logo

রমজানজুড়ে যেসব আমল করবেন

রমজানজুড়ে যেসব আমল করবেন

আমলের স্বর্ণপ্রহর পবিত্র রমজান মাস। ইবাদতের বসন্ত মৌসুম। মুসলিম মাত্রই পবিত্র এই মাসের আগমনে আমল-ইবাদতের প্রতি আগ্রহী হন এবং বছরের অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি আমল-ইবাদতে মনোযোগী থাকেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমান সহকারে ইখলাসের সঙ্গে রমজানের রোজা রাখে এবং ইবাদত করে, তার অতীতের পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৮)

হাদিসে আছে, ‘যে এ মাসে কোনো ভালো কাজ করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য কামনা করে, সে অন্য মাসে কোনো ফরজ কাজ করার সমান সওয়াব লাভ করবে। আর এ মাসে কোনো ব্যক্তি যদি একটি ফরজ কাজ করে, সে অন্য সময়ে ৭০টি ফরজ আদায়ের নেকি লাভ করবে।’ 

প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানের উচিত রমজান মাসে বেশি বেশি আমল-ইবাদতে মনোযোগী হওয়া। রমজান মাসে যেসব আমল বেশি করা যায়, সেগুলো হলো—

  • রোজা রাখা। ইসলামের পাঁচটি রুকনের অন্যতম একটি রুকন রোজা। রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। 
  • সময়মতো নামাজ আদায় করা। রোজা রাখার সঙ্গে সঙ্গে সময়মতো নামাজ আদায় করার মাধ্যমে জান্নাতে যাওয়ার পথ সুগম হয়। 
  • বিশুদ্ধভাবে কোরআন শেখা ও তেলাওয়াত করা। রমজান মাসেই পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। এ মাসের অন্যতম আমল হলো বিশুদ্ধভাবে কোরআন শেখা ও তেলাওয়াত করা। 
  • সাহরি খাওয়া। সাহরি খাওয়ার মধ্যে বরকত রয়েছে এবং রোজা পালনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। 
  • ইফতার করা ও করানো। রমজান মাসে ইফতার করা ও করানো ফজিলতপূর্ণ আমল। 
  • তারাবি নামাজ পড়া। তারাবি নামাজ পড়া এ মাসের অন্যতম আমল। 
  • তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া। রমজান মাসে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার মধ্যে অনেক সওয়াব ও মর্যাদা রয়েছে। যেহেতু সাহরি খাওয়ার জন্য উঠতে হয়, সে জন্য রমজান মাসে  তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করার বিশেষ সুযোগও রয়েছে। 
  • বেশি বেশি দান-সদকা করা। এ মাসে বেশি বেশি দান-সদকা করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। 
  • সামর্থ থাকলে উমরা পালন করা। এ মাসে উমরা করলে একটি হজ আদায়ের সমান সওয়াব পাওয়া যায়। 
  • তওবা ও ইসতেগফার করা। এ মাসে তওবা করার উত্তম সময়।
  • ইতেকাফ করা। রমজানের শেষ দশ দিন ইতেকাফ করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। 
  • লাইলাতুল কদরকে কদর বা সম্মান করা। লাইলাতুল কদর তালাশ করা এবং এই রাতে ইবাদত করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। 
  • সদকাতুল ফিতরা দেওয়া। রমজান মাসের রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতি পূরণের জন্য ফিতরা দেওয়া আবশ্যক। 
  • আল্লাহর জিকির করা। 
  • কল্যাণকর কাজ করা। 
  • মিসওয়াক করা। 
  • মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা। 
  • তাকওয়া অর্জন করা। 

 

রোজাদারের সুন্নত আমল
রোজা রেখে এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যার ফলে মানুষ কষ্ট পায়। রোজাদারের উচিত, সব সুন্নত আমল স্বযত্নে অনুসরণ করা। রোজাদারের সুন্নত আমলগুলো হচ্ছে—

  • রোজাদারকে কেউ গালি দিলে অথবা তার সঙ্গে ঝগড়া করলে এর বিনিময়ে ভালো ব্যবহার করে বলবে, ‘আমি রোজাদার’। 
  • রোজাদারের জন্য সাহরি খাওয়া সুন্নত। সাহরির মধ্যে বরকত আছে। 
  • তাড়াতাড়ি ইফতার করা সুন্নত; আর দেরিতে সাহরি খাওয়া সুন্নত। 
  • কাঁচা খেজুর দিয়ে ইফতার করা; কাঁচা খেজুর না পেলে শুকনো খেজুর দিয়ে; শুকনো খেজুরও না পেলে পানি দিয়ে ইফতার করা সুন্নত। 
  • রোজাদারের বেশি বেশি দোয়া করা মুস্তাহাব।