logo
Advertisement

যে সুরা পড়লে ১০ বার পূর্ণ কোরআন পড়ার সওয়াব পাওয়া যায়

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
যে সুরা পড়লে ১০ বার পূর্ণ কোরআন পড়ার সওয়াব পাওয়া যায়
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করছেন এক শিশু। ছবি: পিন্টারেস্ট

সুরা ইয়াসিন পবিত্র কোরআনের ৩৬তম সুরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। এর আয়াত সংখ্যা ৮৩। সুরা ইয়াসিনে আল্লাহর জন্য ইবাদত, জাহান্নামিদের পরস্পরকে দোষারোপ, অবিশ্বাসীদের পরিণতি, নবীদের প্রতি অবিশ্বাসীদের উপহাস, আল্লাহর অস্তিত্ব, কাঠমিস্ত্রি হাবিব নাজ্জারের ঘটনা ও উপদেশ, আরশের নিচে পৌঁছে আল্লাহকে সূর্যের সেজদা ও কিয়ামতের ভয়াবহতা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এ সুরা পড়ার অনেক ফজিলত রয়েছে। এর অন্যতম এক ফজিলত হলো, এটি পড়লে দশবার পূর্ণ কোরআন খতম করার সওয়াব পাওয়া যায়।

কোরআনের হৃদয় সুরা ইয়াসিন

প্রতিটি বস্তুর একটি হৃদয় আছে। কোরআনের হৃদয় হলো সুরা ইয়াসিন। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিটি বস্তুর একটি হৃদয় আছে। কোরআনের হৃদয় ইয়াসিন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮৮৭)

ইমাম গাজ্জালি (রহ.) বলেন, ‘সুরা ইয়াসিনকে কোরআনের হৃদয় বলার কারণ হলো, এ সুরায় কেয়ামত ও হাশর বিষয়ের ব্যাখ্যা অলঙ্কারপূর্ণ ভাষায় বর্ণিত হয়েছে। পরকালের বিশ্বাস ইমানের এমন একটি মূলনীতি, যার ওপর মানুষের সব আমল ও আচরণের শুদ্ধতা নির্ভরশীল।’ (তাফসিরে রুহুল মাআনি)

সুরা ইয়াসিন পড়ার ফজিলত

সুরা ইয়াসিন পাঠের বহু ফজিলত রয়েছে। একবার সুরা ইয়াসিন পড়লে দশবার পূর্ণ কোরআন খতম করার সওয়াব পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ইয়াসিন পড়বে, আল্লাহ তার আমলনামায় দশবার পূর্ণ কোরআন পড়ার সওয়াব দান করবেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮৮৭)

সুরা ইয়াসিন পাঠে প্রয়োজন পূরণ হয়

মানুষের জীবনে চাহিদা বা প্রয়োজনের শেষ নেই। জীবন বদল এবং সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনে প্রয়োজনের ধরনও পরিবর্তন হয়। সুরা ইয়াসিন পড়লে প্রয়োজন পূরণ হয়। হজরত আতা বিন আবি রাবাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দিনের বেলায় সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে, তার সব প্রয়োজন পূর্ণ করা হবে।’

সকাল-সন্ধ্যায় শান্তিতে থাকা যায়

মানুষ হিসেবে প্রায় সবাই শান্তি চায়। স্বস্তিতে থাকতে চায়। এই শান্তির জন্য আমরা কত কিছু করি। তবুও যেন অনেকের জীবনের শান্তি ধরা দেয় না। স্বস্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। সুরা ইয়াসিন এমন একটি সুরা, যে সুরা পাঠে জীবনে শান্তি আসে। হজরত ইয়াহইয়া ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘যে সকালে সুরা ইয়াসিন পাঠ করবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত সুখে-স্বস্তিতে থাকবে। যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে সে সকাল পর্যন্ত শান্তিতে থাকবে।’

সুরা ইয়াসিন পবিত্র কোরআনের ৩৬তম সুরা। সুরা ইয়াসিনের প্রথম পৃষ্ঠা। ছবি: এডোবি স্টক
সুরা ইয়াসিন পবিত্র কোরআনের ৩৬তম সুরা। সুরা ইয়াসিনের প্রথম পৃষ্ঠা। ছবি: এডোবি স্টক

গোনাহ মাফের সুরা

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাতে সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে, আল্লাহ তার ওই রাতের সব গোনাহ মাফ করে দেবেন।’

মৃত্যু যন্ত্রণা কমিয়ে দেয়

মৃত ব্যক্তির কাছে সুরা ইয়াসিন পড়লে তার মৃত্যুর যন্ত্রণা সহজ করে দেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মৃত ব্যক্তির কাছে সুরা ইয়াসিন পড়ো, এটি তার জন্য (মৃত্যুর যন্ত্রণা) সহজ করে দেয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৪৪৮)

সুরা ইয়াসিন পড়ার নিয়ম

সুরা ইয়াসিন পড়ার ধরাবাধা কোনো নিয়ম নেই। যেকোনা সময় পড়া যায়। সকালে বা সন্ধ্যায় নিয়মিত পড়া উত্তম। অনেকে ফজরের পর পড়াকে বেশি উত্তম মনে করেন। দেশের অনেক কওমি মাদ্রাসায় সকালে তোড়জোড়ের সঙ্গে সুরা ইয়াসিন পড়া হয়।

সুরা ইয়াসিন পড়ার ফজিলতবিষয়ক যেসব হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে হাদিসবিশারদদের নানা মতামত রয়েছে। তারা কয়েকটি হাদিসকে দুর্বল বলেছেন। তবে দুর্বল হাদিসের ওপর আমল করতে অসুবিধে নয় বলে জানিয়েছন আলেমরা।