সাহরি খাওয়ার ফজিলত ও নিয়ম

সাহরি শব্দটি এসেছে আরবি সাহর থেকে। সাহর অর্থ রাতের শেষাংশ বা ভোররাত। সাহরি অর্থ শেষ রাতের খাবার বা ভোরের খাবার। রোজা রাখার জন্য শেষ রাতে পানাহার করাকে সাহরি বলা হয়।
রোজা রাখার জন্য সাহরি খাওয়া সুন্নত। ইসলামের দৃষ্টিতে তা সুন্নত হলেও প্রকৃত তাকওয়া অর্জন এবং আধ্যাত্মিক উন্নয়নের জন্য এর গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাও, নিশ্চয় সাহরি খাওয়ার মধ্যে বরকত আছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯২৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘আমাদের (মুসলমানদের) রোজা আর আহলে কিতাবের (ইহুদি-খ্রিস্টান) রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি খাওয়া আর না-খাওয়া।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০৯৬)
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাও; যদি তা এক ঢোক পানিও হয়।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৩৪৭৬)।
এক সাহাবির সূত্র ধরে আব্দুল্লাহ বিন হারেস বলেন, ‘আমি রাসুলের কাছে হাজির হলাম, তিনি সাহরি খাচ্ছিলেন। রাসুল বললেন, নিশ্চয় তা বরকতস্বরূপ, আল্লাহ বিশেষভাবে তা তোমাদেরকে দান করেছেন, সুতরাং তোমরা তা ত্যাগ করো না।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ২১৬২)
বিলম্বে সাহরি খাওয়া উত্তম
জায়েদ বিন সাবেত (রা.) বলেন, ‘আমরা রাসুলের সঙ্গে সাহরি খেলাম। এরপর তিনি নামাজে দাঁড়ালেন। আমি বললাম, সাহরি ও আজানের মধ্যবর্তী সময়ের স্থায়িত্ব কতটা?’ তিনি বললেন, ‘পঞ্চাশ আয়াত তেলাওয়াত পরিমাণ দীর্ঘ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯২১)
এখানে আয়াত বলতে মধ্যম ধরনের আয়াত বোঝানো হয়েছে। আর এই শ্রেণির ৫০টি আয়াত পড়তে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। সুতরাং সাহরির শেষ সময় বা রোজা শুরুর সময় হলো সুবেহ সাদিক উদিত হওয়া বা ফজরের আজান শুরু হওয়া। ফজরের আজান শুরু হওয়ার পর আর সাহরি গ্রহণ করা ঠিক নয়। উত্তম হলো, আজান শুরু হওয়ার আগেই পানাহার শেষ করা।
সাহরি খাওয়ার ফজিলত ও নিয়ম
রোজার জন্য সাহরি খাওয়া সুন্নত ও সওয়াবের কাজ। মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাবে, এতে অনেক বরকত আছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯২৩)
- পেট পুরে সাহরি খাওয়া জরুরি নয়, দুই বা এক লোকমা অথবা খেজুরের টুকরা কিংবা দু’চার দানা খেলেও যথেষ্ট। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৩৪৫)
- সুবহে সাদিকের আগে রাতের শেষভাগে সাহরি খাওয়া মুস্তাহাব। (আলমুজামুল আওসাত, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৫২৬)
- যদি সাহরি খেতে বিলম্ব হয়ে যায় এবং প্রবল ধারণা হয় যে, ভোর হওয়ার পর কিছু পানাহার করেছে, তবে এ অবস্থায় সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার ত্যাগ করা এবং পরে ওই রোজা কাজা করা ওয়াজিব।
সাহরির জরুরি কিছু মাসআলা
- কোনো কারণে সাহরি খাওয়া সম্ভব না হলেও রোজা রাখতে হবে, কোনো প্রকার বাহানা বা ওজর (প্রয়োজন) রোজা ছাড়ার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। ইচ্ছাকৃতভাবে সাহরি বর্জন করা সুন্নতের পরিপন্থি।
- পেটে ক্ষুধা না থাকলে দু-একটি খেজুর খেয়ে নেওয়া উত্তম অথবা অন্য কোনো জিনিস খেয়ে নেবে। (হেদায়া, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৮৬)
- বিলম্বে সাহরি খাওয়া উত্তম। আগে খাওয়া হয়ে গেলে শেষ সময়ে কিছু চা, পানি, পান ইত্যাদি খেলেও সাহরির ফজিলত অর্জিত হবে। (হেদায়া, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৮৬)
- সন্দেহ হয়, এমন সময় সাহরি খাওয়া মাকরুহ। (ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২০১)
- সঠিক ক্যালেন্ডারে সুবহে সাদিকের যে সময় দেওয়া থাকে, তার দু-চার মিনিট আগে খানা বন্ধ করে দেওয়া ভালো। (আপকে মাসায়েল, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ২০১)