো মসজিদের এক লাখ রাকাতের সমান। এখানে দোয়া করলে তা কবুলের বেশি সম্ভাবনা রয়েছে।
তাওয়াফের সময়: কাবাঘরকে ঘিরে তাওয়াফ করতে হয়। তাওয়াফ করার সময় দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়। রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে হজরত মুহাম্মদ (সা.) দোয়া করতেন। তিনি দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ চেয়ে দোয়া করেছেন।
রিয়াজুল জান্নাহ: মদিনায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা ও মিম্বরের মাঝের অংশকে রিয়াজুল জান্নাহ বা জান্নাতের বাগান বলা হয়। রিয়াজুল জান্নাহ এবং মসজিদে নববিতে দোয়া কবুল হয়।
মুলতাজাম: মুলতাজাম হলো কাবা শরিফের দরজা ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী অংশ। নবী (সা.) এখানে বুক ও মুখ লাগিয়ে দোয়া করেছেন। সাহাবিরাও এখানে দোয়া করাকে গুরুত্ব দিতেন।
সাফা ও মারওয়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) সাফা পাহাড়ে উঠে কাবার দিকে মুখ করে দীর্ঘ দোয়া করতেন।
উস্তুওয়ানা হান্নানা (সুবাস স্তম্ভ): মসজিদে নববির ডান পাশে খেজুরগাছের গুঁড়ির স্থানে নির্মিত স্তম্ভের নাম উস্তুওয়ানা হান্নানা বা সুবাস স্তম্ভ। এখানে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা আছে।
উস্তুওয়ানা সারির: এখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইতেকাফ করতেন এবং রাতে আরামের জন্য তাঁর বিছানা এখানে স্থাপন করা হতো। স্তম্ভটি হুজরা শরিফের পশ্চিম পাশে জালি মোবারকের সঙ্গে রয়েছে।
উস্তুওয়ানা উফুদ: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে দেখা করার জন্য বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিনিধিদল আসতেন। আগত প্রতিনিধদল এখানে বসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ইসলাম গ্রহণ করতেন এবং এখানে বসেই কথা বলতেন। এ স্তম্ভটিও জালি মোবারকের সঙ্গে রয়েছে।
আরাফার দিন: হজের মূল রুকন হলো আরাফার ময়দানে অবস্থান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া।
উস্তুওয়ানা আবু লুবাবা (তওবা স্তম্ভ): একটি ভুল করার পর হজরত আবু লুবাবা (রা.) নিজেকে এই স্তম্ভের সঙ্গে বেঁধেছিলেন। দীর্ঘ ৫০ দিন পর তার তওবা কবুল হয়। এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ হাতে তার বাঁধন খুলে দিলেন। এটি রওজায়ে জান্নাতের ভেতর অবস্থিত।


