ভুলে ভাড়া না দিয়ে বাস থেকে নেমে গেলে কী করবেন

রাস্তায় চলাচলের সময় আমাদেরকে প্রায়ই বাসে বা পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াত করতে হয়। চলাফেরার পথে কেউ হয়তো কখনো বাসের ভাড়া দিতে ভুলে যান। পরে মনে হলে ভাড়া পরিশোধে আন্তরিক হন। কিন্তু ঢাকা শহর বা অন্যান্য জেলা শহরে চলাচলকারী একই নামের অনেক বাস থাকে। ভুলে যে বাসের ভাড়া দেওয়া হয়নি, সে বাসটি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
সৎ ও মুমিন ব্যক্তি মাত্রই অন্যের অধিকার আদায়ে সচেতন থাকেন। তিনি ভাড়া না দিতে পেরে অস্বস্তিতে ভোগেন। কেউ এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে তার জন্য সঠিক মাসয়ালা জেনে নেওয়া দরকার।
ইসলামি শরিয়া মতে, বাসটি কোনো কোম্পানির হলে ভাড়ার সমপরিমাণ ওই কোম্পানির টিকিট কেটে ছিঁড়ে ফেলতে হবে। সেই টিকিটে ভ্রমণ করা যাবে না। বাসটি কোম্পানির না হলে যথাসম্ভব নির্দিষ্ট বাসটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে হবে। চেষ্টা করেও যদি বাসের হদিস না পাওয়া যায় বা নির্দিষ্ট বাসটি চেনা না যায়, তাহলে ওই টাকা বাস কর্তৃপক্ষের মূল মালিকের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে। এটাও সম্ভব না হলে বাস মালিকের নামে কোনো গরিব বা মিসকিনকে সদকা করে দিতে হবে।
সদকা করার পর কখনও যদি ওই বাসটি খুঁজে পাওয়া যায়, তখন কর্তৃপক্ষের কাছে সদকার বিষয়টি জানিয়ে তাদের অনুমতি বা সম্মতি নিতে হবে। কর্তৃপক্ষ সদকার বিষয়ে অনুমতি না দিলে তার প্রাপ্য তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে।
এ ছাড়াও এমন কাজের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে হবে।
ইচ্ছাকৃতভাবে কখনও এমন করা যাবে না। কারও অধিকার নষ্ট করা মারাত্মক গুনাহ। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না এবং মানুষের ধন-সম্পত্তির কিছু অংশ জেনে-বুঝে অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে বিচারকদের কাছে পেশ করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৮)
আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমানতকে তার মালিকের কাছে প্রত্যার্পণ করো বা ফেরত দাও।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৫৮)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্ভ্রমহানি বা অন্য কোনো বিষয়ে জুলুমের জন্য দায়ী থাকে, সে যেন আজই তার কাছ থেকে মাফ করিয়ে নেয়, সে দিন আসার আগে যে দিন তার কোনো দিনার বা দিরহাম থাকবে না। (সেদিন) যদি তার নেক আমল থাকে, তাহলে তা থেকে জুলুম পরিমাণ নেক আমল নিয়ে নেওয়া হবে (তা হকদারকে প্রদান করা হবে)। আর যদি তার কোনো সওয়াব না থাকে, তাহলে তার প্রতিপক্ষের গুনাহগুলো থেকে (জুলুম পরিমাণ গুনাহ) নেওয়া হবে এবং তার আমলনামায় দিয়ে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪৪৯)
আখেরাতে অর্থ-সম্পদ দিয়ে লেনদেন করার সুযোগ নেই, সেখানে নেক আমল দিয়ে তা পরিশোধ করতে হবে।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘কোনো কোম্পানির বাস হলে ওই কোম্পানির বাসের টিকিট কেটে ছিঁড়ে ফেলে দিতে হবে। কোম্পানির বাস হলে যথাসম্ভব খুঁজে বের করে টাকা পরিশোধ করতে হবে। সেটিও সম্ভব না হলে তাদের পক্ষ থেকে সদকা করে দিতে হবে।’
