logo

কুকুর লালন-পালন কি জায়েজ

কুকুর লালন-পালন কি জায়েজ

বর্তমান সময়ে বিলাসী মানুষ খুব যত্ন নিয়ে কুকুর লালন-পালন করেন। কুকুরের পেছনে লাখো টাকা খরচ করেন তারা। তাদের অনেকে কুকুরপ্রীতি প্রকাশে শুধু খরচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না; মানুষের চেয়েও কুকুরের প্রতি তার ভালোবাসা, স্নেহ বেশি মাত্রায় প্রকাশ করেন। কুকুর লালন-পালন ও এর সম্পর্কে ইসলামে রয়েছে বিভিন্ন নির্দেশনা। 

কুকুর পোষা কি জায়েজ
শরয়ি অনুমোদিত প্রয়োজন ছাড়া কুকুর পোষা জায়েজ নেই। শখ করে ঘরে কুকুর রাখা, মানুষের চেয়ে কুকুরের বেশি যত্ন নেওয়া, কুকুরের সঙ্গে মানবীয় সম্পর্ক স্থাপন করা—ইসলামে নিষিদ্ধ। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শিকার করা বা গবাদি পশু পাহারা অথবা শস্যক্ষেত পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর লালন-পালন করে, প্রতিদিন ওই ব্যক্তির দুই কিরাত পরিমাণ সওয়াব কমে যায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৭৫)

হাদিসে আছে, এক কিরাত হলো, উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৪৬৫০) 

কুকুর পোষা নিষিদ্ধের আরেকটি কারণ হলো, কুকুর মেহমান দেখলে উৎপাত করে, ভিক্ষুককে ভয় দেখায় এবং পথচারীকে কষ্ট দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জিবরাইল (আ.) আমার কাছে এসে বললেন, গত রাতে আমি আপনার কাছে এসেছিলাম। এরপর (আপনার) ঘরে প্রবেশের ক্ষেত্রে আমার একমাত্র অন্তরায় ছিল দরজায় থাকা কিছু ছবি, ঘরে বিদ্যমান ছবিযুক্ত একটি পর্দা এবং ঘরে অবস্থানরত একটি কুকুর।...আর কুকুরটিকে (ঘর থেকে) বের করে দেওয়ার হুকুম দিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) জিবরাইলের (আ.) উপদেশ মতো কাজ করলেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪১৫৮) 

ঘরে কুকুর রাখা যাবে?
শখ করে ঘরে কুকুর রাখা যাবে না। ঘরে কুকুর থাকলে সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ঘরে কুকুর আছে, সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৫২৫) 

কখন কুকুর পোষা বৈধ
শিকার করা, ফসল ও ছাগল-ভেড়া ইত্যাদির সংরক্ষণ, ঘরবাড়ি, দোকান ও অফিস পাহারার জন্য, অপরাধের উৎস সন্ধান ও অপরাধীকে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে কুকুর লালন-পালনে কোনো অসুবিধে নেই। 

মালিকি মাজহাবের অনুসারীরা বলেন, কুকুর পালনের নিষেধাজ্ঞাটি মাকরুহ পর্যায়ের, হারাম নয়। হারাম হলে কুকুর পালন সবসময় নিষেধ হতো। (হালাল-হারামের বিধান, ড. ইউসুফ আল কারজাভি, অনুবাদ: আসাদুল্লাহ ‍ফুয়াদ, পৃষ্ঠা: ২২৪) 

ইমাম ইবনুল হুমাম হানাফি (রহ.) বলেন, ‘পশুপালের পাহারা কিংবা শিকার করা অথবা খেত পাহারার জন্য কুকুর পালন করা সর্বসম্মতিক্রমে জায়েজ। তবে চোর-ডাকাতের ভয় না থাকলে (অর্থাৎ স্বাভাবিক অবস্থায়) তা ঘরে রাখা উচিত নয়।’ 

আল্লামা তাহতাবি হানাফি (রহ.) স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘কুকুর পালন করা হারাম। তবে পশুপালের পাহারা বা শিকার করা অথবা খেত পাহারার জন্য জায়েজ।’ (ফাতহুল কাদির, খণ্ড: ৭, পৃষ্ঠা: ১১৮-১১৯; রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ২২৭)

কুকুরের শরীর কি নাপাক
হানাফি মতাদর্শের অনুসারীদের মতে, কুকুরের শরীর নাপাক নয়। কুকুর কারও শরীর বা কাপড় স্পর্শ করলে তা নাপাক হবে না। তবে কুকুরের লালা নাপাক। কুকুর মুখ দিয়ে কারও জামা টেনে ধরলে যদি কাপড়ে লালা লেগে যায়, তবে কাপড় নাপাক হয়ে যাবে; অন্যথায় নাপাক হবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কারও পাত্রে কুকুর মুখ দেবে, সে যেন পাত্রটি সাতবার পানি দিয়ে এবং একবার মাটি দিয়ে ধুয়ে ফেলে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪৮)

 

কুকুরের সঙ্গে আচরণ কেমন হবে
কুকুরের প্রতি কঠোর আচরণ করা যাবে না। কুকুরকে হত্যা করা যাবে না। কুকুরকে সমাজ থেকে বিলুপ্তির উদ্যোগ নেওয়া গোনাহের কাজ। তার প্রতি দয়া দেখাতে হবে। প্রাণীর প্রতি দয়া দেখানো সওয়াবের কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি কুকুরগুলো (আল্লাহর সৃষ্ট) অন্যান্য জাতির মতোই একটি জাতি না হতো, তাহলে আমি এগুলোকে হত্যার নির্দেশ দিতাম।’ (সুনানে আবুদ দাউদ, হাদিস : ৪১৫৮)